মেক্সিকো সিটি: অবশেষে বিগত চার বছর ধরে ফুটবলপ্রেমীরা যেই দিনটার অপেক্ষায় ছিলেন, সেই দিনটা এসেই গেল। শুরু হয়ে গেল ২০২৬ সালের ফুটবল বিশ্বকাপ (FIFA World Cup 2026)। ২০১০ সালের প্রথম ম্যাচের পুনরাবৃত্তি ঘটে এ বার। সেই বিশ্বকাপের প্রথম ম্যাচেই মুখোমুখি হয়েছিল মেক্সিকো আর দক্ষিণ আফ্রিকা, পার্থক্য শুধু আয়োজকের। ১৬ বছরের ব্যবধানে রামধনুর দেশের থেকে এবার আয়োজক হয়েছে মেক্সিকো।
বিশ্বকাপের এই প্রথম ম্যাচই কিন্তু বেশ ঘটনাবহুল ছিল, আর সেই ম্যাচে দক্ষিণ আফ্রিকাকে ২-০ গোলে হারিয়ে ম্যাচ জিতল মেক্সিকো। তবে এদিন গোলসংখ্যাকে ছাপিয়ে যায় লাল কার্ডের সংখ্যা। দক্ষিণ আফ্রিকার দুই এবং মেক্সিকোর এক, মোট তিনজন এদিন লাল কার্ড দেখেন। এই প্রথম কোনও বিশ্বকাপের প্রথম ম্যাচে এতজন লাল কার্ড দেখলেন। তুলনায় গত বিশ্বকাপের ৬৪টি ম্যাচে মোট চারটি লাল কার্ড দেখানো হয়েছিল। সেখানে এখানে এক ম্যাচেই তিনটি লাল কার্ড দেখানো হল।
ম্যাচের কথা বলতে গেলে এদিন ঘরের মাঠে ঠাসা মেক্সিকো সিটি স্টেডিয়ামে শুরুটা দুরন্তভাবে করেছিল মেক্সিকো। ম্যাচের মাত্র পাঁচ মিনিটের মাথায় রাউল হিমেনেজ়ের শট দারুণভাবে প্রতিহত করেন প্রোটিয়া গোলরক্ষক রনেন। তবে প্রথম গোল আসতে খুব বেশি সময় লাগেনি। ডিফেন্স থেকে মুভ তৈরি করার চেষ্টাতেই ভুল হয়। রনেনের বাড়ানো বল শিথোলে দখলে আনতে ব্যর্থ হন। এরিক লিরা বল দখলে এনে তা হুলিয়ান কিউনুনেসকে বাড়িয়ে দেন এবং তিনি জালে বল জড়িয়ে এই বিশ্বকাপের প্রথম গোলটি করেন। সৌদি প্রো-লিগের সর্বোচ্চ গোলাদাতা গোটা ম্যাচ জুড়েই নিজের পারফরম্যান্সে নজর কাড়েন।
আরও পড়ুন:- জমাট রক্ষণ আর ভয়ঙ্কর আক্রমণের যুগলবন্দি, বিশ্বকাপের ফেভারিট ফ্রান্সের কি আদৌ কোনও দুর্বলতা আছে?
প্রথমার্ধে হিমেনেজ় এবং কিউনুনেস অল্পের জন্য মেক্সিকোর হয়ে ব্যবধান বাড়াতে ব্যর্থ হন। দক্ষিণ আফ্রিকা গোটা প্রথমার্ধেই চাপে থাকলেও, মাত্র এক গোলে প্রথমার্ধ শেষ করায় ম্যাচে ফেরার কিন্তু যথেষ্ট সম্ভাবনা ছিল, তবে দ্বিতীয়ার্ধ শুরুর পর পরেই সেই আশা অনেকটাই কমে যায়। গোলের দিকে এগিয়ে যাওয়া হিমেনেজ়কে পেনাল্টি বক্সের ধারে ফাউল করে লাল কার্ড দেখেন শিথোলে। ম্যাচের ঘণ্টাখানেকের মাথায় মেক্সিকোর হয়ে মাঠে নামে ওয়ান্ডারকিড জিলবার্তো মোরা। মাত্র ১৭ বছর বয়সে বিশ্বকাপে মাঠে নেমে মেক্সিকোর হয়ে ইতিহাস গড়ে সে।
প্রথম ঘণ্টার পরপরই মেক্সিকো অবশেষে নিজেদের লিড বাড়ায়, সৌজন্যে দলের সেই দুই তারকা ফরোয়ার্ড। কিউনুনেসের বাড়ানো বল থেকেই রবার্তো আলভারাদো এক অসাধারণ ক্রস বাড়ান যা দুরন্ত হেডারে জালে জড়িয়ে দেন মেক্সিকোর মেগাস্টার হিমেনেজ়।
এতক্ষণে ম্যাচের ভাগ্য নির্ধারিত হয়েই গিয়েছিল। তবে ঘটনাবহুল ম্যাচে ঘটনার ঘনঘটা এখানেই শেষ হয়নি। ম্যাচের শেষের আগে পরিবর্ত হিসাবে নামা থেম্বা জ়ানে দ্বিতীয় দক্ষিণ আফ্রিকান খেলোয়াড় হিসাবে এদিন লাল কার্ড দেখেন। ম্যাচের শেষ মুহূর্তে মেক্সিকোর সেজ়ার মন্টেজ়ের লাল কার্ড উচ্ছ্বসিত মেক্সিকো সমর্থকদের মুড খানিকটা খারাপ করে। তবে এল তেরিরা এই জয় দিয়ে বিশ্বকাপের শুরুটা দুরন্তভাবেই করল।
Chess Grandmaster | পশ্চিমবঙ্গের দাবার মুকুটে যোগ হল নতুন পালক, দেশের ৯৫তম গ্র্যান্ডমাস্টার হলেন কলকাতার আরণ্যক ঘোষ
