সন্দীপ সরকার, গৌতম মণ্ডল ও সৌমিত্র রায়, কলকাতা: রোগ থাকুক বা না থাকুক, যেতেই হবে ‘সেবাশ্রয়’-এ। না গেলে অন্যান্য সুযোগ-সুবিধা মিলবে না, কেটে দেওয়া হবে জল, বিদ্যুতের লাইন। হুঁশিয়ারি দিয়েছিল জাহাঙ্গির খানের সাঙ্গোপাঙ্গরা। অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের ‘সেবাশ্রয়’ নিয়ে এমনই চাঞ্চল্যকর অভিযোগ করলেন শিবিরে যাওয়া এলাকার বাসিন্দারা।
রোগ না থাকলেও, যেতে হত সেবাশ্রয়’-এ!
শুক্রবার FIR দায়ের হয়েছে ডায়মন্ডহারবার থানায়। শনিবার স্বাস্থ্য দফতরর জানিয়েছে, ‘সেবাশ্রয়’ নিয়ে তদন্তে নামছে তারাও। আর রবিবার বিষ্ণুপুর থানায় রুজু হল আরও একটি FIR। সব মিলিয়ে জোড়া FIR-এর পাশাপাশি, স্বাস্থ্য দফতরের আতস কাচের নীচে ‘সেবাশ্রয়’। আরও বিপাকে, অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। দক্ষিণ ২৪ পরগনার হরিণডাঙার বাসিন্দা শ্যামল হালদার বলছেন, ‘রোগ থাকুক না থাকুক ক্যাম্পে ডাক্তার দেখাতেই হবে। জারি হয়েছিল ফতোয়া।’ অন্যদিকে, দক্ষিণ ২৪ পরগনার ফলতার বাসিন্দা পদ্মা সর্দার বলছেন, ‘২ টো শিবিরে দেখিয়েছি। আজও চশমা পাইনি’।
কারও মাথার যন্ত্রণার চিকিৎসা করিয়ে বেড়েছে মাথা ঘোরা! কারও ওষুধ খেয়ে উপশমের বদলে হয়েছে উল্টো ফল! কিন্তু কেউই এতদিন মুখ খুলতে পারেননি। অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের সেবাশ্রয় ক্যাম্প নিয়ে বিজেপি নেতা অভিজিৎ দাস ওরফে ববি পুলিশে অভিযোগ দায়ের করার পরই মুখ খুলতে শুরু করেছেন স্থানীয় বাসিন্দারা। রোগ থাকুক বা না থাকুক ক্যাম্পে ডাক্তার দেখাতেই হবে। সেবাশ্রয় ঘিরে, এলাকায় কার্যত এরকমই হুঁশিয়ারি দিয়েছিল জাহাঙ্গির-বাহিনী। চাঞ্চল্যকর দাবি করেছেন, হরিণডাঙা এলাকার বাসিন্দা শ্যামল হালদার।
মোবাইল ফোন দেখে চিকিৎসা হত ‘সেবাশ্রয়’-এ?
দক্ষিণ ২৪ পরগনার হরিণডাঙার বাসিন্দা শ্যামল হালদার বলছেন, ‘সেবাশ্রয় ক্যাম্পে যাওয়া বাধ্যতামূলক ছিল। বাড়ি বাড়ি এসে হুমকি দিয়ে বলে গিয়েছিল যেতেই হবে ক্যাম্পে। না গেলে অন্যান্য সুযোগ-সুবিধা মিলবে না। জলের, বিদ্যুতের লাইন কেটে দেওয়া হবে। মারধর তো ছিলই। রীতিমতো ভয়ের বাতাবরণ তৈরি করেছিল জাহাঙ্গীরের চ্যালাচামুন্ডারা’। শুধু তাই নয়, অভিযোগ উঠেছে, ‘সেবাশ্রয়’ ক্যাম্পে মোবাইল ফোন দেখে করা হচ্ছিল রোগীর চিকিৎসা। ফলতার বাসিন্দা মঞ্জু মাকাল, বুক ধড়ফড় করার সমস্যা নিয়ে গিয়েছিলেন সেবাশ্রয়ে। মহিলার দাবি, শিবিরে গিয়ে বলতেই মোবাইল ফোন দেখে দেখে ৬-৭ পাতার প্রেসক্রিপশন লিখে দেন চিকিৎসক।
ফলতার হরিণডাঙার বাসিন্দা, অঞ্জলি শিকদার। স্বামী নয়ন্ত শিকদার। প্রথম সেবাশ্রয় শিবিরে চোখ দেখিয়েছিলেন মহিলা। হার্টের সমস্যা থাকায় স্বামীর কয়েকটি রক্ত পরীক্ষা হয়। মহিলার অভিযোগ, তাঁর চশমা বা স্বামীর রক্ত পরীক্ষার রিপোর্ট কিছুই আসেনি। অঞ্জলি শিকদার বলছেন, ‘আজ অবধি সেই চশমা বাড়ি আসেনি। রিপোর্টও আজ অব্দি আসেনি।’ শুধু স্থানীয় বাসিন্দারা নন, অভিযোগ করেছে জেলার নার্সিংহোম ও নার্স অ্যাসোসিয়েশনও। অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতির দাবি, লাইসেন্স আটকে যাওয়ার ভয়ে, হাসপাতাল খালি করে ক্যাম্পে দিতে হয়েছিল বেড থেকে চিকিৎসা-সরঞ্জাম। সাধারণ মানুষকে চিকিৎসা পরিষেবা দেওয়ার কথা বলে শুরু হয়েছিল যে ‘সেবাশ্রয়’, সেই স্বাস্থ্য শিবিরকে কেন্দ্র করে বিতর্ক এখন তুঙ্গে।
আরও পড়ুন: Tollywood News: নতুন সিনেমায় অনিন্দিতা-রণজয়, প্লেব্যাকের চমক সুনিধি চৌহান!
Abhishek Banerjee: সেবাশ্রয়ের বিরুদ্ধে ভুরি ভুরি নালিশ, কোনও সরকারি নির্দেশ ছিল? ABP Ananda Live
