ভয়ঙ্কর ভূমিকম্পে মৃতের সংখ্যা ছাড়াল একশো। রিখটার স্কেলে মাত্রা ৭.৪। সোমবার তীব্র ভূমিকম্পে ভয়ঙ্কর অবস্থা পশ্চিম কলম্বিয়ায়। মৃতের সংখ্যা গিয়ে ঠেকেছে ১৩২। বহু বিল্ডিং ভেঙে পড়েছে। ধ্বংসস্তূপের নীচে আটকে পড়েছেন বহু মানুষ। আহত ৫৭০ জন। আতঙ্কে বাড়িঘর ছেড়েছেন শ’য়ে শ’য়ে মানুষ।
ভূমিকম্পের কেন্দ্রস্থল ছিল সান হোসে দেল পালমারে, যা বোগোতা থেকে ৪০০ কিলোমিটার পশ্চিমে চোকো অঞ্চলে অবস্থিত প্রায় ৪,৮০০ মানুষের জনবসতি। ইউএস জিওলজিক্যাল সার্ভে-র তথ্য অনুযায়ী, ভূমিকম্পটি ১০৭ কিলোমিটার গভীরে আঘাত হানে। প্রতিবেশী দেশ ইকুয়েডরেও এই ভূমিকম্প অনুভূত হয়েছে।
নিহতদের মধ্যে ১৮ জন পেরেইরা শহরের বাসিন্দা ছিলেন বলে মেয়র মাউরিসিও সালাজার কারাকোল রেডিওকে জানিয়েছেন। তিনি পরিস্থিতিকে ‘সঙ্কটজনক’ বলেও উল্লেখ করেন। স্থানীয় সংবাদমাধ্যমে প্রকাশিত ফুটেজে পেরেইরা, কালি ও কুইবদো শহরে ঘরবাড়ি ও ছোট ছোট বাড়ি ধসে পড়তে দেখা গেছে। বোগোতা থেকে ৩০০ কিলোমিটার পশ্চিমে অবস্থিত মানিজালেস শহরে একটি নিও-গথিক ক্যাথেড্রালের একটি মিনার ধসে পড়েছে।
কলম্বিয়ার মধ্যাঞ্চল ও পশ্চিমাঞ্চলে ‘টেম্বলোরেস’ নামে পরিচিত ছোটখাট ভূমিকম্প সচরাচর ঘটলেও, ৬.০-এর বেশি মাত্রার ভূমিকম্প বিরল। আরমেনিয়া শহরের কাছে ৬.২ মাত্রার একটি ভূমিকম্পে ১,১০০-এরও বেশি মানুষ প্রাণ হারিয়েছিল। ভূমিকম্প-পরবর্তী বিপর্যয়ের পর, কলম্বিয়ার নতুন প্রেসিডেন্ট আবেলান্দো দে লা এসপ্রিয়েলা সোমবার জানিয়েছেন যে, সান হোসে দেল পালমারের জরুরি পরিস্থিতি মোকাবিলায় সরকারের গৃহীত পদক্ষেপের দায়িত্ব তিনি নিজে নিয়েছেন। তিনি ভুক্তভোগীদের উদ্দেশে বার্তা দিয়ে বলেন, “আপনারা একা নন। রাষ্ট্র আপনাদের সঙ্গে রয়েছে এবং পদক্ষেপ নিচ্ছে।”
গতমাসের শেষদিকে জোরালো ভূমিকম্পে কেঁপে উঠেছিল জাপান। এতটাই তার তীব্রতা ছিল যে উল্টে যায় ট্রেন। আকাশপথে তোলা ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, দাউদাউ করে জ্বলছে বিল্ডিং। ধ্বংস্তূপে পরিণত হয় কুমামোটোর একটি আস্ত মল। রিখটার স্কেলে ৭.১ মাত্রায় কেঁপে ওঠে দক্ষিণ জাপান। যার জেরে সে দেশের বিস্তীর্ণ অংশ কার্যত ধ্বংস্তূপে পরিণত হয়।
ভূমিকম্পের জেরে হাজার হাজার বাড়ির বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়, রাস্তাঘাট ভেঙে পড়ে এবং অন্তত ৫০ জন আহত হন। যাদের মধ্যে আংশিকভাবে ধসে পড়া একটি শপিং মলের ভেতরে আটকা পড়া কয়েকজনও ছিলেন। ভূমিকম্পের কেন্দ্রস্থল ছিল মধ্য কিউশু দ্বীপের বৃহত্তম শহর কুমামোটোর প্রায় ২০ কিলোমিটার দক্ষিণে, যার জনসংখ্যা প্রায় ৭ লক্ষ।
