
সেই অগাস্ট মাস! দু’বছর আগে অগাস্ট মাসেই সামনে এসেছিল আর জি কর-কাণ্ড। এবার ফের কলকাতার এক মেডিক্যাল কলেজে কর্তব্যরত অবস্থায় নার্সের রহস্যমৃত্যু ঘিরে ছড়াল চাঞ্চল্য। নীলরতন সরকার মেডিক্যাল কলেজ ও হাসপাতালের গাইনি বিল্ডিংয়ের শৌচাগার থেকে উদ্ধার হল নার্সিং স্টাফ রূপালি বর্মনের দেহ। পটাশপুরের বাসিন্দা রূপালি বুধবার রাতে হাসপাতালে নাইট ডিউটিতে ছিলেন।

হাসপাতাল সূত্রে খবর, বুধবার রাতে NRS-এর স্ত্রীরোগ বিভাগের HDU-তে ডিউটি করছিলেন রূপালি। ঘণ্টাখানেক পরও তাঁকে নার্সিং স্টেশনে দেখতে না পেয়ে খোঁজাখুঁজি শুরু করেন সহকর্মীরা। এরপর অ্যান্টিনেটাল ওয়ার্ড এবং অ্যান্টিনেটাল অবজারভেশন রুম লাগোয়া শৌচালয়ে গিয়ে দেখা যায়, ভিতর থেকে দরজা বন্ধ। দরজা ভেঙে সেখান থেকেই উদ্ধার করা হয় রূপালিকে।

রূপালির চলে যাওয়ার খবর কীভাবে পেলেন স্বামী রাহুল দাস? সংবাদমাধ্যমকে রাহুল জানিয়েছেন, রাত ১১টা নাগাদ তাঁর কাছে একটি ফোন আসে। ফোনটি করা হয়েছিল রূপালির ফোন নম্বর থেকেই। ফোনের ওপার থেকে জানানো হয়, তাঁর স্ত্রীর শরীর খারাপ। তাঁকে দ্রুত হাসপাতালে আসতে বলা হয়। রাহুলের বক্তব্য, স্ত্রীর ফোন থেকেই তাঁকে ফোন করেছিলেন কেউ।

অন্যদিকে, রূপালির বাবা অর্জুন বন্দ্যোপাধ্যায় জানিয়েছেন, রাত সাড়ে ১১টা থেকে ১২টার মধ্যে খবর পান তাঁরা। মেয়ের মৃত্যুর ঘটনায় পরিবারের তরফে সঠিক তদন্তের দাবি করেন তাঁরা। মৃতদেহের পাশে ফেন্টানিলের দু’টি এবং মিডাজোলামের একটি ফাঁকা ভায়ল পাওয়া গিয়েছে বলে পুলিশ সূত্রে খবর।

অস্ত্রোপচারের সময় রোগীদের অজ্ঞান করার জন্য এই ধরনের ওষুধ ব্যবহার করা হয়। NRS-এর প্রিন্সিপাল সনৎ কুমার ঘোষ জানিয়েছেন, ডিউটিতে থাকাকালীন হঠাৎ রূপালিকে পাওয়া যাচ্ছিল না। খোঁজ করতে গিয়ে দেখা যায়, শৌচাগারের দরজা বন্ধ। পরে দরজা ভেঙে তাঁর দেহ উদ্ধার করা হয়।

ঘটনার খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে পৌঁছন কলকাতা পুলিশের আধিকারিকরা। অ্যাডিশনাল সিপি ক্রাইম কুণাল আগরওয়াল জানান, ঘটনাস্থল সিল করে দেওয়া হয়েছে এবং ইতিমধ্যেই হোমিসাইড তদন্তভার নিয়েছে। পুলিশের তরফে ওই রাতে হাসপাতালে ডিউটিতে থাকা প্রত্যেককে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে। তদন্তকারীরা কীভাবে এবং কোন পরিস্থিতিতে ওই ওষুধগুলি রূপালির শরীরে পৌঁছল, তা খতিয়ে দেখছেন।

ঘটনার খবর পেয়ে হাসপাতালে যান স্বাস্থ্যমন্ত্রী শারদ্বত মুখোপাধ্যায়। তিনি জানান, মুখ্যমন্ত্রীর নির্দেশেই তিনি হাসপাতালে এসেছেন। হাসপাতালের এক নার্স জানিয়েছেন, এদিন ওই নার্স রাত ৯টা ১০ থেকে ৯টা ১৫ মিনিটের মধ্যে বাথরুমে গিয়েছিলেন। রূপালি হাসপাতালের হস্টেলে থাকতেন না। চলতি বছরের মার্চেই তাঁর বিয়ে হয়। স্বামীর সঙ্গে ক্যান্টনমেন্ট এলাকায় ভাড়া থাকতেন তিনি। তাঁর শ্বশুরবাড়ি দিল্লিতে এবং বাপের বাড়ি পূর্ব মেদিনীপুরে।

মেডিক্যাল কলেজ পুলিশ মর্গে ফরেন্সিক ডিপার্টমেন্টের HOD-র তত্ত্বাবধানে NRS-এর নার্সের ময়নাতদন্ত হয়। সুরতহালে মৃত নার্সের কনুইয়ের নীচে সূচ ফোটানোর দাগ নজরে এসেছে বলে সূত্রের খবর।

ময়নাতদন্তে চিকিৎসকদের প্রাথমিক অনুমান, অতিরিক্ত মাত্রায় ফেন্টানিল ও মিডাজোলাম প্রয়োগের ফলে মৃত্যু হয়ে থাকতে পারে। তবে সেটিই মৃত্যুর কারণ কি না, ময়নাতদন্তের পূর্ণাঙ্গ রিপোর্ট এবং ফরেন্সিক পরীক্ষার পরই তা স্পষ্ট হবে।

প্রাথমিক রিপোর্টে এও বলা হয়েছে, শ্বাসপ্রশ্বাস বন্ধ হয়ে নার্সের মৃত্যুর উল্লেখ রয়েছে। অক্সিজেনের অভাবে চোখের সাদা অংশের পাশাপাশি নখ ও জিভের একাংশও নীলচে হয়ে গিয়েছিল বলে জানা গিয়েছে।
Published at : 14 Aug 2026 02:06 PM (IST)
