কলকাতা : ২১ জুলাইয়ের পর ফের ২৮ অগাস্ট। তৃণমূল ছাত্র পরিষদের প্রতিষ্ঠা দিবস পালন ঘিরে ফের প্রকাশ্য মঞ্চে দুই তৃণমূলের দ্বন্দ্ব। দুই জায়গায়, দুই শিবিরই পালন করল তৃণমূল ছাত্র পরিষদের প্রতিষ্ঠা দিবস। একদিকে কালীঘাট-তৃণমূল, অন্যদিকে ঋতব্রত-তৃণমূল। আর দুই মঞ্চ থেকেই একে অপরকে নিশানা করলেন নেতারা। কার্যত বেনজির ভাষায়। ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়ের শিবিরকে ‘গদ্দার’ বলে আক্রমণ করলেন তৃণমূল সাংসদ অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। পাল্টা জবাবে গণতন্ত্রের পক্ষে থাকার কথা তুলে ধরলেন ফিরহাদ হাকিম।
অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় এদিন ফের একবার বলেন, দলের সঙ্গে বিশ্বাসঘাতকতা করা কাউকেই আগামী দিনে ফেরানো হবে না। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় যা সিদ্ধান্ত নেবেন, সেটিই চূড়ান্ত বলেও জানান তিনি। অভিষেক বলেন, “আমি বুক ঠুকে বলে যাচ্ছি, সর্বোচ্চ নেত্রী তো মমতা বন্দ্যোপাধ্য়ায়, এই একজন বেইমানকেও আগামী দিন দলে ফেরত নেওয়া হবে না। নেত্রী যা ঠিক করবেন শিরোধার্য।”
এরপরই ঋতব্রত শিবিরকে নিশানা করে আরও আক্রমণাত্মক সুরে বক্তব্য রাখেন কুণাল ঘোষ। বলেন, “ঘাড় ধাক্কা দিয়ে তাড়ানো হবে। আয় গদ্দার দেখে যা তৃণমূলের ক্ষমতা। আয় বালিশ চাটন দেখে যা, তৃণমূলের ক্ষমতা।”
অন্যদিকে, ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়ও অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের বিরুদ্ধে তীব্র আক্রমণ শানান। ভোটে দাঁড়ালে আগামী দিনে জামানত জব্দ হবে বলেও হুঁশিয়ারি দেন তিনি। তাঁর শিক্ষাগত যোগ্যতাও ভুয়ো বলে চ্যালেঞ্জ ছুঁড়ে দেন অভিষেক। বলেন , “পার্লামেন্টে কোন ২০ জন সাংসদ রেকগনাইজ কি রেকগনাইজ না, এনিয়ে চিঠি দিচ্ছেন, তাহলে সবার আগে আপনি এফিডেভিটে লিখে দিন, আপনি উচ্চমাধ্য়মিক পাস, কারণ UGC বলছে, ওই BBA আর MBA ভ্য়ালিড নয়। সামনের বার যখন ভোটে দাঁড়াবেন, যদি দাঁড়ান, জামানত আপনার জব্দ হবে, কেউ ঠেকাতে পারবে না।”
এর আগে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের একটি মন্তব্য নিয়েও কটাক্ষ করেন ঋতব্রত। “ড. মমতা বন্দ্য়োপাধ্য়ায় বলেছিলেন, বাঘের মতো লড়ছে। আমরা বলেছিলাম ভুল হয়ে গেছে। বাঘরোল বলতে চেয়েছিলেন…”
অন্যদিকে অভিষেকের ‘বেইমান’ মন্তব্যের পাল্টা জবাব দিয়েছেন ফিরহাদ হাকিম। অধুনা তিনি ঋতব্রত শিবিরের সদস্য । ফিরহাদ বলেন,
ঋতব্রত শিবির কোনও বেইমানি করেনি। বরং তাঁরা গণতন্ত্রের পক্ষে ছিলেন। “আমরা বেইমানি করিনি। আমরা শুধুমাত্র গণতন্ত্রের পক্ষে ছিলাম। সেই গণতন্ত্র হচ্ছে যখন অধিকাংশ বিধায়কেরা দাঁড়িয়ে থেকে বলেছে যে ‘ঋতব্রত আমাদের লিডার’, আমরা সেই গণতন্ত্রের পক্ষে ছিলাম। চাপিয়ে দেওয়ার পক্ষে ছিলাম না।”
একদিকে কালীঘাট-তৃণমূলের অনুষ্ঠান, অন্যদিকে ঋতব্রত-তৃণমূলের অনুষ্ঠান। দুই মঞ্চ থেকেই চলল আক্রমণ-পাল্টা আক্রমণ। ‘গদ্দার’, ‘বেইমানি’, ‘বালিশ চাটা’—এই ধরনের শব্দবন্ধে তেতে উঠল সমাবেশ।
Agnimitra Paul | “এখন আপনাদের সরকার চলছে না, অন্যায় আর চলবে না”,অভিষেককে নিশানা অগ্নিমিত্রার
