কলকাতা: গণনা কেন্দ্রে কারচুপি থেকে শুরু করে লোডশেডিং করে দেওয়ার সম্ভাবনা নিয়ে বারবার তিনি আওয়াজ তুলেছেন, বারবার তিনি আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন। আজ বিধানসভা নির্বাচনের গণনা শুরু হওয়ার কিছুক্ষণ আগে গভীর রাতে ফের একবার তৃণমূল কর্মী, সমর্থক ও নেতাদের উদ্দেশ্যে আরও একবার বার্তা দিলেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। রাত জাগা, পাহারা দেওয়ার কথাও বলেছেন তিনি।
রবিবার গভীর রাতে নিজের ফেসবুকে পোস্ট করেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। সেখানেই তৃণমূল সুপ্রিমো লেখেন, ‘সতর্ক থাকুন। পাহারা দিন। রাত জাগুন। অভিযোগ করুন। বিভিন্ন জায়গা থেকে খবর পাচ্ছি, পরিকল্পিতভাবে লোডশেডিং করে দেওয়া হচ্ছে। হুগলির শ্রীরামপুর, নদীয়ার কৃষ্ণনগর থেকে বর্ধমানের আউশগ্রাম, কলকাতার ক্ষুদিরাম অনুশীলন কেন্দ্রে এরকম ঘটনা সামনে এসেছে যেখানে দফায় দফায় লোডশেডিং করা হচ্ছে, সিসিটিভি বন্ধ করে দেওয়া হচ্ছে এবং স্ট্রং রুমে গাড়ি যাতায়াত করছে। আমি দলের কর্মীদের আহ্বান জানাচ্ছি, আমি যেভাবে রাত জেগে সমস্ত বিষয়ের ওপর নজর রাখছি আপনারাও রাত জেগে স্ট্রংরুমে জনগণের ভোট পাহারা দিন। কোথাও কোনো সন্দেহজনক পরিস্থিতি কেউ সৃষ্টি করলে, তাদের ঘিরে ধরুন , সঙ্গে সঙ্গে অভিযোগ করুন এবং সিসিটিভি ফুটেজ দাবি করুন। এই সমস্তটাই বিজেপির অঙ্গুলিহেলনে করা হচ্ছে।’
এর আগেই দলীয় কর্মীদের সঙ্গে বৈঠকে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বার্তা দিয়েছিলেন, ‘গণনা শেষ না হওয়া পর্যন্ত কেউ কাউন্টিং সেন্টার থেকে বেরবেন না। গণনাকেন্দ্রের পরিস্থিতি দলীয় নেতৃত্বকে জানাতে হবে।’
মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় আরও যা যা বলেছিলেন—
ভোর পাঁচটার মধ্যে গণনাকেন্দ্রে পৌঁছতে হবে। কোনও সিটে বিজেপি ২০০-৩০০ ভোটের ব্যবধানে জিতলে পুণর্গণনা করা হবে। এক্সিট পোল নিয়ে মাথা ঘামানোর কিছু নেই, এটা শেয়ার বাজারকে প্রভাবিত করার চেষ্টা।
অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় যে যে বার্তা দিয়েছিলেন
সার্টিফিকেট হাতে না পাওয়া পর্যন্ত গণনা কেন্দ্র ছাড়বেন না কেউ। কাউন্টিং এজেন্টকে বসতে না দিলে প্রার্থীকে সঙ্গে নিয়ে গিয়ে যেতে হবে। দলকে সঙ্গে সঙ্গে জানাতে হবে, যাতে দল প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেয়। EVM-সিল ও তারিখ দেখে নিতে হবে। পোস্টাল ব্যালটও বেশ গুরুত্বপূর্ণ। কেউ যেন হালকাভাবে না নেয়। কাউন্টিং হলে সবার সামনের সারিতে বসতে হবে। জয়ের ব্যবধান কম হলে আবার পোস্টাল ব্যালট গোনাতে হবে। কাউন্টিং হলে নিজের আসন থেকে কেউ যেন ওঠাতে না পারেন।
