নয়াদিল্লি : প্রবল ছাত্র আন্দোলনের মুখে অবশেষে পিছু হটল মোদি সরকার। CJP-র সঙ্গে বৈঠকের ঠিক আগে কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রীর পদত্যাগ। জন্মের ৭১ দিনের মধ্যেই প্রথম আন্দোলন ‘সফল’ হল ‘আরশোলা’দের। কিন্তু কীভাবে শুরু হল ‘আরশোলাদের’ আন্দোলন? অল্প সময়ে কীভাবে তা ছাড়িয়ে গেল দেশের সীমানা? এক ঝলকে ৩৬ দিনের যুদ্ধ জয়।
দেশজোড়া প্রবল চাপের কাছে পিছু হঠল প্রশাসন। আন্দোলনকারীদের প্রধান-দাবি মেনে, শেষমেশ ইস্তফা দিলেন ধর্মেন্দ্র প্রধান। পদত্যাগ করতেই হল কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রীকে। জন্ম নেওয়ার ৭১ দিনের মধ্যেই প্রথম আন্দোলন ‘সফল’ করল ককরোচ জনতা পার্টি। গত মে মাসে, মেডিক্যালের সর্বভারতীয় প্রবেশিকা NEET-এর প্রশ্ন-ফাঁসের অভিযোগ সামনে আসে। যার জেরে পরীক্ষা বাতিল করে দেয় ন্যাশনাল টেস্টিং এজেন্সি। অনিশ্চয়তার মধ্যে পড়েন প্রায় ২২ লক্ষ পরীক্ষার্থী। অভিযোগ, তার জেরে পরীক্ষার্খীদের আত্মহত্য়ার ঘটনাও ঘটে। নতুন করে পরীক্ষা নেওয়া হয়। দেওয়া হয় CBI তদন্তের নির্দেশ। আন্দোলনে নামে ককরোচ জনতা পার্টি বা CJP. NEET-কাণ্ডে বিক্ষোভের ঢেউ আছড়ে পড়ে দেশের বিভিন্ন প্রান্তে।
ইস্তফা দিলেন কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধান
দাবি ওঠে, কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রীর পদত্যাগ, দেশের শিক্ষা ও পরীক্ষা ব্যবস্থার সংস্কার এবং মৃত পড়ুয়াদের পরিবারকে আর্থিক সাহায্য দিতে হবে। ২০ জুন থেকে দিল্লির যন্তরমন্তরে আন্দোলন রূপ নেয় ধর্নায়। আন্দোলনকারী আরশোলাদের পাশে দাঁড়ায় বিভিন্ন রাজনৈতিক দল থেকে সমাজের বিভিন্ন স্তরের মানুষ। শিক্ষাবিদ ও আন্তর্জাতিক খ্য়াতিসম্পন্ন পরিবেশ কর্মী সোনম ওয়াংচুক আন্দোলনের প্রতি প্রকাশ্যে সমর্থন জানান। এবং ২৮ জুন থেকে তিনি যন্তরমন্তরে শুরু করেন অনির্দিষ্টকালের অনশন। গত ১৮ জুলাই, যন্তর-মন্তর থেকে অনশনকারী সোনম ওয়াংচুককে জোর করে তুলে হাসপাতালে নিয়ে যায় কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রকের অধীনস্থ দিল্লি পুলিশ। ওয়াংচুককে জোর করে অনশনস্থল থেকে সরিয়ে দেওয়ার পর আরও তীব্রতা পায় আন্দোলন। বিক্ষোভ ছড়িয়ে পড়ে দিল্লি, মুম্বই, কলকাতা, বেঙ্গালুরু, পুনে, হায়দরাবাদ-সহ একাধিক শহরে।
সংসদের ভেতরে ও বাইরে বিরোধীদের প্রতিবাদ সরকারের ওপর চাপ আরও বাড়িয়ে দেয়। এই প্রেক্ষিতে প্রশ্নফাঁস রোধে কঠোর আইন আনার সিদ্ধান্ত নেয় কেন্দ্রীয় সরকার। সোমবারই তা পেশ হতে পারে লোকসভায়। ছাত্র-যুবদের ধারাবাহিক বিক্ষোভ, দেশজুড়ে সমালোচনা আর সংসদের ভেতরে-বাইরে তীব্র চাপে পড়ে বৃহস্পতিবার গভীর রাতে সমাজমাধ্যমে ভিডিও বার্তা দেন প্রধানমন্ত্রী। শুক্রবার রাতে গুরুগ্রামের হাসপাতালে গিয়ে সোনম ওয়াংচুকের সঙ্গে কথা বলে তাঁর অনশন ভাঙান কেন্দ্রীয় মন্ত্রী জেপি নাড্ডা ও জিতেন্দ্র সিং। আর শনিবার, কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রীর পদে ইস্তফা দিলেন ধর্মেন্দ্র প্রধান। গবেষণা বলছে, পৃথিবীতে ডাইনোসরের থেকেও পুরনো হল আরশোলা। খাবারহীনতা থেকে তেজষ্ক্রিয়তার মধ্যেও টিকে থাকার অদ্ভুত ক্ষমতা আছে তাদের। আন্দোলনকারী ‘আরশোলারাও’ যে কম যায় না, ৩৬ দিনের যুদ্ধ সেটাই বুঝিয়ে দিলেন তারা।
