পার্থপ্রতিম ঘোষ, কলকাতা : বারুইপুরে নাবালিকার দেহ উদ্ধারকাণ্ডে গ্রেফতার আরও ১। এই নিয়ে ধৃতের সংখ্যা বেড়ে হল ২ জন। আটক করা হয়েছে আরও ৩ অভিযুক্তকে। নিহতের পরিবারের দাবি, শনিবার বান্ধবীর জন্মদিনের অনুষ্ঠানে যোগ দিতে বাড়ি থেকে বেরোয় ক্লাস সিক্সের ওই ছাত্রী। অভিযোগ, এর পর আর তার কোনও খোঁজ পাওয়া যায়নি। গতকাল সকালে একটি পুকুর থেকে বস্তাবন্দি অবস্থায় উদ্ধার হয় ওই নাবালিকার মৃতদেহ। তারপরেই অগ্নিগর্ভ হয়ে ওঠে পরিস্থিতি। মৃতদেহ রাস্তায় ফেলে বারুইপুরে দীর্ঘক্ষণ চলে বিক্ষোভ। খুনে অভিযুক্ত সন্দেহে এক ব্যক্তিকে ধরে গণপিটুনি দেয় স্থানীয়রা। পরে হাসপাতালে নিয়ে গেলে তাঁকে মৃত ঘোষণা করা হয়। নাবালিকাকে খুনের ঘটনায় গতকালই গ্রেফতার করা হয় একজনকে। আজ গ্রেফতার করা হয়েছে আরও ১ জনকে। নাবালিকার মৃত্যুতে বারুইপুর পুলিশ জেলার অতিরিক্ত পুলিশ সুপারের নেতৃত্বে ৬ সদস্যের SIT গঠন করে শুরু করা হয়েছে তদন্ত। নাবালিকাকে খুনের অভিযোগের মামলার পাশাপাশি, গণপিটুনিতে একজনের মৃত্যু ও সরকারি সম্পত্তি নষ্টের অভিযোগেও দুটি পৃথক মামলা রুজু করা হয়েছে।
১২ বছরের নাবালিকার মৃতদেহ উদ্ধার ঘিরে রবিবার অগ্নিগর্ভ হয়ে উঠেছিল দক্ষিণ ২৪ পরগনার বারুইপুর। রাস্তায় মৃতদেহ রেখে, গাছের গুড়ি ফেলে, টায়ার জ্বালিয়ে চলে টানা বিক্ষোভ। ক্ষোভ সামলাতে গিয়ে আক্রান্ত হয় পুলিশও। ঘটনার সূত্রপাত শনিবার বিকেলে। নিহতের পরিবারের দাবি, জন্মদিন উপলক্ষ্যে এক বান্ধবীর বাড়িতে যাওয়ার জন্য বেরোয় নাবালিকা। অভিযোগ, এর পর আর তার কোনও খোঁজ পাওয়া যায়নি। অন্যদিকে, এলাকার সিসিটিভি ফুটেজ খতিয়ে দেখে, ক্লাস সিক্সের এই ছাত্রীর সঙ্গে এলাকারই কয়েকজন যুবককে দেখতে পান নাবালিকার পরিবার ও স্থানীয়রা। একজনকে ধরেও ফেলেন। অভিযোগ, তাঁকে জিজ্ঞাসাবাদ করেই নাবালিকার মৃতদেহের খোঁজ মেলে।
অটোচালক থেকে প্রোমাটার – অভিযোগ, দেবরাজ বাহিনীর থেকে নিস্তার ছিল না কারও
রবিবার সকালে একটি পুকুর থেকে বস্তাবন্দি নাবালিকার মৃতদেহ উদ্ধার হয়। এরপরেই উত্তপ্ত হয়ে ওঠে পরিস্থিতি। নাবালিকার দেহ রাস্তায় রেখে শুরু হয় বিক্ষোভ। কাঠের গুড়ি ফেলে বন্ধ করে দেওয়া হয় রাস্তা। জ্বালানো হয় টায়ার। অভিযোগ, এরইমধ্যে এলাকা থেকেই আরেক অভিযুক্তকে ধরে ফেলেন স্থানীয়রা। শুরু হয় গণপিটুনি। ক্ষোভ এমন পর্যায় পৌঁছয় যে, ঘটনাস্থলে পুলিশ এলে তাদের ঘিরেও বিক্ষোভ শুরু হয়। অভিযোগ, পুলিশকে লক্ষ্য করে ইট, কাচের বোতল ছোড়া হয়। আহত হন একাধিক পুলিশকর্মী। পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে উঠলে ঘটনাস্থলে পৌঁছয় বিশাল পুলিশ ও কেন্দ্রীয় বাহিনী। পৌঁছন প্রেসিডেন্সি রেঞ্জের আইজি কঙ্করপ্রসাদ বাড়ুইও। ফোনে তাঁর সঙ্গে কথা বলে দোষীদের বিরুদ্ধে কড়া পদক্ষেপের নির্দেশ দেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেনদু অধিকারী।
আইজি-র আশ্বাসের পর ধীরে ধীরে পরিস্থিতি স্বাভাবিক হয়। শুরু হয়ে যায় ধরপাকড়। নাবালিকার মৃত্যুর সঙ্গে আর কারা জড়িত, তাঁদেরও খোঁজ চলে। নাবালিকার মৃত্যুতে বারুইপুর পুলিশ জেলার অতিরিক্ত পুলিশ সুপারের নেতৃত্বে ৬ সদস্যের SIT গঠন করা হয়েছে। নাবালিকাকে শ্বাসরোধ করে খুন করা হয়েছে বলে প্রাথমিকভাবে জানতে পেরেছে পুলিশ। ময়নাতদন্তের জন্য পুলিশি নিরাপত্তায় কলকাতার কাটাপুকুর মর্গে নিয়ে আসা হয় নাবালিকার দেহ। অন্যদিকে, স্থানীয়দের মারে গুরুতর জখম অবস্থায় এক যুবককে বারুইপুর মহকুমা হাসপাতালে নিয়ে গেলে, মৃত ঘোষণা করেন চিকিৎসকরা। নাবালিকাকে খুনের অভিযোগের মামলার পাশাপাশি, গণপিটুনিতে একজনের মৃত্যু ও সরকারি সম্পত্তি নষ্টের অভিযোগেও দুটি পৃথক মামলা রুজু করেছে পুলিশ।
Weather News: নিম্নচাপের জেরে আজ কলকাতা-সহ দক্ষিণবঙ্গে দিনভর দফায় দফায় বৃষ্টি
