বিশ্বমানের গোল, টানটান লড়াই, আল আরবির বিরুদ্ধে ৪-১ জিতে চ্যাম্পিয়ন্স লিগ ২-র গ্রুপ পর্বে ইস্টবেঙ্গল


কলকাতা: লক্ষ্য ছিল এএফসি চ্যাম্পিয়ন্স লিগ ২-র (AFC Champions League Two) গ্রুপ পর্বে পৌঁছনো, সেই লক্ষ্যে সফল হল আন্তোনিও লোপেজ হাবাসের দল। অবশ্য তার আগে যথেষ্ট লড়াই করতে হল লাল হলুদ বাহিনীকে। ম্যাচের স্কোরলাইন যতই ৪-১ দেখাক না কেন, শুরু থেকে প্রায় শেষ পর্যন্ত এই ম্যাচে টানটান লড়াই চলল। কিন্তু পিছিয়ে পড়েও, অদম্য লড়াই এবং দুরন্ত স্কিলের পরিচয়ে আল আরবিকে পরাজিত করল ইস্টবেঙ্গল (East Bengal)। কুয়েতের দলকে পরাজিত করে আনোয়ার আলিরাই মহাদেশীয় টুর্নামেন্টের মূল গ্রুপ পর্বে নিজেদের জায়গা পাকা করে ফেলল।     

এদিন ম্যাচের শুরুটা ইস্টবেঙ্গল খুবই ভালভাবে করেছিল। লাল হলুদের প্যালেস্টিনিয়ান মিডফিল্ডার মহম্মদ রশিদের বক্সের বাইরে থেকে নেওয়া দূরপাল্লার শট দারুণভাবে রুখে দেন আল আরবি গোলরক্ষক সুলেমান। আল আরবির হয়ে মালেকো ২৩তম মিনিটে গোলে করার খুব কাছাকাছি পৌঁছে যায়। বাঁ দিকের কোণা থেকে মারা শট প্রভসুখন গিলের পায়ের ফাঁক দিয়ে প্রায় গলে যাচ্ছিলই। তবে কোনওরকমে শেষবেলায় তিনি তা গোলে ঢোকা থেকে প্রতিহত করেন। প্রথমার্ধ গোলশূন্যই শেষ হয়।

অবশেষে ম্য়াচের ৭৬ মিনিটে সন্দীপ মান্ডি পেনাল্টি বক্সের মধ্যে মালেকোকে ফাউল করায় পেনাল্টি পায় কুয়েতের দল। সেখান থেকে আনায়ো গোল করতে ভুল করেননি। ঘরের মাঠে নিশ্চিত পরাজয়ের দিকে এগোচ্ছিল ইস্টবেঙ্গল। তবে হাবাসের ছেলেদের নাছোড় মনোভাবের পরিচয় মেলে এই ম্যাচে। একেবারে শেষ লগ্নে জয় গুপ্ত রশিদের ঠিকানা লেখা ফ্রি-কিক থেকে বল জালে জড়িয়ে দেন। নির্ধারিত ৯০ মিনিটে ম্যাচ সমতায় শেষ হয়।

আরও পড়ুন:- আইপিএলের জেরেই ভারতীয় ক্রিকেটে এত চোটআঘাত! বিস্ফোরক দাবি সেন্টার অফ এক্সিলেন্সের 

ম্যাচ অতিরিক্ত সময়ে গড়ানোয় আল আরবির ফুটবলাররা ক্রমেই ক্লান্ত হয়ে পড়ছিলেন। ক্রমেই হাঁপিয়ে পড়া দলের রক্ষণে ভুলত্রুটিও হতে শুরু করে। সেই সুযোগ নেয় ইস্টবেঙ্গল। একের পর এক তিনটি দৃষ্টিনন্দন গোল করে ইস্টবেঙ্গল। আইএসএল চ্যাম্পিয়নদের হয়ে ১০৮তম মিনিটে দুরন্ত হাফ ভলি থেকে রশিদ লাল-হলুদকে এগিয়ে দেন। এরপরের দুই গোলে ডেভিড লালানসাঙ্গা জাদু দেখা যায়।

১১৭ মিনিটে ইস্টবেঙ্গলের নতুন সাইনিং ক্রিসের মারা শট আল আরবি গোলরক্ষক প্রতিহত করলেও, তা চলে যায় লালানসাঙ্গার পায়ে। তিনি কার্যত গোলরক্ষক ও আল আরবির এক ডিফেন্ডারকে একাধিকবার দুরন্ত ড্রিবলে ঘোল খাইয়ে ম্যাচে দলের জয় সুনিশ্চিত করে দেন। ম্যাচের শেষ বাঁশি বাজার আগে ফের একবার পায়ের দুরন্ত জাদু এবং বল কন্ট্রোলে আল আরবির দুই ডিফেন্ডারকে মাঠ থেকেই কার্যত ছিটকে দেন লালানসাঙ্গা। তারপর তাঁর বাড়ানো বল রোহিত দানু জালে জড়িয়ে ইস্টবেঙ্গলের হয়ে ৪-১ জয় সুনিশ্চিত করেন। এই জয়ের সুবাদে টুর্নামেন্টের মূলপর্বে পৌঁছে গেল আইএসএল চ্যাম্পিয়নরা।   



Source link

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *