উজ্জ্বল মুখোপাধ্যায়, কলকাতা : এবার ডিম ‘খেলেন’ কুণাল ঘোষ। কালীঘাটের বৈঠকে যোগ দেওয়ার সময় তৃণমূল বিধায়ককে লক্ষ্য করে ধেয়ে এল ডিম। এবার কালীঘাটে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের বাড়ির সামনেই বেলেঘাটার বিধায়ক কুণাল ঘোষকে লক্ষ্য করে ডিম ছোড়া হল। কুণাল ঘোষের মাথায় লেগে ফাটল কাঁচা ডিম।
#WATCH | Chandan, the local youth says, “They have done a lot of atrocities on people. Kunal Ghosh is no less. So, they deserve this…They have wronged us a lot.” https://t.co/gcKuzX8Hph pic.twitter.com/d59Lztt3Es
— ANI (@ANI) June 15, 2026
হাতে ডিম নিয়ে এসেছিলেন এক বিক্ষোভকারী যুবক। তিনি বলেছেন, ‘জনগণের উপর অনেক অত্যাচার করেছে এরা। এই কুণাল ঘোষ কি কম অত্যাচার করেছে জনগণের উপর? এখন ডিম খাওয়ারই যোগ্য এরা। তাই ডিম মারতে এসেছি আমরা।’ নিজেকে স্থানীয় বাসিন্দা বলেই দাবি করেছেন ওই বিক্ষোভকারী যুবক। এই প্রসঙ্গে কুণাল ঘোষ বলেছেন, ‘কে অত্যাচার করেছে? কে করেছে? আমি করেছি? মমতাদি করেছেন? ইয়ার্কি মারার জায়গা পায়নি। অত্যাচার যদি করে থাকে থানা পুলিশ করুক। আপনাদের সরকার। যদি কেউ অত্যাচার করে থাকে, আপনাদের সরকার, আপনাদের পুলিশ… অত্যাচার করেছে বলে রাস্তায় আক্রমণ করা হবে? এটা কোনও কথা হল… আমার সঙ্গে কী সম্পর্ক? কুণাল ঘোষ কী অত্যাচার করেছে? যে লোকই মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের বাড়ি থেকে বেরোবে… এটা তো শহরের অন্য কোথাও হল না। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের বাড়ির সামনে হল যিনি জেট ক্যাটেগরির নিরাপত্তা পান। এটা কী করে হতে পারে? একটা লোক দাঁড়িয়ে বলে দিল অত্যাচার করা হয়েছে… যে মেরেছে ওকে জিজ্ঞেস করুন ওর চাকরিটা কে দিয়েছে? জিজ্ঞেস করুন ও কোথায় চাকরি করত?’
কেন্দ্রীয় মন্ত্রী হতে পারেন সুদীপ বন্দ্যোপাধ্যায় এবং শর্মিলা সরকার
হামলা করে আমাকে থামানো যাবে না।
— Kunal Ghosh (@KunalGhoshAgain) June 15, 2026
এদিন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের বাড়ির সামনে কালীঘাটে কুণাল ঘোষকে দেখেই ডিম ছোড়া হয়। এই ঘটনার পর বেলেঘাটার বিধায়ক বলছেন, ‘ কারা কারা এসেছে গুচ্ছ ডিম নিয়ে। আমি বললাম আমাকেও ক’টা ডিম দাও না… ওদিক থেকে আমায় মারলে, আমিও এদিক থেকে ক’টা মারি। এইসব করে থামানো যাবে না। এইসব বাঁদরামি… মাননীয় মুখ্যমন্ত্রী সারা বাংলা এবং আপনার কেন্দ্র, এগুলো প্রশ্রয় দেবেন না। এটা হয় না। এটা হতে পারে না। একটা লোক রাস্তায় নিরস্ত্র, দাঁড়িয়ে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলছে… এদের সঙ্গে আমার কোন শত্রুতা নেই, এখানে কোনও উত্তেজনা নেই, এর সঙ্গে জনরোষের কোনও সম্পর্ক নেই। অসভ্যতা করা এবং ভয় দেখানোর জন্য। আমি তো এখানে আছি। বিভিন্ন জায়গা থেকে, আমার এলাকা থেকে ছেলেরা ফোন করে বলছে দাদা আমরা যাচ্ছি। এখানকার ছেলেরা, সিনিয়র নেতারা বলছেন দাদা আমরা যাচ্ছি। আমি সবাইকে বারণ করেছি যে কেউ আসবে না। কারণ এখানে আমরা যদি আমাদের ছেলে নিয়ে যাই তাহলে, পুলিশ আবার বিজেপির দলদাসের মত আচরণ করবে, আমাদের ছেলেগুলোকে কেস দেবে, তাদের জামিন করানো আবার আরেক সমস্যা। আমি যাব। তাতে যদি মারার হয়, ছবি তোলার হয় তুলবে। এভাবে কণ্ঠরোধ করা যায়নি। এইভাবে কন্ঠরোধ করা যায় না। আর কুণাল ঘোষকে গায়ে হাত দিয়ে মেরে… আরে কুণাল ঘোষকে একসময় দেড়শ পুলিশ সামলাতে পারত না… এই দুটো কুকুর, বেড়াল আমার কী করবে? আমি ওখান দিয়েই যাব। মারার হলে আপনাদের সামনে মারুক। আপনারা ছবি তুলুন। আমি মার খেতে যাচ্ছি। পাথর মারলে মারুক। বোম মারলে মারুক। ডেডবডি পরে থাকবে, কিন্তু আমি ওইখান দিয়েই যাব। তারপর যা হওয়ার হবে।’
যে ধরনের কাজ করেছেন, যুব সম্প্রদায়কে অন্ধকারে ঠেলে দেওয়া হয়েছিল, মোটিফ সামনে আসবে : নিশীথ প্রামাণিক
কুণাল আরও বলেছেন, ‘ডিম হাতে এখানে দাঁড়িয়ে আছে। কারা কারা বেরোবে, আক্রমণ করবে। এটা প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রীর বাড়ি। আর পুলিশ দাঁড়িয়ে দাঁড়িয়ে দেখছে। এইসব করে থামিয়ে রাখা যাবে না। আমি বললাম তো, আমার চোখ যেত, মাথা যেত, আমার কিচ্ছু এসে যায় না… এইসব করে কুণাল ঘোষ বা আমাদের থামিয়ে রাখা যাবে না। এইসব দূর থেকে জিনিস ছোড়া… গায়ে হাত দিয়ে মারা… ডেডবডি পরে থাকবে, কিন্তু গলা বন্ধ করা যাবে না। হেঁটে এলাম, জেনে এলাম… আমার কাছে ছবি ছিল যে এরা এখানে দাঁড়িয়ে আছে। এটা কী ধরনের বিপ্লব? গুণ্ডাগিরি করে এসে ছুড়ে মারা, এগুলো বিপ্লব হচ্ছে? অসভ্যতা যত… বলুন অমলেট করে খেয়ে নিতে।’
TMC News: শ্রীভূমি স্পোর্টিং ক্লাবের খেলার মাঠের ঘর থেকে উদ্ধার প্রচুর ত্রাণ সামগ্রী
