কলকাতা: একদিকে যখন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ও অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়কে বাদ দিয়ে জাতীয় কর্ম সমিতি তৈরি করে ফেলল তৃণমূল কংগ্রেস, তখনই দলের একগুচ্ছ বিধায়ককে শো কজ করল ‘কালীঘাট’ তৃণমূল। দলবিরোধী কাজের জন্য ফিরহাদ হাকিম, অরূপ বিশ্বাস, অরূপ রায় ও জাভেদ খানের মতো নেতাকে শোকজ ‘কালীঘাট-তৃণমূল’-এর।
এ ছাড়াও আরও বেশ কিছু তৃণমূল নেতা, নেত্রীকে শোকজ করেছে ‘কালীঘাট-তৃণমূল’-এর শৃঙ্খলারক্ষা কমিটি। এর মধ্যে রয়েছেন রথীন ঘোষ, বিপ্লব মিত্র, স্নেহাশিস চক্রবর্তী, সাবিনা ইয়াসমিনদের মতো নেতা, নেত্রীরা।
পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভার বিরোধী দলনেতা ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায় সম্পূর্ণ ব্যাপারটাকেই কটাক্ষ করেছেন। তিনি বলেন, “কীসের শো, কীসের কজ? একটা সংগঠন আছে বলে দাবি করেন। আমরা বলি সং আছে, গঠন নেই। ধরুন কমিটি ঘোষণা হচ্ছে দুপুরবেলা। যাঁদের নাম ঘোষণা হচ্ছে, বিকালবেলা তাঁরা বলছেন, তাঁরা নেই। ধরুন কমিটি ঘোষণা হচ্ছে সকাল বেলা। যাঁদের নাম ঘোষণা হচ্ছে, তাঁরা তার আগের দিনই দিল্লি চলে গিয়েছেন। কমিটি ঘোষণা হচ্ছে, যখন যাঁর নাম ঘোষণা হচ্ছে, তখন তিনি হয়তো আমাদের ঘরে বসে রয়েছেন। পদত্যাগ করছেন।”
আরও পড়ুন: জুনের শেষ সপ্তাহে দক্ষিণে বৃষ্টি ও বজ্রবিদ্যুৎ সহ ঝড়ের দাপট, উত্তরবঙ্গেও ভারী বৃষ্টির সতর্কতা
তৃণমূলকে কমিটি তৈরি নিয়ে এদিন সাজেশনও দেন ঋতব্রত। তিনি বলেন, “আমাদের সাজেশন হচ্ছে, যে এই সব কমিটি ঘোষণা ভাল। শুধু জেনে নিতে হবে। মানে যাঁদের নাম ঘোষণা করছেন, তাঁদের সঙ্গে যদি একটু কথা বলে করেন, তাহলে আর এই বিড়ম্বনায় পড়তে হয় না আর কি। মানে যত এই সব কাণ্ড ঘটছে, বোঝা যাচ্ছে যে সং আছে, গঠন নেই। প্রতিদিন তা প্রমাণিত হচ্ছে।”
তাহলে দলে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের জায়গা কোথায়? উত্তরে ঋতব্রত জানান, “প্রধান পরামর্শদাতা হিসাবে উনি কোনও পরামর্শ দিতে চাইলে, আমরা সেটা গ্রহণ করব। চাটার্ড অভিষেকের কোনও জায়গা নেই। আর আজকে দেখেছেন, আমাদের যে কমিটি। অরূপ রায় একজন বর্ষীয়ান রাজনীতিবিদ। প্রথম দিন, অর্থাৎ তৃণমূল কংগ্রেস গঠনের সময় থেকে আছেন। অরূপদা আমাদের চেয়ারপার্সন।”
সব অবৈধ, বললেন বিধায়ক সন্দীপন সাহা। তিনি বললেন, “ন্যাশনাল ওয়ার্কিং কমিটি আজ অ্যানাউন্স করা হয়েছে। ন্যাশনাল ওয়ার্কিং কমিটি ছাড়া বাকি কারও অধিকার নেই কাউকে শোকজ করার। কাজেই কে শোকজ করল, কে শোকজ করল না, এটার এখন কোনও অর্থ নেই। ন্যাশনাল ওয়ার্কিং কমিটি যেটা ঠিক করেছে, সেটাই বৈধ। বাকি সব অবৈধ।”
Aroop Biswas: “আমি তৃণমূল, তৃণমূল, তৃণমূল”, আর যা বললেন অরূপ বিশ্বাস…
