কলকাতা : বিধানসভায় তুমুল হইহট্টগোল। মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী বক্তব্য রাখার সময় বিক্ষোভ দেখালেন বিরোধীদের একাংশ। সেইসময় ‘কালীঘাট-তৃণমূল’-এর পক্ষে কুণাল ঘোষ মুখ্যমন্ত্রীর উদ্দেশে আবেদন জানান। যার ভিত্তিতে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, “আপনাদের এই দৈন্যদশার জন্য আমরা দায়ী না। আপনারা নিজেরাই দায়ী। আপনাকে আমি বলব, ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়, সন্দীপন সাহা অভিযোগ করেছিলেন। পুলিশ ব্যবস্থা নিয়েছে। আপনারা যদি ওঁদের বিরুদ্ধে কোনও চুরি, দুর্নীতি, ত্রিপল লুকিয়ে রাখা, অবৈধ সম্পত্তি করা, যদিও কোনও তথ্য থেকে থাকে লিখিতভাবে দেবেন, আমরা ব্যবস্থা নেব। কথা দিলাম।”
বিস্তারিত…
তৃণমূলের সই জালিয়াতিকাণ্ড যাঁরা সামনে এনেছিলেন, সেই ঋতব্রত বন্দ্য়োপাধ্য়ায় ও সন্দীপন সাহার হাত ধরেই, তৈরি হয়েছে নতুন তৃণমূল। ঋতব্রত বন্দ্য়োপাধ্য়ায়কেই বিরোধী দলনেতা হিসেবে প্রথমপর্বে সমর্থন করেন তৃণমূলের ৫৮ জন বিধায়ক। পরে আরও কয়েকজন তাঁদের শিবিরে শামিল হয়েছে বলে দাবি । ডেপুটি লিডার হন সন্দীপন সাহা।
তাঁদের হাত ধরে সামনে এসেছে তৃণমূলের সই জালিয়াতি। নিজেদের বিধায়করাই পর্দা ফাঁস করেছে প্রাক্তন শাসকদলের। তৃণমূল শীর্ষ নেতৃত্ব তড়িঘড়ি তাঁদের বহিষ্কার করলেও, সেই ঋতব্রত বন্দ্য়োপধ্য়ায় ও সন্দীপন সাহার হাত ধরেই, মমতা বন্দ্য়োপাধ্য়ায়ের হাতে গড়া তৃণমূল ভেঙে, তৈরি হয় নতুন তৃণমূল।
তৃণমূলের সই জালিয়াতি পর্দাফাঁস করেছেন তৃণমূলের টিকিটে জয়ী হওয়া, উলুবেড়িয়া পূর্বের ঋতব্রত বন্দ্য়োপাধ্য়ায় এবং এন্টালির বিধায়ক সন্দীপন সাহা। শোভনদেব চট্টোপাধ্যায় বিরোধী দলনেতা হবেন— এই মর্মে একটি প্রস্তাব নিয়েছিল তৃণমূল। দলের বিধায়কদের সই-সহ সেই প্রস্তাব জমা দেওয়া হয় বিধানসভায়। সূত্রের খবর, সেখানে কয়েকজন তৃণমূল বিধায়কের সই নিয়ে বিধানসভার অফিসারদের সন্দেহ হয়। এনিয়ে বিধানসভার সচিবের তরফে হেয়ার স্ট্রিট থানায় অভিযোগ জানানো হয়।
এই মামলায় তদন্তে অগ্রগতির সঙ্গে সঙ্গে ‘কালীঘাট-তৃণমূল’ শিবির অর্থাৎ মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্বে চলা শিবিরে দূরত্ব চরমে পৌঁছায়। পরবর্তী সময়ে ঋতব্রত-তৃণমূলে শামিল হন আরও অনেক সিনিয়র নেতা। অন্যদিকে, কালীঘাট-তৃণমূলে রয়েছেন কুণাল ঘোষ, শোভনদেব চট্টোপাধ্যায়, মদন মিত্রদের মতো বিধায়করা। কালীঘাট-তৃণমূল’ বনাম ঋতব্রত-তৃণমূল-এর এই দ্বন্দ্বের মধ্যে বারবার ঋতব্রতর বিরুদ্ধে আক্রমণ শানিয়েছেন কুণাল ঘোষ। এদিনও তিনি আক্রমণ শানান ঋতব্রতর বিরুদ্ধে।
প্রেক্ষাপটে অবশ্যই,তৃণমূলের বড় অংশের রাশ ঋতব্রতদের হাতে চলে যাওয়া। ফিরহাদ হাকিম-অরূপ বিশ্বাসের মতো নেতারাও মমতা বন্দ্য়োপাধ্য়ায়ের থেকে দূরে সরে গেছেন। সরাসরি বিদ্রোহীদের দিকেই চলে গেছেন তাঁরা। এবার মমতা বন্দ্য়োপাধ্য়ায়ের একদা আরেক ছায়াসঙ্গী জ্য়োতিপ্রিয় মল্লিক মঙ্গলবার ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়ের সঙ্গে দেখা করেছেন। কাজেই কালীঘাট-তৃণমূল ক্রমশ ক্ষয়িষ্ণু।
Aroop Biswas: “আমি তৃণমূল, তৃণমূল, তৃণমূল”, আর যা বললেন অরূপ বিশ্বাস…
(স্টোরিটি এই মুহূর্তে ব্রেক করা হয়েছে, আপডেট করা হচ্ছে I সাম্প্রতিকতম আপডেট পেতে রিফ্রেশ করুন)
