দুর্গাপুজো নিয়ে বিরাট পরিকল্পনা বিজেপি সরকারের, রাজ্যে এবার ‘শক্তিপীঠ সার্কিট’, বড় ঘোষণা বাজেটে


কলকাতা : দুর্গাপুজো নিয়ে কী ভাবছে বিজেপি সরকার। এ বছর কি পুজোর অনুদান দেওয়া হবে ক্লাবগুলিকে ? বাজেটে এই বিষয়ে কি কোনও উল্লেখ থাকবে, এই নিয়ে , তা নিয়ে অনেকেই আগ্রহী ছিলেন। বাজেট বক্তৃতায় পশ্চিমবঙ্গের দুর্গাপুজো নিয়ে সরকারের বিস্তারিত পরিকল্পনা ও অন্যান্য মন্দিরগুলি নিয়েও সরকারের ভাবনা জানালেন ড. স্বপন দাশগুপ্ত। 

রাজ্যের পর্যটন ও সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যকে বিশ্বমঞ্চে আরও তুলে ধরতে একাধিক বড় ঘোষণা করলেন অর্থমন্ত্রী স্বপন দাশগুপ্ত। সোমবার বিধানসভায় বাজেট পেশ করতে গিয়ে তিনি জানান, দুর্গাপুজোকে কেন্দ্র করে শুরু হবে বিশেষ আন্তর্জাতিক পর্যটন ব্র্যান্ডিং অভিযান। পাশাপাশি রাজ্যের বিভিন্ন ঐতিহ্যবাহী মন্দির ও ধর্মীয় স্থানের উন্নয়নে পুনর্গঠন করা হবে ‘হেরিটেজ কমিশন’ এবং গড়ে তোলা হবে ‘বেঙ্গল শক্তিপীঠ সার্কিট’।

অর্থমন্ত্রী বলেন, “দুর্গাপূজা হল বাংলার সাংস্কৃতিক আত্মা। এর আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি পশ্চিমবঙ্গকে বিশ্বের অন্যতম সাংস্কৃতিক পর্যটন গন্তব্য হিসেবে প্রতিষ্ঠা করার সুযোগ এনে দিয়েছে।”

সরকারের পরিকল্পনা অনুযায়ী, ‘দুর্গাপূজা—এক বিশ্বজনীন উৎসব, বাংলার চিরন্তন আবেগ’ এই থিমকে সামনে রেখে দেশ-বিদেশে প্রচার চালানো হবে। দুর্গাপুজোর থিম প্যান্ডেল, ঐতিহ্যবাহী আচার-অনুষ্ঠান, শিল্প, সংগীত এবং সম্প্রীতির বার্তাকে পর্যটনের মূল আকর্ষণ হিসেবে তুলে ধরা হবে। পর্যটকদের জন্য বিশেষ ট্যুর প্যাকেজ, ডিজিটাল গাইড, উন্নত দর্শনার্থী পরিষেবা এবং আন্তর্জাতিক প্রচারাভিযানেরও পরিকল্পনা রয়েছে।

বাজেটে আরও ঘোষণা করা হয়েছে, কালিঘাট, তারাপীঠ, জোড়াসাঁকো ঠাকুরবাড়ি, মদনমোহন মন্দির, জল্পেশ মন্দির, ঠাকুরনগর ঠাকুরবাড়ি, মা কল্যাণেশ্বরী, তারকেশ্বর, কঙ্কালীতলা, কিরিটেশ্বরী-সহ একাধিক ঐতিহ্যবাহী ধর্মীয় ও সাংস্কৃতিক কেন্দ্রের সংরক্ষণ ও পুনরুদ্ধারের জন্য পুনর্গঠন করা হবে ‘হেরিটেজ কমিশন’।

একইসঙ্গে ধর্মীয় পর্যটনকে আরও সহজ ও আকর্ষণীয় করতে তৈরি হবে ‘বেঙ্গল শক্তিপীঠ সার্কিট’। এই প্রকল্পের আওতায় ভ্রামরীদেবী, নন্দীকেশ্বরী, তারাপীঠ, বক্রেশ্বর, ফুল্লরা এবং কঙ্কালীতলা-সহ বিভিন্ন শক্তিপীঠকে একটি পর্যটন নেটওয়ার্কের মাধ্যমে যুক্ত করা হবে। নির্দিষ্ট জেলা শহরকে কেন্দ্র করে তৈরি হবে হাব-অ্যান্ড-স্পোক মডেলের পর্যটন ব্যবস্থা।

এছাড়াও অর্থমন্ত্রী জানান, ‘ভারত সরকারের সহযোগিতায় আমাদের সরকার গঙ্গাসাগর মেলাকে একটি আন্তর্জাতিক, আধ্যাত্মিক ও সাংস্কৃতিক উৎসবে রূপান্তরিত করতে সচেষ্ট হবে। একইভাবে জগদ্ধাত্রী পুজো, তারকেশ্বর মেলা, বারুণী মেলা, রাস মেলা, জল্পেশ মেলা এবং এই ধরনের অন্যান্য উৎসবকে জাতীয় উৎসবে রূপান্তরিত করা হবে।’ সরকারের মতে, এই উদ্যোগ বাস্তবায়িত হলে পশ্চিমবঙ্গের ধর্মীয় ও সাংস্কৃতিক পর্যটন নতুন গতি পাবে। একইসঙ্গে স্থানীয় অর্থনীতি, ক্ষুদ্র ব্যবসা এবং কর্মসংস্থান বৃদ্ধিতেও ইতিবাচক প্রভাব পড়বে।  



Source link

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *