পশ্চিম এশিয়ায় পরিস্থিতির উন্নতি, বাণিজ্যিক LPG সরবরাহের ওপর বিধিনিষেধ প্রত্যাহার কেন্দ্রের


নয়াদিল্লি : পরিস্থিতির উন্নতি হচ্ছে পশ্চিম এশিয়ায় (West Asia)। এই আবহে শিল্প ও বাণিজ্যিক LPG ক্রেতাদের জন্য স্বস্তির খবর। কেন্দ্রীয় সরকার অ-গৃহস্থালি এলপিজি (Non-Domestic Packed LPG) সরবরাহের ওপর থেকে বিধিনিষেধ তুলে নিল। সরবরাহ ব্যবস্থা ফিরিয়ে নিয়ে গেল সঙ্কটের আগের অবস্থায়। পশ্চিম এশিয়ায় সংঘাত মেটানোর লক্ষ্যে আমেরিকার ও ইরানের মধ্যে স্বাক্ষরিত মউ হরমুজ প্রণালী পুনরায় খুলে দেওয়ার পথ প্রশস্ত করেছে। গুরুত্বপূর্ণ এই জলপথ দিয়েই ভারতের অপরিশোধিত তেল ও এলপিজি আমদানির একটি বড় অংশ পরিবাহিত হয়। এই পরিস্থিতিতে উপরের গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্তের কথা বৃহস্পতিবার ঘোষণা করেছে কেন্দ্রীয় পেট্রোলিয়াম ও প্রাকৃতিক গ্যাস মন্ত্রক।

প্রেক্ষাপট…

পশ্চিম এশিয়ায় উত্তেজনা কমাতে গত ১৭ জুন মউ স্বাক্ষর করেছে ইরান ও আমেরিকা। তাতে ১৪টি পয়েন্ট উল্লেখ করা হয়েছে। আরও সমঝোতার রাস্তাও তৈরি করে রেখেছে উভয়পক্ষ। গত ২৮ ফেব্রুয়ারি ইরান ও আমেরিকার মধ্যে সংঘর্ষ শুরু হয়েছিল। সেই পরিস্থিতিতে হরমুজ প্রণালী দিয়ে অবাধ জাহাজ চলাচল এবং জ্বালানি ও বাণিজ্যের নিরবচ্ছিন্ন প্রবাহ নিশ্চিত করার ওপর জোর দেয় ভারত। ইরান কর্তৃপক্ষ এই প্রণালীটি অনেকাংশে বন্ধ করে দিয়েছিল। গুরুত্বপূর্ণ এই জলপথ এখন কোন পরিস্থিতিতে দাঁড়িয়ে, সেই প্রশ্নের উত্তর দিতে গিয়ে দিনকয়েক আগে বিদেশ মন্ত্রকের মুখপাত্র রণধীর জয়সওয়াল বলেন, “বর্তমানে পারস্য উপসাগরীয় অঞ্চলে ভারতীয় পতাকাবাহী ১০টি জাহাজ অবস্থান করছে। সংঘাত শুরুর সময় এগুলি সেখানে আটকা পড়েছিল। তবে এই ১০টি ছাড়াও আরও দু’টি ভারতীয় জাহাজ এদিক থেকে পারস্য উপসাগরে প্রবেশ করেছে; অর্থাৎ, সেখানে এখন জাহাজ-চলাচল অব্যাহত রয়েছে।” জয়সওয়াল আরও জানান, গত ১৭ জুন ইরান ও আমেরিকার মধ্যে মউ স্বাক্ষরের পর থেকে ভারতগামী ১১টি জাহাজ হরমুজ প্রণালী অতিক্রম করেছে। এই জাহাজগুলোর মধ্যে রয়েছে ভারতের পতাকাবাহী তিনটি তেলবাহী ট্যাঙ্কার (যার প্রতিটিতে ২ লক্ষ ৮৫ হাজার মেট্রিক টন অপরিশোধিত তেল আছে), একটি বিদেশি পতাকাবাহী অপরিশোধিত তেলের ট্যাঙ্কার, একটি বিদেশি পতাকাবাহী এলপিজি (LPG)বাহী জাহাজ এবং সার বহনকারী ছয়টি বিদেশি পতাকাবাহী বাল্ক কেরিয়ার।

এই পরিস্থিতিতে তেল বিপণনকারী কোম্পানিগুলি (OMCs) এখন যুদ্ধের আগের স্বাভাবিক অবস্থার মতো অ-গৃহস্থালি এলপিজি (LPG) সরবরাহ করবে। সরকার এলপিজি (LPG) সরবরাহের বিধিনিষেধ শিথিল করেছে। এর আওতায় বাণিজ্যিক ও শিল্প খাতের গ্রাহকদের জন্য সঙ্কটের আগের সময়ের মতো ব্যবহারের সর্বোচ্চ ৫০ শতাংশ পর্যন্ত এলপিজি সরবরাহের অনুমতি দেওয়া হয়েছে। সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, এর ফলে শিল্প প্রতিষ্ঠানগুলির কার্যক্রম আরও সুষ্ঠুভাবে পুনরায় চালু করা সম্ভব হবে।

আমেরিকা ও ইজরায়েলের হামলার জবাবে ইরানের হরমুজ প্রণালী বন্ধ করে দেওয়ার ফলে সৃষ্টি হওয়া সঙ্কটের সময় কেন্দ্রীয় সরকার ‘অত্যাবশ্যকীয় পণ্য আইন’-এর আওতায় বিধিনিষেধ আরোপ করেছিল। এছাড়া, যাতে কোনও ঘাটতি দেখা না দেয়, সেজন্য নির্দিষ্ট কিছু গ্যাস (C3 ও C4) শুধুমাত্র এলপিজি (LPG) উৎপাদনের কাজেই ব্যবহারের বিষয়টিও নিশ্চিত করা হয়েছিল।



Source link

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *