নিউ ইয়র্ক: ফলাফলটা যে এরকমই হবে, তা মোটামুটি সবাই জানত। কিন্তু রাউন্ড অফ ৩২তে যেভাবে পরপর দুটো অঘটন হয়েছে, জার্মানি ও নেদারল্যান্ডসের ছিটকে যাওয়া। তারপর কোথাও গিয়ে মনে হয়েছিল যে একটা বেগ দিতেই পারে সুইডেন। কিন্তু না, তা আর হল না। বরং এমবাপে, বার্কোলাদের গতি ও স্কিলের সামনে রীতিমতো নাকানিচোবানি খেল সুইডেন। যার ফল মিলল খেলার শেষেই। সুইডেনের বিরুদ্ধে ৩-০ ব্যবধানে জিতে টুর্নামেন্টের শেষ ষোলোয় জায়গা পাকা করে নিল দিদিয়ের দেঁশর ছেলেরা। ম্যাচে জোড়া গোল করলেন এমবাপে, একটি গোল করলেন বার্কোলা।
খেলায় ফেভারিট হিসেবেই মাঠে নেমেছিল ফ্রান্স। কিন্তু এর আগে ইউরো কাপের মঞ্চে সুইডেন হারিয়েছে ফ্রান্সকে। সেই একটা ইতিহাস কিছুটা উজ্জীবিত করতেই পারত গ্রাহাম পটারদের। কিন্তু তার জন্য তো জমি ছাড়তে হবে ফরাসিদের। যা এক ইঞ্চিও ছাড়লেন না ফ্রান্স শিবির। খেলার প্রথমার্ধে পুরোটাই ক্রমাগত আক্রমণ। যাতে দিশেহারা হয়ে যাওয়ার অবস্থা আয়ারি, বার্জভলদের। কিন্তু ফ্রান্স গোলমুখ খুললেন সেই কিলিয়ান এমবাপেই। ফরাসি অধিনায়ক খেলার ৪৫ মিনিটের মাথায় গোল করে দলকে এগিয়ে দিলেন। বিশ্বকাপের মঞ্চে নক আউটে সবচেয়ে বেশি গোল করাই শুধু নয়, টুর্নামেন্টের ইতিহাসে সর্বাধিক গোলর নিরিখে টপকে গেলেন জার্মান কিংবদন্তি মিরোস্লোভার ক্লোজেকে। প্রথমার্ধে বাঁশি বাজার আগেই সুইডেন সমতা ফেরাতে পারত, কিন্তু সুযোগ মিস করেন সুইডিশ স্ট্রাইকার।
দ্বিতীয়ার্ধে শুরু থেকে নিজেদের আক্রমণ আরও ঝাঁঝালো করে দেয় ফ্রান্স। গোটা ম্যাচে ফ্রান্সে মোট ২৫টি শট মেরেছে, তার মধ্যে অন টার্গেট ছিল ১৩টি শট। সেখানে সুইডেন ৮টি শটের মধ্যে অন টার্গেট ছিল মাত্র ৩টি শট। কতটা একরোখা প্রতিরোধ গড়েছিল খেলার দেঁশর ছেলেরা, তা এর থেকেই অনুমেয়। খেলার ৫৩ মিনিটের মাথায় ফের এগিয়ে যায় ফ্রান্স। এবার গোল করেন বার্কোলা। ওলিসের অ্যাসিস্ট থেকে গোল করেন ফরাসি তারকা। ২ গোল হজম করার পরও খেলায় ফেরার চেষ্টা করেছিল সুইডেন। তাঁদের কোচ গ্রাহাম ডিফেন্ডার স্ট্রাউডকে বসিয়ে মাঠে নামার স্ট্রাইকার আলিকে। যদি কিছু পরিবর্তন হয় খেলায়, সেই আশায়। কিন্তু কোথায় কি! এর মধ্যেই ৭৪ মিনিটের মাথায় সুইডেনের কফিনে শেষ পেরেকটি পুঁতে দেন এমবাপে।
FIFA World Cup 2026: মহাকাশে বিশ্বকাপের ফুটবল! ‘Trionda’ নিয়ে গবেষণা করছে NASA?
