Sebaashray Controversy: রোগ শুনে মোবাইল দেখে প্রেসক্রিপশন লিখে দিতেন সেবাশ্রয়ের চিকিৎসক! ভয়ঙ্কর অভিযোগ


কলকাতা: একের পর এক বিতর্কে, অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের (Abhishek Banerjee) ‘সেবাশ্রয়’। ‘সেবাশ্রয়’ নিয়ে ফের FIR রুজু হল অভিষেক বন্দ্যোপাধ্য়ায়ের বিরুদ্ধে। ডায়মন্ড হারবার থানার পরে, এবার বিষ্ণুপুর থানার মামলায় FIR রুজু করল পুলিশ। FIR-এ অভিষেক বন্দ্য়োপাধ্য়ায়ের পাশপাশি নাম রয়েছে তাঁর PA সুমিত রায়, বিষ্ণুপুরের তৃণমূল বিধায়ক দিলীপ মণ্ডল, মগরাহাট পশ্চিমের তৃণমূল বিধায়ক শামিম আহমেদ, ধৃত তৃণমূল নেতা জাহাঙ্গির খান সহ একাধিকের। পুলিশ সূত্রে দাবি, BNS-এর একাধিক ধারা-সহ Drug and Cosmetics Act, PCPNDT Act, Atomic Energy Act-এ মামলা রুজু হয়েছে।

মোবাইল দেখে ৬-৭ পাতার প্রেসক্রিপশন লিখে দিতেন চিকিৎসক!

এখানেই শেষ নয়, ‘সেবাশ্রয়’-এ যাওয়া একাধিক ব্যক্তিরা অভিযোগ করেছেন, সেখানে চিকিৎসা করা হত মোবাইল দেখে! দক্ষিণ ২৪ পরগনার হরিণডাঙার বাসিন্দা শ্যামল হালদার বলছেন, ‘সেবাশ্রয় ক্যাম্পে যাওয়া বাধ্যতামূলক ছিল। বাড়ি বাড়ি এসে হুমকি দিয়ে বলে গিয়েছিল যেতেই হবে ক্যাম্পে। না গেলে অন্যান্য সুযোগ-সুবিধা মিলবে না। জলের, বিদ্যুতের লাইন কেটে দেওয়া হবে। মারধর তো ছিলই। রীতিমতো ভয়ের বাতাবরণ তৈরি করেছিল জাহাঙ্গীরের চ্যালাচামুন্ডারা’। শুধু তাই নয়, অভিযোগ উঠেছে, ‘সেবাশ্রয়’ ক্যাম্পে মোবাইল ফোন দেখে করা হচ্ছিল রোগীর চিকিৎসা। ফলতার বাসিন্দা মঞ্জু মাকাল, বুক ধড়ফড় করার সমস্যা নিয়ে গিয়েছিলেন সেবাশ্রয়ে। মহিলার দাবি, শিবিরে গিয়ে বলতেই মোবাইল ফোন দেখে দেখে ৬-৭ পাতার প্রেসক্রিপশন লিখে দেন চিকিৎসক।

বিশেষজ্ঞ বলে নিয়ে আসা হত আয়ুর্বেদিক, হোমিওপ্যাথি, ডেন্টাল পড়ুয়াকে! 

বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের বদলে কার্যত ডাক্তারি ছাত্রদের এনে চিকিৎসার পাশাপাশি বিনামূল্যে চিকিৎসা শিবিরের আড়ালে ঘুরিয়ে ‘স্বাস্থ্যসাথী’ থেকে কোটি কোটি টাকা তুলে নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। ‘সেবাশ্রয়’ এবং ‘সেবাশ্রয় ২’-এর চিকিৎসক ও কো-অর্ডিনেটর মনবুর আলি বলছেন, ‘ক্যাম্পে বেশিরভাগ ডাক্তার যারা আসছিল, তারা আয়ুর্বেদিক, হোমিওপ্যাথি, ডেন্টাল। ম্যাক্সিমাম স্টুডেন্ট। আয়ুর্বেদিক স্টুডেন্ট, হোমিওপ্যাথি স্টুডেন্ট।  যারা আসত তার মধ্যে অধিকাংশ স্টুডেন্ট ছিল আয়ুর্বেদিক। পাস করা আয়ুর্বেদিক খুব কমই ছিল। কয়েকজন। ম্যাক্সিমামই সব স্টুডেন্ট ছিল। সেটা সম্পূর্ণভাবে বেআইনি। এভাবে মানুষকে নিয়ে ছিনিমিনি খেলাটা একদম অপরাধযোগ্য।’

‘সেবাশ্রয়’-এর নাম করে স্বাস্থ্যসাথীর টাকা নিয়ে কারচুপি!

‘সেবাশ্রয়’ এবং ‘সেবাশ্রয় ২’-এর চিকিৎসক ও কো-অর্ডিনেটর মনবুর আলি বলছেন, ‘প্রাইভেট হাসপাতালে পাঠাচ্ছে, ১০-১২ জন করে পেশেন্টকে বুঝিয়ে ভর্তি রাখছে, যে তোমার ফ্রিতে হয়ে যাবে। গরিব মানুষ তারা একটা MRI করাতে গেলে দেখছে ফ্রিতে হয়ে যাবে, ১০-১২ দিন করে ভর্তি রাখা হচ্ছে, সেই যে ১০-১২ দিন ভর্তি রাখল, স্বাস্থ্য়সাথী কার্ডের মাধ্য়মে সেখানে টাকা তোলা হয়েছে।’ এভাবে ঠিক কত টাকা তোলা হয়েছে?  অভিযোগকারী চিকিৎসকের দাবি, অঙ্কটা মাথা ঘুরিয়ে দেওয়ার মতো! সাধারণ সরকারি হাসপাতালে যে চিকিৎসা বিনামূল্যে পাওয়া যায়, সেটাই বেসরকারি হাসপাতালে গেলে, প্রতিদিন সব মিলিয়ে ২-৩ হাজার টাকা খরচ পড়ত। অর্থাৎ একজন রোগীকে ১০ দিন বেসরকারি হাসপাতালে ভর্তি রাখতে পারলেই মিলত ৩০ থেকে ৪০ হাজার টাকা। প্রতিদিন বিভিন্ন বেসরকারি হাসপাতালে ১০০ জন রোগীকে ভর্তি করলে টাকার অঙ্কটা ৩ থেকে ৪ কোটি!

 

আরও পড়ুন: Aamir Khan Marriage: বৃষ্টিভেজা বিকেলে সইসাবুদের বিয়ে সারলেন আমির-গৌরী, আসরে হাজির প্রাক্তন স্ত্রী-সন্তানেরাও!

 



Source link

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *