লন্ডন: চার বছর পর গ্র্যান্ডস্লামের মঞ্চে ফিরেছিলেন। উইম্বলডনে সিঙ্গলসে খেলতে নেমে যদিও প্রথম রাউন্ডেই হারতে হয়েছিল সেরেনা উইলিয়ামসকে। কিন্তু এবার ডাবলস থেকে নামই তুলে নিলেন মহিলা টেনিস কিংবদন্তি। শনিবার বিকেলে অল ইংল্যান্ড ক্লাবে অনুষ্ঠিত নারী ডাবলস টুর্নামেন্ট থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে নাম প্রত্যাহার করলেন সেরেনা। তিনি তাঁর হাঁটুর চোটের জন্য নাম তুলে নিলেন সেরেনা। নিজের বোন ভেনাস উইলিয়ামসের সঙ্গে জুটি বেঁধে ৪৪ বছর বয়সি এই মহিলা টেনিস কিংবদন্তি মাঠে নামতে চলেছিলেন। কিন্তু খেলার আগেই নিজের নাম প্রত্যাহার করে নেন সেরেনা।
২০২২ সালে যুক্তরাষ্ট্র ওপেনে শেষবার খেলতে নেমেছিলেন গ্র্যান্ডস্লামে। এরপর সিঙ্গলসে উইম্বলডনের মঞ্চে অস্ট্রেলিয়ার মায়া জয়েন্টের বিরুদ্ধে খেলতে নেমে তিন সেটের লড়াই শেষে হার মানেন সেরেনা। এরপর ডাবলসে নামার কথা ছিল গত শনিবার। কিন্তু আগে থেকেই চোটের জন্য নাম তুলে নিলেন সেরেনা। নিজের সোশ্য়াল মিডিয়ায় এক আবেগপূর্ণ পোস্ট করে সেরেনা লিখেছিলেন, ‘ডাবলস থেকে নাম প্রত্যাহার করতে হওয়ায় আমি ভেঙে পড়েছি রীতিমত। অসাধারণ সমর্থনের জন্য ও এই প্রত্যাবর্তনকে এত অর্থবহ করে তোলার জন্য ভক্তদের ধন্যবাদ। আবার প্রতিযোগিতায় ফিরে আসাটা ছিল একটি উপহার, আর ভেনাসের সঙ্গে আবার খেলার সুযোগ আমার কাছে পৃথিবীর সবকিছু।’
চলতি উইম্বলডনের প্রথম রাউন্ডে যদিও হাঁটুর বয়সি প্রতিদ্বন্দ্বী ২০ বছর বয়সি অস্ট্রেলিয়া মায়া জয়েন্টের বিরুদ্ধে হেরে গিয়েছিলেন আমেরিকান টেনিস ক্য়ুইন সেরেনা উইলিয়ামসকে। তিনি ম্যাচ হেরেছিলেন ৩-৬, ৭-৬ (৮-৬), ৩-৬ ব্যবধানে। প্রথম গেমে কিছুটা সমস্যায় পড়তে হয়েছিল দীর্ঘদিন পরে গ্র্যান্ডস্লাম খেলতে নামা সেরেনাকে। সেই গেমে ৩-৬ ব্যবধানে হেরে যান তিনি। কিন্তু দ্রুত খেলায় ফিরে আসেন। দ্বিতীয় গেমেই পাল্টা লড়াই। ম্য়াচও ঝুলিতে পুরে নিয়েছিলেন। এই বয়সেও দুই সন্তানের সামনে সেরিনা প্রমাণ করে দিলেন, তাঁকে হারানো সহজ নয়। কোর্টে নিজেকে নিংড়ে নিয়েছিলেন। সার্ভ, ব্যাক হ্যান্ড আগের মত শক্তিশালী হয়ত নয়। কিন্তু প্রতিপক্ষকে চাপে ফেলার জন্য এখনও যে কোর্টে যথেষ্টা আলোড়ন ফেলে দেওয়া টেনিস খেলেন, তা দেখিয়ে দিয়েছেন সেরেনা। সেরেনা ম্য়াচের পর সাংবাদিকদের মুখোমুখি হননি। কিন্তু উইম্বলডনের পক্ষ থেকে বিবৃতি দিয়ে জানানো হয়েছে, ‘উইম্বলডনের মঞ্চে ফিরতে পারাটা সত্যিই আমার কাছে বিরাট একটা প্রাপ্তি। আমি ফের ফিরতে পারব এমনটা কখনও ভাবিনি। উইম্বলডনের পরিবেশ সত্যিই অসাধারণ ছিল। প্রতিটা মুহূর্ত দারুণভাবে উপভোগ করেছি আমি।’
