বারুইপুর: নাবালিকার যৌন নির্যাতন এবং খুনের ঘটনার পর সোশাল মিডিয়ায় শান্তনু মণ্ডল নামে এক বিজেপি নেতার কথা উঠে এসেছে। কেউ কেউ অভিযোগ করেছেন, বিজেপি নেতা শান্তনু মণ্ডল নাকি এক অভিযুক্তকে ছাড়িয়ে নিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করেন। কিন্তু, ইতিমধ্য়ে যেসব ভিডিও সামনে এসেছে এবং সোশাল মিডিয়ায় ভাইরাল হয়েছে, তা কিন্তু উল্টো কথা বলছে। ভাইরাল হওয়া একটি অডিও ক্লিপে শোনাও গিয়েছে যে, অভিযুক্তকে মারধর না করে পুলিশের হাতে তুলে দিতে বলেছিলেন শান্তনু মণ্ডল।
বারুইপুরের ঘটনায় দোষীদের কঠোর শাস্তির দাবিতে সরব সকলেই। এর মধ্য়েই সোশাল মিডিয়ায় উঠে এসেছে শান্তনু মণ্ডল নামে এক বিজেপি নেতার কথা। কেউ কেউ অভিযোগ তুলতে শুরু করেছেন, বিজেপি নেতা শান্তনু মণ্ডল নাকি এক অভিযুক্তকে ছাড়িয়ে নিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করেন। কিন্তু বিষয়টা আসলেই কি তাই?
ইতিমধ্য়ে যেসব ভিডিও সামনে এসেছে এবং সোশাল মিডিয়ায় ভাইরাল হয়েছে, তা কিন্তু উল্টো কথা বলছে। সেখানে দেখা যাচ্ছে, শান্তনু মণ্ডলই অভিযুক্তকে পুলিশের হাতে তুলে দেন। এমনই এক ভিডিওতে শান্তনু মণ্ডলকে বলতে শোনা যায়, “মুখ্যমন্ত্রীকে আবেদন করব যাতে এই রকম জানোয়াররা সমাজের বুকে চলতে না পারে। আর কিছু ভাষা নেই।”
সোশাল মিডিয়ায় একটি অডিও ক্লিপ ভাইরাল হয়েছে, যেখানে দাবি করা হয়েছে, শান্তনু মণ্ডল ফোনের অপর প্রান্তে থাকা এক ব্য়ক্তিকে বলছেন, অভিযুক্তকে না মেরে থানার হাতে তুলে দিতে। ভাইরাল হওয়া একটা ভিডিওতে দেখা গিয়েছে এক অভিযুক্তকে ধরে নিয়ে যাচ্ছেন শান্তনু মণ্ডল। এখানে তাঁকে বলতে শোনা যায়, “কাল আমার ফেসবুকে একটা মেয়ের মিসিংয়ের জন্য় পোস্ট করেছিলাম। আজ একটা আসামীকে প্রথমে জেরা করার জন্য় ধরা হয়েছিল। জিজ্ঞাসাবাদ করার পরে অনেক তৎপরতার সঙ্গে ওকে নিয়ে স্পটে এসেছিলাম। মর্মান্তিক ঘটনা বাচ্চাটাকে নৃশংসভাবে ** করে, মার্ডার করেছে। বাড়ির লোক ক্ষিপ্ত হয়ে ওকে মেরে ফেলতে চাইছিল। পালিয়েছে ওখান থেকে। এই অবস্থা দেখুন। ওকে ধরেছি। এরকম সমাজের কীট-পতঙ্গগুলোকে কী করা উচিত আপনি দেখুন। একটা বাচ্চা ১২ বছর বয়সের, আপনি ভেবে দেখুন, ভেবে দেখুন একবার। এই জানোয়ারগুলোর কী করা উচিত।”
এখান থেকে অভিযুক্তকে টোটোয় বসিয়ে নিয়ে যান শান্তনু মণ্ডল। আরেকটি ভিডিওতে ছবিতে দেখা যায়, থানার সামনে দাঁড়িয়ে বিজেপি নেতা শান্তনু মণ্ডল বলছেন, কীভাবে অভিযুক্তর হদিশ মিলেছে এবং পুলিশের সাহায্য়ে তাঁকে ধরা হয়েছে। সেখানে তাঁকে বলতে শোনা যায়, “প্রতিবেশীদের তৎপরতার সঙ্গে কিছু CCTV ফুটেজ আমরা চেক করি। চেক করার পর দেখা যায়, ওখানে একজন ব্য়ক্তি ওই বাচ্চাটাকে নিয়ে যায়। আমরা খোঁজ করার পর ওই ব্য়ক্তির খোঁজ পাই। খোঁজ পাওয়ার পর পুলিশের দ্বারস্থ হয়ে আমরা ক্য়াম্পে তুলে আনি। ক্য়াম্পে তুলে আনার পর ওনাকে জিজ্ঞাসাবাদের মধ্য়ে উনি ভেঙে পড়েন এবং বলতে বাধ্য় হয়। ক্রাইম স্পটে নিয়ে যাওয়ার পর প্রেসার করা হয়, প্রেসার করার পর তখন ও বাচ্চাটার লাশটা উদ্ধার করে।”
এরপরও বিজেপি নেতা শান্তনু মণ্ডলের বিরুদ্ধে অভিযোগ তোলা হচ্ছে। বিজেপি নেতা সায়ন্তন বসু বলেন, “আমাদের দলের কোনও কর্মী এই কাজ করতে পারে না। কাউকে এই ভাবে ছড়িয়ে নিয়ে যেতে পারে না। আসামী, অপরাধীদের ছড়িয়ে নিয়ে যাবে এটা সম্ভব নয়। গণপিটুনিতে সম্ভবত একজন বা দুজনের মৃত্যু হয়েছে। পুরোটাই পুলিশ তদন্ত করে দেখবে। এদিকে, মঙ্গলবার বারুইপুর যাচ্ছেন মুখ্য়মন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী।
Suvendu Adhikari : শ্যামাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায়ের জন্মজয়ন্তীতে বাম-কংগ্রেস-তৃণমূলকে নিশানা মুখ্যমন্ত্রীর
