FIFA World Cup 2026: আর্জেন্তিনাকে ‘ম্যাচ ছাড়তে’ বাধ্য করা হয়েছিল? মেসির ভিডিও ঘিরে তোলপাড়, প্রশ্নের মুখে ফিফা


নিউ জার্সি: ম্যাচ একটি। প্রশ্ন একাধিক। বিশ্বকাপ ফাইনাল (World Cup Final) ঘিরে আচমকাই বিতর্কের মেঘ। তুঙ্গে জল্পনা। প্রশ্ন উঠছে, আর্জেন্তিনা বনাম স্পেন ম্যাচের ফল কি পূর্বনির্ধারিত ছিল?

বিশ্বকাপ ফাইনালে স্পেনের বিরুদ্ধে লড়াই চালিয়েও শেষ পর্যন্ত পরাজিত হয়েছে আর্জেন্তিনা। ১০৬ মিনিট পর্যন্ত ম্যাচের ফল ছিল গোলশূন্য। কিন্তু শেষ পর্যন্ত ফেরান তোরেসের গোলে আর্জেন্তিনাকে ১-০ হারায় স্পেন। লিওনেল মেসিদের পরপর দুবার বিশ্বকাপ জেতার স্বপ্নভঙ্গ হয়েছে নিউ জার্সির মেট লাইফ স্টেডিয়ামে।

কিন্তু ম্যাচের ৪৮ ঘণ্টা পর বিতর্কে তোলপাড় ফুটবলবিশ্ব। প্রশ্ন উঠছে, বিশ্বকাপ ফাইনাল কি স্বচ্ছতার সঙ্গে হয়েছে? নাকি বাইরের চাপের কাছে মাথা নত করতে হয়েছে আর্জেন্তিনাকে? জল্পনা আরও বাড়িয়েছে ম্যাচের আগে টানেলের মধ্যে মেসির বক্তব্যের একটি ভিডিও। যেখানে মেসিকে বলতে শোনা গিয়েছে, ‘সব ভুলে যাও, শুধু মাঠে নেমে খেলো।‘ যে বক্তব্য শোনার সময় এনজ়ো ফার্নান্দেজ়কে কাঁদতে দেখা গিয়েছে।

তারপর থেকেই জোর চর্চা। বলাবলি হচ্ছে, আর্জেন্তিনাকে কি ম্যাচ ছাড়তে বাধ্য করা হয়েছিল?

আর্জেন্তিনার প্রিমিয়ার ডিভিশনের ক্লাব অ্যাথলেতিকো ইনডিপেন্ডিয়েন্তের প্রাক্তন প্রেসিডেন্ট আন্দ্রিয়াস দুকা দুকাতেনজ়িলার বলেছেন, ‘আমাদের সঙ্গে ডাকাতি করা হয়েছে। আর্জেন্তিনা জাতীয় দলকে বাধ্য করা হয়েছিল। ফুটবলের আসল গোপন সত্য কেউ কখনও বলবে না। মেসিও বলবে না, চিকি তাপিয়াও (আর্জেন্তিনা ফুটবল সংস্থার প্রেসিডেন্ট) বলবে না। জানেন কেন? কারণ ওদের ওপর চাপ ছিল। আর্জেন্তিনাকে বাধ্য করা হয়েছিল। আর্জেন্তিনা জাতীয় দলকে বিক্রি করে দেওয়া হয়েছিল। আর এটা তাপিয়া, স্কালোনি বা খেলোয়াড়দের কারণে নয়। এটা ঘটেছে কারণ আমরা ‘ফকল্যান্ড দ্বীপপুঞ্জ আর্জেন্তিনার’ লেখা একটি ব্যানার প্রদর্শন করেছিলাম। সেই কারণেই এটা ঘটেছে। খেলোয়াড়দের সাহসের দাম দিতে হয়েছে। আমি নিশ্চিত, চিকি তাপিয়া জাতীয় দলকে ছেড়ে দিতে রাজি ছিলেন না, মেসিও ছিলেন না। কিন্তু তাদের সামনে আর কোনও উপায় ছিল না।’

এরপরই দুকার প্রশ্ন, ‘আপনারা কি সত্যিই মনে করেন, গ্রেট ব্রিটেন, ফিফা প্রেসিডেন্ট জিয়ান্নি ইনফান্তিনো, উয়েফা, ডোনাল্ড ট্রাম্প বা ফরাসি প্রেসিডেন্ট এমানুয়েল ম্যাক্রঁ ওই বিদ্রোহী খেলোয়াড়দের বিশ্বচ্যাম্পিয়ন হতে দিত এবং ফকল্যান্ডের সেই ব্যানারকে বিশ্বের ক্ষমতাধরদের সামনে টিকে থাকতে দিত?’

অভিযোগ উঠছে, ফিফার পরবর্তী নির্বাচনের কথা মাথায় রেখে কি আর্জেন্তিনাকে ম্যাচ ছাড়তে বাধ্য করেছিলেন ইনফান্তিনো? তা না হলে গোটা টুর্নামেন্টে সবচেয়ে বেশি ১৯ গোল করা আর্জেন্তিনা স্পেনের বিরুদ্ধে ম্যাচে ১২০ মিনিট গোল লক্ষ্য করে একটি শটও নিল না কেন? শুধুই কি স্পেনের আধিপত্য, নাকি নেপথ্যে রয়েছে অন্য খেলা? 

প্রশ্ন উঠছে আর্জেন্তিনার সেরা দুই ডিফেন্ডার – লিসান্দ্রো মার্তিনেজ় ও ক্রিস্তিয়ান রোমেরো চোট পেয়ে মাঠ ছাড়া নিয়ে। মাঠে অন্তত তাঁদের চোট পেতে দেখা যায়নি, তারপরেও কেন উঠে গেলেন তাঁরা? প্রশ্ন তুলছে আর্জেন্তিনা সংবাদমাধ্যমের একটা বড় অংশ। পাশাপাশি নক আউট পর্বে প্রায় প্রত্যেক ম্যাচে পরিবর্ত হিসাবে নেমে গোল করে বা করিয়ে যিনি খেলার মোড় ঘুরিয়ে দিচ্ছিলেন, সেই লউতারো মার্তিনেজ়কে নামালেনই না আর্জেন্তিনার কোচ লিওনেল স্কালোনি। কেন? তা নিয়েও ধোঁয়াশা। সেটা কি তিনি মিশর ও ইংল্যান্ডের বিরুদ্ধে গোল করেছিলেন বলে? কেন পুরো ফিট না থাকা রদ্রিগো দি পলকে শুরু থেকে খেলানো হল? ফাইনালের পর কেন কান্নায় ভেঙে পড়েন স্কালোনি? কেন সংবাদমাধ্যমের সঙ্গে খোলামেলা কথা বলতে অভ্যস্ত আর্জেন্তিনার ফুটবলাররা কোনও কথা না বলে মাঠ ছাড়েন? কেন মেসি, রদ্রিগো দে পলরা দলের সঙ্গে দেশে ফিরলেন না?

প্রশ্ন অনেক। সদুত্তর খুঁজছেন ফুটবলপ্রেমীরা।



Source link

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *