সমীরণ পাল, শিবাশিস মৌলিক ও প্রদ্যোৎ সরকার, কলকাতা: তৃণমূল জমানায় হয়েছিল বাংলার জামাতিকরণের চেষ্টা। আগের সরকারের আমলে বদলে দেওয়া হত বিসর্জনের দিন। প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রীকে পুজো নিয়ে নিশানা করলেন বর্তমান মুখ্যমন্ত্রী। পিতৃপক্ষে পুজোর উদ্বোধন নিয়ে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে কটাক্ষ করলেন শুভেন্দু অধিকারী। পাল্টা জবাব দিয়েছে কালীঘাট তৃণমূল।
আরও পড়ুন, কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই ঝোড়ো হাওয়ার সঙ্গে বৃষ্টি ? আজ রাজ্যে দুর্যোগের আশঙ্কা, কী বলছে IMD
দুর্গাপুজো নিয়ে রাজনৈতিক তরজার পারদ ক্রমশ চড়ছে। সপ্তাহের শুরুর দিনে পুজো কমিটিগুলির সঙ্গে সমন্বয় বৈঠক থেকে প্রাক্তন মুখ্য়মন্ত্রীকে নিশানা করেছিলেন বর্তমান মুখ্য়মন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। সপ্তাহের শেষ দিনে গণেশ পুজোর উদ্বোধনী অনুষ্ঠান থেকে ফের মমতা বন্দ্য়োপাধ্য়ায়কে আক্রমণ করলেন তিনি। মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী বলেন, ১৫ বছর তো জামাতিকরণ করে দিয়েছে। এক বছর দুর্গাপূজার মিটিং হচ্ছে নেতাজি ইন্ডোরে। প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী বলছেন, এবছর বিজয়া দশমির দিন ঠাকুর ভাসানে যাবে না। কারণ ওইদিন মহরম আছে। কোনও মহরম কমিটি বলেনি।
তৃণমূল জমানায় মহালয়ার আগে, পিতৃপক্ষেই শুরু হয়ে যেত পুজোর উদ্বোধন। এদিন তা নিয়ে কটাক্ষ করেন শুভেনদু অধিকারী। পাশাপাশি নাম না করে, একদা পুজোর উদ্য়োক্তা এবং পূর্বতন তৃণমূল মন্ত্রিসভার এক সদস্যকেও নিশানা করেন তিনি। মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী বলেন, ‘যে প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রীকে দু’বার আমি হারিয়েছি নন্দীগ্রাম আর ভবানীপুরে। তিনি নেতাজি ইন্ডোর স্টেডিয়ামে, পুজোর সমন্বয় বৈঠকে বলেছিলেন এবছর মহরম আছে, তাই এবছর বিজয়া দশমীর দিন কোনও ঠাকুরের নিরর্জন হবে না। আপনি পারেন না। পঞ্জিকাতে যা লেখা আছে, তাই হবে। এই বাংলাতে ধীরে ধীরে ধীরে ধীরে আমাদের পরম্পরা পাল্টে দেওয়া হয়েছিল। পাশেই একজন লম্বা মন্ত্রী ছিলেন, জেলে আছেন সম্ভবত। তাঁর পুজো ছিল এখানে। খুব নাম করা পুজো, এবছরও হবে। এই পুজো উনি উদ্বোধন করতে আসতেন পিতৃপক্ষে। পিতৃপক্ষে কোনও শুভ কাজ হয় না। কিন্তু ওই লম্বা মন্ত্রী, প্রাক্তন মন্ত্রী, জেলে থাকা মন্ত্রীর সৌজন্যে প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী ভবানীপুরে ১৫ হাজার ১০৫ ভোটে হারা মুখ্যমন্ত্রী, প্রাক্তন, তিনি পিতৃপক্ষে আসতেন। আমি বলেছি, পুজোর উদ্বোধন হবে মাতৃপক্ষে, দেবীপক্ষে, মহালয়ের দিন থেকে।’
মুখ্য়মন্ত্রীর মুখে উঠে আসে অনুপ্রবেশ এবং জনবিন্য়াসের প্রসঙ্গও। মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী বলেন, ‘ওঁর কাছে মারাঠি, বিহারি, গুজরাতিরা হল বাহারি আর বাংলাদেশ থেকে সীমান্তে কাঁটাতার না থাকার জন্য যে অবৈধ মুসলিম অনুপ্রবেশকারীরা আসছে, জনবিন্যাস বদলে দিয়ে, লাভ জিহাদ করছে, তারা হল ওঁর কাছে জামাই। তাই এবারে আপনারা পরিবর্তন করেছেন। আমাকে দায়িত্ব দিয়েছেন। উন্নয়ন, কর্মসংস্থান, শিল্পায়ন, ভাল শিক্ষা, ভাল স্বাস্থ্যের সাথে সাথে সনাতন সংস্কৃতি, আমাদের ঐতিহ্য, আমাদের পরম্পরা, আমাদের সাত্ত্বিকতা, এটাকেও ধরে রাখার কাছ আমরা করব।’ এবছর পুজো উপলক্ষ্য়ে একগুচ্ছ সিদ্ধান্তের কথা ঘোষণা করেছেন মুখ্যমন্ত্রী। সোমবার পুজো কমিটিগুলির সঙ্গে সমন্বয় বৈঠকে তিনি জানিয়ে দিয়েছেন, রাজ্যে এবার থেকে আর দুর্গাপুজোর কার্নিভাল হবে না।
Sumit Roy: শালবনি জমি জালিয়াতি মামলায় জিজ্ঞাসাবাদে অপরাধের কথা স্বীকার সুমিত রায়ের
