
দেবতারূপে পুজো করা হবে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদিকে। বিহারে তাঁর জন্য মন্দির তৈরি হতে চলেছে এবার। রাজ্যের রূপান্তরকামী কল্যাণ পর্ষদ মন্দির গড়ায় অনুমতি দিয়ে দিল।

রূপান্তরকামীদের মোদি যে ‘সম্মান’ এবং ‘অধিকার’ প্রদান করেছেন, সেই জন্যই মন্দির গড়ার সিদ্ধান্ত বলে জানিয়েছেন বিহারের রূপান্তরকামী কল্যাণ পর্ষদের সদস্য রঞ্জন সিংহ।

গত বছর অগাস্ট মাসেই রূপান্তরকামী কল্যাণ পর্ষদের সূচনা হয় বিহারে। রূপান্তরকামীদের অধিকার রক্ষায়, তাঁদের উন্নয়ন এবং ক্ষমতায়নই লক্ষ্য তাদের।

বিহার সরকারের সমাজ কল্যাণ বিভাগের অধীনেই কাজ করে রূপান্তরকামী কল্যাণ পর্ষদ। বোর্ডের মিটিংয়ে মোদির জন্য মন্দির গড়ার প্রস্তাব দেন রঞ্জন।

পিটিআই-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে রঞ্জন বলেন, “বিহারে রূপান্তরকামীদের নিজস্ব কোনও মন্দির নেই। তাই আমি নরেন্দ্র মোদির মন্দির নির্মাণের প্রস্তাব দিয়েছিলাম। কারণ উনি আমাদের সম্মান দিয়েছেন, অধিকার দিয়েছেন। সব সদস্যের সম্মতি মিলেছে প্রস্তাবে। বোর্ড অনুমোদন দিয়েছে।”

রঞ্জন জানিয়েছেন, মোদির মন্দির তৈরিতে ধর্ম নয়, বরং স্বীকৃতিকেই প্রাধান্য দিচ্ছেন তাঁরা। বিহারের রূপান্তরকামী কল্যাণ পর্ষদের যুক্তি, মোদিই প্রথম জাতীয়স্তরের নেতা, যিনি রূপান্তরকামীদের আইনি স্বীকৃতি দিয়েছেন, শাসনব্যবস্থায় জায়গা দিয়েছেন।

ধন্য়বাদ জ্ঞাপনের লক্ষ্য়েই মন্দির নির্মাণের সিদ্ধান্ত বলে জানিয়েছে রূপান্তরকামী কল্যাণ পর্ষদ। যদিও বিষয়টি সামনে আসতেই বিতর্ক শুরু হয়েছে। রূপান্তরকামীদের একাংশ এবং সমাজকর্মীদের একাংশ এই সিদ্ধান্ত নিয়ে প্রশ্ন তুলতে শুরু করেছেন।

রূপান্তরকামী অধিকার রক্ষা আইন ২০১৯ নিয়েও বিতর্ক রয়েছে। রূপান্তরকামী পরিচয়ে পরিচিত হতে, সার্টিফিকেট হাতে পেতে অযথা জটিলতা তৈরি করা হয়েছে বলে মত সমালোচকদের।

এমনকি সরকারি চাকরি, শিক্ষাক্ষেত্রে রূপান্তরকামীদের জন্য সংরক্ষণ না রাখার সিদ্ধান্তও বিতর্কিত। রূপান্তরকামীদের অধিকার রক্ষার্থে ওই আইনে কোনও সদর্থক পদক্ষেপ করা হয়নি বলে অভিযোগ।

মোদির মন্দির তৈরির প্রস্তাবটি পর্ষদের অনুমোদন পেলেও, রাজ্য সরকারের ভূমিকাও গুরুত্বপূর্ণ এতে। রাজ্য জমি দিলে, প্রশাসনিক অনুমোদন মিললে তবেই মন্দির তৈরির কাজ শুরু করা যাবে। বিহারে এই মুহূর্তে বিজেপি-রই সরকার, নীতীশ কুমারের সংযুক্ত জনতা দলের সঙ্গে জোট সরকার তাদের। এর আগে, ২০১৫ সালে গুজরাতের রাজকোটের কোঠারিয়া গ্রামেও মোদির মন্দির তৈরি হয়। সেই নিয়ে বিতর্ক শুরু হলে মন্দির থেকে মোদির মূর্তি সরানো হয়, মন্দিরটি পরে বদলে দেওয়া হয় ‘ভারত মাতা মন্দির’ হিসেবে।
Published at : 30 Jul 2026 10:52 PM (IST)
