কলকাতা: প্রায় ১৯ বছর পর কলকাতায় ফিরতে পেরেছেন। গতকালই রাজ্যের মুখ্য়মন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীকে ধন্যবাদ জানিয়েছিলেন। আজ ফের অবস্থান বুঝিয়ে দিলেন সাহিত্যিক তসলিমা নাসরিন। পশ্চিমবঙ্গের তদানীন্তন বাম সরকার, ১৫ বছরের তৃণমূল সরকার এবং বর্তমান বিজেপি সরকারের মধ্যে কোথায় ফারাক, জানালেন তিনি। বললেন, “এক সরকার আমাকে থাকতে দেয়নি। আর এক সরকার আসতে দেয়নি আমাকে। এই সরকার আমাকে আসতে দিয়েছে। এটাই পার্থক্য।” ভারতের ‘ককরোচ জনতা পার্টি’কে নিয়েও এদিন নিজের অবস্থান জানান তিনি। (Taslima Nasrin)
একদিন আগে রবীন্দ্রসদনে আয়োজিত অনুষ্ঠানে তসলিমা জানান, তিনি কোনও রাজনৈতিক দলের হয়ে কথা বলতে আসেননি, কাউকে পরাজিত করতেও আসেননি। তবে এদিন রাজ্যের বিজেপি সরকারকে ধন্যবাদ জানান তসলিমা। এদিন তিনি বলেন, “আমি বিশ্বাস করি বিজেপি মত প্রকাশের স্বাধীনতায় বিশ্বাস করে। আমি চাই ভিন্নমত পোষণকারীরাও যেন একই রকম স্বাধীনতা পান।” আজও তসলিমা জানান, এর সঙ্গে রাজনীতির কিছু নেই। তিনি লেখক, লেখকই থাকবেন। (Cockroach Janta Party)
আরও পড়ুন: চিপসের প্যাকেটে সারপ্রাইজ, মুখে দিতেই…বেঘোরে মৃত্যু শিশুর
তবে ‘ককরোচ জনতা পার্টি’কে নিয়ে প্রশ্ন করলে বাংলাদেশের ২০২৪ সালের ছাত্র আন্দোলনের প্রসঙ্গ টানেন তসলিমা। তিনি বলেন, “আমি ঠিক ফলো করিনি কী হচ্ছে। তবে ওটা দেখে, একটা ছোট ভিডিও ক্লিপ দেখে মনে হয়েছিল, বাংলাদেশে ২০২৪ সালে যে ছাত্র আন্দোলন হয়েছিল, ওটার মতোই। সেই ছাত্র আন্দোলন আমাদের বোকা বানিয়েছিল। কারণ আমরা ভেবেছিলাম সত্যিকারের ছাত্ররা এসেছে। সংরক্ষণ চাইছে না। ঠিক আছে। হতে পারে। শেখ হাসিনা বলেছিলেন সংশোধন করে দিচ্ছেন। শেষ পর্যন্ত সরকার পতনের আন্দোলনে গিয়েছে এবং সরকারের পতন ঘটেছে। আমরা টের পেয়েছি, দেখেছি এবং প্রমাণ পেয়েছি যে আন্দোলনের পিছনে জিহাদিরা ছিল। ওই জিহাদিরাই পরে দেশ দখল করে। পরিণতি ভাল হয়নি। তাই বলেছি, ছাত্ররা জমায়েত করলে, আন্দোলন করলেই পরিণতি ভাল হয় না।”
NEET প্রশ্নপত্র ফাঁসের প্রতিবাদে দিল্লিতে ‘ককরোচ জনতা পার্টি’ আন্দোলনে নামে। ক্রমশ গোটা দেশে ছড়িয়ে পড়ে ওই আন্দোলন। অভিযোগ ওঠে, বাইরে থেকে টাকা আসছে আন্দোলন চালিয়ে যাওয়ার। দেশের অন্দরে অশান্তি তৈরির চেষ্টা হচ্ছে বলেও অভিযোগ তোলেন সরকারপন্থী অনেকে। তবে তদন্তে এখনও পর্যন্ত তেমন কিছুই পাওয়া যায়নি। বরং ধর্মেন্দ্র প্রধানের ইস্তফার দাবি, আত্মঘাতী পড়ুয়াদের পরিবারকে ক্ষতিপূরণের দাবিতেই অনড় ছিলেন আন্দোলনকারীরা। সেই নিয়ে সোশ্যাল মিডিয়ায় পোস্টও করেছিলেন তসলিমা। এদিন তিনি বলেন, “আমি এই আন্দোলন সম্পর্কে খুব একটা জানি না। একটি ভিডিও ক্লিপ দেখে ওটা মনে হয়েছিল। মনে হওয়াটাই লিখেছি।”
Seeing the “cockroaches” gathered at Jantar Mantar reminds me of Bangladesh’s July 2024 movement. The students began with the slogan, “Quota or merit? Merit, merit,” and ended up demanding the fall of the government. Bangladesh as a whole is now paying the price for what…
— taslima nasreen (@taslimanasreen) July 22, 2026
গত ২৩ এবং ২৪ জুলাই X হ্যান্ডলে ‘ককরোচ জনতা পার্টি’ সম্পর্কে নিজের মতামত জানিয়েছিলেন তসলিমা। তাঁর বক্তব্য ছিল, “২০২৪ সালে বাংলাদেশের জুলাই আন্দোলনের কথা মনে পড়ে যাচ্ছে। সংরক্ষণ আর মেধার প্রশ্নে আন্দোলন শুরু হয়েছিল, শেষ হয়েছিল সরকার পতন দিয়ে। সেই থেকে আন্দোলন নিয়ে, পড়ুয়াদের জমায়েত নিয়ে সন্দিহান আমি। জুলাই আন্দোলন আমাকে শিখিয়েছে, ছাত্র আন্দোলন মানেই গণতন্ত্রের পক্ষে সওয়াল নয়, সহ সরকার বিরোধী আন্দোলন স্বাধীনতার পথে নিয়ে যায় না, সব বিপ্লব সত্যিকারের বিপ্লব নয়। কিছু বিপ্লব আগের সরকারকে উৎখাত করে আরও বয়াবহ অন্ধকার দরজা খুলে দেয়। “
