সন্দীপ সরকার, ঝিলম করঞ্জাই, কলকাতা : বেআইনিভাবে রক্ত পাচারের অভিযোগে বন্ধ করে দেওয়া হল পিপলস ব্লাড ব্যাঙ্ক। স্বাস্থ্য দফতরের নির্দেশ, ইনহাউসও রক্ত সংগ্রহ করতে পারবে না বেসরকারি এই ব্লাড ব্যাঙ্ক। এর পাশাপাশি প্রয়োজনীয় নথি না থাকায় নন্দীগ্রামের ২৮টি ডায়গনাস্টিক সেন্টারকেও বন্ধের নোটিস ধরাল স্বাস্থ্য দফতর। কাটমানির বিরুদ্ধে কড়া হুঁশিয়ারি দিলেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী। মঙ্গলবার স্বাস্থ্যক্ষেত্রে কাটমানির বিরুদ্ধে কড়া হুঁশিয়ারি দিয়েছেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী শারদ্বত মুখোপাধ্যায়। আর সেই দিনই, সরকারকে অন্ধকারে রেখে বেআইনিভাবে রক্ত পাচারের অভিযোগে বন্ধ করে দেওয়া হল পিপলস ব্লাড ব্যাঙ্ক। একইসঙ্গে প্রয়োজনীয় নথিপত্র না থাকায় বন্ধের নোটিস দেওয়া হল নন্দীগ্রাম স্বাস্থ্য জেলার ২৮টি ডায়গনাস্টিক সেন্টারকে।
এক ফোঁটা রক্তের জন্য় ছটফট করেন অসংখ্য় অসুস্থ মানুষ। বাড়ির লোকের জন্য় রক্ত চেয়ে হন্য়ে হয়ে ছোটাছুটি করতে হয় কতজনকে। সেই অমূল্য় রক্ত পাচারে রাজ্যে প্রায় ১০০ কোটি টাকার দুর্নীতি হয়েছে বলে আগেই আশঙ্কা প্রকাশ করেছিলেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী। এই পরিস্থিতিতে আগেই ১১টি বেসরকারি ব্লাড ব্যাঙ্কের বিরুদ্ধে পদক্ষেপ করেছে স্বাস্থ্য দফতর। মঙ্গলবার হাজরার পিপলস ব্লাড ব্যাঙ্ক কর্তৃপক্ষকে নথি-সহ তলব করা হয়েছিল স্বাস্থ্য ভবনে। সবকিছু খতিয়ে দেখার পর, এই বেসরকারি ব্লাড ব্যাঙ্ক বন্ধের নির্দেশ জারি করা হয়েছে।
ভোর থেকে কলকাতায় শুরু বৃষ্টি, চলতি সপ্তাহে আরও বাড়বে বর্ষণ, আবহাওয়া নিয়ে বড় আপডেট হাওয়া অফিসের
স্বাস্থ্য দফতর সূত্রে দাবি, ২০২৬ সালের জানুয়ারি মাস থেকে জুন পর্যন্ত, ৬ মাসে ৫৭০টি রক্তদান শিবির থেকে ৪২ হাজার ৯০০ ইউনিট রক্ত সংগ্রহ করে এই পিপলস ব্লাড ব্যাঙ্ক। স্বাস্থ্য দফতরের অভিযোগ, গত ৬ মাসে, তাদের অন্ধকারে রেখে, কোনওরকম NOC ছাড়াই সাড়ে ৩ কোটি টাকার প্লাজমা ভিনরাজ্যে বিক্রি করেছে পিপলস ব্লাড ব্যাঙ্ক। এই পরিস্থিতিতে সোমবার পিপলস ব্লাড ব্যাঙ্কে যান স্বাস্থ্য দফতরের আধিকারিকরা। দেখা যায়, রক্ত সংগ্রহ বা রক্ত সংরক্ষণের কোনও পরিকাঠামোই সেখানে নেই। ফ্রিজারের মধ্যে অবৈজ্ঞানিকভাবে রক্ত ও প্লাজমা ঠেসে রাখা রয়েছে। তাতে দেখা গিয়েছে, ঠেসে জমা করে রাখা রক্তের বেশিরভাগেরই এক্সপায়ারি ডেট শেষ হচ্ছে ৫ অগাস্ট অর্থাৎ বুধবার। অর্থাৎ বুধবারের পরে, এত পরিমাণ রক্ত যা বহু মানুষের প্রাণ বাঁচাতে পারত, তা এখন ফেলে দেওয়া ছাড়া আর কোনও উপায় নেই।
রাজ্যে মোট ৭৩টি বেসরকারি ব্লাড ব্যাঙ্ক রয়েছে। যার মধ্যে ১২টির বিরুদ্ধে অভিযোগ প্রমাণিত হওয়ায় ব্যবস্থা নিয়েছে স্বাস্থ্য দফতর। সম্প্রতি পূর্ব মেদিনীপুরের নন্দীগ্রামে একাধিক সরকারি হাসপাতালে গেছিলেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী। সেখানেও হাসপাতালের বাইরে গজিয়ে ওঠা বেসরকারি ডায়গনাস্টিক সেন্টার নিয়ে নানা অভিযোগ ওঠে। সেগুলির নথি খতিয়ে দেখার নির্দেশ দেন শারদ্বত মুখোপাধ্যায়। এরপর নন্দীগ্রাম স্বাস্থ্যজেলার অন্তর্গত ২৮টি ডায়গনাস্টির সেন্টার বন্ধের নোটিস দেওয়া হয়েছে।
