Headlines

White House Media Ban: ট্রাম্পের বিরুদ্ধে বিদ্রোহ ঘোষণা করল আমেরিকার সংবাদমাধ্যম, প্রেসিডেন্টের সরকারি অনুষ্ঠানের কভারেজ বন্ধ রাখার সিদ্ধান্ত


নয়াদিল্লি: প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের বিরুদ্ধে বিদ্রোহ ঘোষণা করল আমেরিকার সংবাদমাধ্যম। তিনটি প্রথম সারির সংবাদমাধ্যমকে নিষিদ্ধ করেছিল হোয়াইট হাউস। সেই সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ জানিয়ে সোমবার ট্রাম্পের সরকারি অনুষ্ঠান দেখানো বন্ধ করল সব সংবাদমাধ্যম। দেশের প্রেসিডেন্টকে না দেখানো এমন সিদ্ধান্ত বেনজির বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা। তবে ট্রাম্পও পিছু হটতে নারাজ। হোয়াইট হাউসের তরফে ‘Trump TV’-র সূচনা করা হয়েছে, যেখানে ২৪ ঘণ্টা সরকারি ঘোষণা, খবরা-খবরের ভিডিও সম্প্রচার করা হবে। (Donald Trump Media Ban)

সম্প্রতি হোয়াইট হাউসের তরফে দেশের প্রথম তিন সংবাদমাধ্যম CNN, MS Now এবং Politico-কে নিষিদ্ধ করে হোয়াইট হাউস। শুক্রবার সেই সিদ্ধান্তের কথা জানাতে গিয়ে ওই তিন সংবাদমাধ্যমের বিরুদ্ধে পক্ষপাতদুষ্ট, মিথ্যে খবর দেখানোর অভিযোগ তোলেন ট্রাম্প। জানান, সংবাদমাধ্যমের স্বাধীনতার উপর হস্তক্ষেপ নয়। বিচার-বিবেচনা করেই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। (White House Media Ban)

আরও পড়ুন: LIC-র টাকা নিয়েও জালিয়াতি! অনিল আম্বানির বিরুদ্ধে মারাত্মক অভিযোগ, এফআইআর দায়ের

সেই সময় ট্রাম্পের বক্তব্য ছিল, “হোয়াইট হাউস সংবাদমাধ্যমের স্বাধীনতা আঘাত হানছে না, আমি সংবাদমাধ্যমের স্বাধীনতাকে সম্মান করি। কিন্তু ফেক নিউজের গোড়ায় আঘাত হানা হচ্ছে,  যা ক্যান্সারের মতো ছড়িয়ে পড়ছে। এসব আমাদের জাতীয় নিরাপত্তার পরিপন্থী। এখনই বন্ধ করা উচিত সেই সব, এখনই।”

এর পর, শনিবার তিনটি সংস্থায় প্রবেশ করতে দেওয়া হয়নি CNN, MS Now এবং Politico-কে। ওই তিন সংস্থার সাংবাদিকরা জানান, হোয়াইট হাউসে পৌঁছলে তাঁদের প্রেস ক্লিয়াব়্যান্স বাজেয়াপ্ত করা হয়েছে। এর পর তিনটি প্রতিষ্ঠানের বাইরে থেকেই খবর দেখাতে হয় তাদের। সেই নিয়ে ইতিমধ্যেই আদালতের দ্বারস্থ হয়েছে ওই তিন সংস্থা। হোয়াইট হাউসে ঢুকতে না দেওয়ার জন্য ট্রাম্প এবং তাঁর সরকারের আধিকারিকদের বিরুদ্ধে মামলা করেছে তারা। আগে থেকে কোনও নোটিসও দেওয়া হয়নি বলে অভিযোগ। 

আরও পড়ুন: বন্ধুর কাছ থেকে নাবালিকাকে ছিনিয়ে নেওয়ার চেষ্টা, শরীর খামচে ধরে নির্যাতন, ভয়ঙ্কর ঘটনা বিহারে, মন্ত্রী বললেন, ‘বিচ্ছিন্ন ঘটনা’

সেই আবহেই সোমবার Fox News Media, ABC News, CBS News, CNN, NBC News সমবেত ভাবে জানিয়ে দেয় যে, তারা আর রোটেশনাল পুল কভারেজে অংশ নেবে না। বিবৃতি দিয়ে বলা হয়, “মানুষের স্বার্থেই সরকারের কাজকর্ম নিয়ে সঠিক, পক্ষপাতহীন খবর তুলে আনা হয়। কোন সংবাদমাধ্যমকে নিয়ন্ত্রণ করতে পারে না সরকার, তাদের কাজে আপত্তি জানাতে পারে না।” উল্লেখযোগ্য বিষয় হল, আমেরিকার Fox News ট্রাম্প-পন্থী বলেই বরাবর পরিচিত। তারাও হোয়াইট হাউসেল সিদ্ধান্তের প্রতিবাদ করেছে। পাশে দাঁড়িয়েছে ওই তিন সংস্থার।

ঐতিহাসিক ভাবেই আমেরিকার প্রেসিডেন্টের কাজকর্ম সংক্রান্ত প্রচারকার্য নিজেদের মধ্যে ভগাভাগি করে নিয়ে আসছে Fox News Media, ABC News, CBS News, CNN, NBC News. প্রেসিডেন্টের বিভিন্ন অনুষ্ঠানে ক্যামেরা-কর্মী পাঠায় তারা। সেখান থেকে প্রাপ্ত ফুটেজ ভাগও করে নেয় নিজেদের মধ্যে। এই প্রতিবাদের অর্থ ট্রম্প সরকারের কাজকর্মের সম্প্রচার বন্ধ রাখা নয়, বরং প্রেসিডেন্সিয়াল পুলের আওতায় যে সব খবর এবং অনুষ্ঠান দেখানো হতো এতদিন, তার জন্য আর যৌথ ‘পুল ফিড’ ব্যবহার করবে না। অন্য সাংবাদিক এবং সংবাদমাধ্যম নির্ধারিত প্রবেশসীমার বাইরে থেকে সংবাদ সংসগ্রহ করে যেতে পারবে। তবে এই মুহূর্তে যা পরিস্থিতি, তাতে নিউ ইয়র্কে রাষ্ট্রপুঞ্জের সাধারণ সভায় অন্য় রাষ্ট্রনেতাদের সঙ্গে ট্রাম্পের বৈঠকও সম্প্রচারিত হবে না।

CNN, MS Now এবং Politico-র দাবি, সংবিধানে সংরক্ষিত সংবাদমাধ্যমের স্বাধীনতার অধিকার লঙ্ঘন করেছে হোয়াইট হাউস। তাদের বক্তব্য, “অবিলম্বে এর বিরুদ্ধে পদক্ষেপ না করা হলে, তা সংবাদমাধ্যমের স্বাধীনতা এবং সরকারি হস্তক্ষেপমুক্ত স্বাধীন সাংবাদিকতাকে বিপদের দিকে ঠেলে দেবে। জনগণের অধিকারও খর্ব হবে এতে। সংবাদমাধ্যম কী প্রতিবেদন প্রকাশ করবে বা দেখাবে, তা সরকার নির্ধারণ করে দিতে পারে না।”

“এর বিরুদ্ধে কোনও পদক্ষেপ না নেওয়া হলে তা সংবাদপত্রের স্বাধীনতা এবং সরকারি হস্তক্ষেপমুক্ত স্বাধীন সাংবাদিকতার ক্ষেত্রে জনগণের অধিকারকে হুমকির মুখে ফেলবে,” সংবাদমাধ্যমগুলো এক যৌথ বিবৃতিতে এ কথা বলেছে। “সংবাদমাধ্যম কী প্রতিবেদন করবে বা প্রকাশ করবে, তা সরকার নির্ধারণ করে না।”

হোয়াইট হাউস টেলিভিশন পুল এমন একটি ব্যবস্থা, যার মাধ্যমে প্রেসিডেন্টের বিভিন্ন অনুষ্ঠানের ভিডিও ফুটেজ সংগ্রহ করতে পারে সেদেশের সংবাদমাধ্যম। কোনও একটি সংস্থা নিজেদের ক্যামেরা বা কর্মী না পাঠাতে পারলেও, অন্যের কাছ থেকে তা নিতে পারে। সেই খরচ-খরচা নিজেদের মধ্যে ভাগ করে নেয় তারা। এর ফলে গোটা দেশের ছোট ছোট সংবাদমাধ্যমও উপকৃত হয়। বর্তমান পরিস্থিতিতে সেই ব্যবস্থাই প্রশ্নের মুখে। তবে এখনও পিছু হটছে না ট্রাম্প সরকার। বরং অন্য সংস্থাগুলির উপরও খাঁড়া নামতে পারে বলে হুঁশিয়ারি দিয়েছেন ট্রাম্প। তবে দেশের সংবাদমাধ্যমগুলি সঙ্ঘবদ্ধ ভাবে সরকারি সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে প্রতিবাদে শামিল হয়েছে। সরকারি অনুষ্ঠানে ট্রাম্পের কোনও ভিডিও সম্প্রচার করছে না তারা।



Source link

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *