Bombay High Court: বিজয় মাল্যকে ‘মুভ অন’ করতে বলল আদালত, SBI-এর সঙ্গে বিরোধ নিয়ে বলা হল, ‘দেশের অর্থনীতিতে প্রভাব পড়বে’


মুম্বই: ঋণখেলাপি মামলায় আজও ভারতে ‘ওয়ান্টেড’। দেশের বাণিজ্যিক ব্যাঙ্কগুলির সঙ্গে এখনও টানাপোড়েন চলছে। সেই নিয়ে এবার পলাতক শিল্পপতি বিজয় মাল্যকে বিশেষ পরামর্শ দিল আদালত। ব্যাঙ্কের সঙ্গে তাঁর বিরোধ এবার শেষ হওয়া দরকার বলে জানানো হল। মাল্যকে আদালত বলল, ‘মুভ অন করার সময় এসেছে’। (Vijay Mallya)

বিভিন্ন ব্যাঙ্ক থেকে বিপুল টাকার ঋণ নিয়ে, তা শোধ না করেই বিদেশে পালিয়ে গিয়েছেন মাল্য। মোট ৯০০০ কোটি টাকা ঋণখেলাপের অভিযোগ তাঁর বিরুদ্ধে। ২০১৬ সালের মার্চ মাস থেকে দেশের বাইরে তিনি। তাঁকে ‘পলাতক অর্থনৈতিক অপরাধী’ ঘোষণা করেছে তদন্তকারী সংস্থা। আইনি প্রক্রিয়ার মাধ্য়মে দেশে তাঁর সম্পত্তি বাজেয়াপ্ত করা হয়, যাতে সেগুলি বিক্রি করে অনাদায়ী ঋণের টাকা তোলা যায়। (Bombay High Court)

আরও পড়ুন: মার্চেই বিয়ে হয়েছিল, ডেথ সার্টিফিকেট লিখছিলেন রাতে, তার পরই দেহ উদ্ধার শৌচাগার থেকে, NRS-এ রহস্যমৃত্যু নার্সের

সেই নিয়ে ২০২০ সালেই আদালতের দ্বারস্থ হন মাল্য। বিশেষ অর্থনৈতিক তছরুপ আইন আদালতের (PMLA) রায়কে চ্যালেঞ্জ জানান। স্টেট ব্যাঙ্ক অফ ইন্ডিয়া নেতৃত্বাধীন ব্যাঙ্কের কনসর্টিয়ামকে তাঁর সম্পত্তি বিক্রি করে টাকা তোলার যে অনুমোদন দেওয়া হয়, তার বিরোধিতা করেন মাল্য। সেই নিয়ে বম্বে হাইকোর্টের বিচারপতি মিলিন্দ জাধব নেতৃত্বাধীন একক বেঞ্চে শুনানি চলছিল। 

শুনানি চলাকালীন আদালত জানায়, এই বিরোধের ঊর্ধ্বে না উঠতে পারলে দেশের অর্থনীতির উপর প্রত্যক্ষ এবং নেতিবাচক প্রভাব পড়বে। তদন্ত এখন কোন পর্যায়ে রয়েছে, মাল্যর কোন কোন সম্পত্তি বাজেয়াপ্ত করা হয়েছে, এনফোর্সমেন্ট ডিরেক্টরেটের কাছে সেই তথ্যও চান বিচারপতি। আদালত জানায়, প্রায় একদশক ধরে বিরোধ চলছে। যুক্তিসঙ্গত ভাবেই এবার বিরোধের নিষ্পত্তি প্রয়োজন। 

আরও পড়ুন: নেতাজীকে নিয়ে কুরুচির মন্তব্য অনন্ত মহারাজের, মুখ্যমন্ত্রীর কড়া বার্তার পর বললেন, ‘শমীক ভট্টাচার্যও তো…’

সম্পত্তি বাজেয়াপ্ত করে তা ব্যাঙ্কগুলির হাতে তুলে দেওয়ার বিরোধিতা করেন মাল্য। অনাদায়ী ঋণ এবং সুদ মিলিয়ে যত টাকা বকেয়া ছিল,সম্পত্তি বিক্রি করে তার চেয়ে ঢের বেশি টাকা তোলা হলেও, উদ্বৃত্ত টাকা ফিরিয়ে দেওয়া হয়নি বলে অভিযোগ করেন তিনি। শুনানি করতে গিয়ে আদালত জানায়, অনেক সময় বিরোধের মধ্যেই সমাধান লুকিয়ে থাকে। সেই নিয়ে বিরোধ চালিয়ে যাওয়ার পরিবর্তে বাস্তবমুখী সমাধান বের করা উচিত।

এর আগে, ফেব্রুয়ারি মাসে হাইকোর্টের প্রধান বিচারপতি শ্রী চন্দ্রশেখর এবং বিচারপতি গৌতম অখণ্ডের বেঞ্চ দু’টি আবেদনের শুনানি করেন। মাল্যকে ‘চিহ্নিত অর্থনৈতিক অপরাধী’ বলে দাগিয়ে দেওয়া এবং পলাতক ঘোষণার সিদ্ধান্তকে চ্যালেঞ্জ জানানো হয়েছিল তাতে। ১২ ফেব্রুয়ারি সেই নিয়ে শুনানি চলাকালীন আদালত জানায়, দেশে ফিরে নিজের এলাকায় আবেদন জমা দিতে হবে মাল্যকে। তবেই তাঁর আবেদন গৃহীত হবে। আদৌ তিনি দেশে ফেরার সদিচ্ছা রয়েছে কি না, জানতে চায় আদালত।

এর পর ১৮ ফেব্রুয়ারি শুনানি চলাকালীন মাল্য চানান, দেশে ফিরবেন কি না, তা এখনই জানানোর মতো অবস্থায় নেই তিনি। ইংল্যান্ডের আদালত দেশ ছাড়া নিয়ে তাঁর উপর বিধিনিষেধ আরোপ করেছেন বলে জানান। ২০১৯ সালের জানুয়ারি মাসে মাল্যকে  ‘পলাতক অর্থনৈতিক অপরাধী’ ঘোষণা করা হয়। ওই আইনে পলাতক ব্যক্তির সম্পত্তি বাজেয়াপ্ত করা যায়। ব্রিটেন থেকে মাল্যকে দেশে প্রত্যর্পণের আর্জিও জানিয়েছে ভারত।



Source link

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *