সমীরণ পাল, বনগাঁ: মহানগর থেকে জেলা, রাজ্যের বিভিন্ন জায়গায় চলছে খাদ্য সুরক্ষা দফতরের অভিযান। একাধিক হোটেল, নামী রেস্তোরাঁকে নোটিস ধরানো থেকে শোকজ করা হয়েছে। বনগাঁ মহকুমা শাসকের উপস্থিতিতে এবার খাদ্য সুরক্ষা দপ্তরের অভিযান বনগাঁর বিভিন্ন হোটেল, রেস্তোরাঁয়। রেস্তোরাঁগুলির বাসি মাংস ও খারাপ আলু পরীক্ষা করে স্বইচ্ছায় দোকান বন্ধ রেখে পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন করবার বার্তা দিলেন সরকারী আধিকারিকরা।
বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় উত্তর ২৪ পরগনার বনগাঁ মহকুমা শাসক খাদ্য দপ্তরের আধিকারিকরা অভিযানে নামে। বনগাঁ শহরের বিভিন্ন হোটেল রেস্তোরাঁয় তারা হানা দেয়। বাটার মোড় এলাকায় এক রেস্তোরাঁয় হানা দিয়ে খাবার পরীক্ষা করে বাসি মাংস ও খারাপ আলু দেখে দোকানের কর্মচারীকে খাদ্য দপ্তরের আধিকারিক স্বইচ্ছায় দোকান বন্ধ রেখে পরিষ্কার পরিচ্ছন্ন করে দোকান খোলার নির্দেশ দেন। বিভিন্ন রেস্তোরাঁয় খাবারের গুণগত মান পরীক্ষা করেন তারা।
এই বিষয়ে দোকানের কর্মচারী জানিয়েছেন আধিকারিকরা দোকান বন্ধ রাখতে বলেছে। পরিষ্কার পরিচ্ছন্ন করার পরে দোকান খুলতে বলেছে। বাসি মাংস যে দোকানে ছিল, তাও তিনি স্বীকার করেছেন।
এটা কিন্তু একেবারেই কোনও বিচ্ছিন্ন ঘটনা নয়। রাজ্যজুড়ে ক্ষতিকারক রঙ ও রাসায়নিক ব্যবহারের বিরুদ্ধে খাদ্য সুরক্ষা দপ্তরের অভিযান অব্যাহত। কাকদ্বীপ মহকুমার নামখানা ও জুমাইনস্করহাট এলাকায় অভিযান চালিয়ে মিষ্টি, ফল, ফাস্টফুড-সহ বিভিন্ন খাদ্যসামগ্রী তৈরিতে ব্যবহৃত ক্ষতিকারক রঙ ও রাসায়নিক উদ্ধার করেন দপ্তরের আধিকারিকরা। অভিযোগ, খাবারকে আকর্ষণীয় করতে নিয়মবহির্ভূতভাবে ওই রঙ ব্যবহার করা হচ্ছিল। প্রতিদিনের রান্নায় ব্যবহৃত বিভিন্ন খাদ্যপণ্যেও বেআইনি রঙ ব্যবহারের অভিযোগ সামনে আসে।
অভিযান চলাকালীন উদ্ধার হওয়া রঙ ও রাসায়নিক বাজেয়াপ্ত করার পাশাপাশি নিয়ম মেনে সেগুলি নষ্ট করে দেওয়া হয়। ব্যবসায়ীদের খাদ্যপণ্যে অনুমোদিত উপকরণ ব্যবহারের বিষয়ে সতর্ক করা হয়েছে। পাশাপাশি, নিয়মভঙ্গের অভিযোগে কয়েকজন ব্যবসায়ীকে শোকজ করা হয়েছে। আগামী দিনেও এই ধরনের অভিযান চলবে বলে দপ্তর সূত্রে জানা গিয়েছে।
গতকাল পর্যটকদের স্বাস্থ্য সুরক্ষা ও খাবারের মান যাচাই করতে বকখালির বিভিন্ন হোটেল, রেস্তোরাঁ ও অস্থায়ী খাবারের দোকানে যৌথ অভিযান চালাল প্রশাসন। অভিযানে সামুদ্রিক মাছ, চিংড়ি, কাঁকড়া-সহ বিভিন্ন খাবারের গুণগত মান, রান্নার মশলা, সংরক্ষিত কাঁচা মাছ-মাংস ও শাকসবজি পরীক্ষা করা হয়। অভিযানে কয়েকটি দোকান থেকে বাসি খাবার, পচন ধরা মাছ, ক্ষতিকর রং মেশানো সবজি এবং ভেজাল মশলা-সহ ব্যবহারের অনুপযুক্ত খাদ্যসামগ্রী উদ্ধার হয়। পরে সেগুলি ঘটনাস্থলেই নষ্ট করে দেওয়া হয়। স্বাস্থ্যবিধি লঙ্ঘন এবং পর্যটকদের স্বাস্থ্যের ঝুঁকির অভিযোগে সংশ্লিষ্ট দোকান ও রেস্তোরাঁগুলিকে শোকজ করা হয়েছে। অভিযানে খাদ্য দফতর, এগ্রিকালচার মার্কেটিং বিভাগ, কাকদ্বীপ মহকুমা ও নামখানা ব্লক প্রশাসন এবং পুলিশ প্রশাসনের প্রতিনিধিরা ছিলেন। প্রশাসনের তরফে জানানো হয়েছে, আগামী দিনেও এমন অভিযান চলবে।
Birbhum Lavpur: ফের ভাঙল কুয়ে নদীর বাঁধ! জল ঢুকছে একাধিক গ্রামে, জলের তলায় কয়েকশো বিঘা কৃষি জমি
