শ্রীনগর: সোশ্যাল মিডিয়ায় নজর কাড়তে গিয়ে ফের বিপজ্জনক কাণ্ড! রিল বানানোর জন্য দ্রুতগতির নদীর জলে গাড়ি নামিয়ে কার্যত মৃত্যুর মুখে পড়লেন কয়েকজন যুবক। জম্মু-কাশ্মীরের জনপ্রিয় পর্যটনকেন্দ্র সোনমার্গের এই ঘটনায় নদীর প্রবল স্রোতের মধ্যে আটকে যায় একটি মহিন্দ্রা স্করপিও। শেষ পর্যন্ত পুলিশ ও স্থানীয় বাসিন্দাদের তৎপরতায় গাড়ির ভিতরে থাকা সকলকেই নিরাপদে উদ্ধার করা সম্ভব হয়েছে।
ঘটনাটি ঘটেছে সোনমার্গের সিন্ধ নদীতে, একটি হোটেলের কাছে। অভিযোগ, সোশ্যাল মিডিয়ার জন্য ভিডিও বা রিল তৈরির উদ্দেশ্যে চালক গাড়িটি নদীর দিকে নিয়ে যান। এরপর SUV-টি নদীর জলের মধ্যে ঢুকে পড়তেই পরিস্থিতি দ্রুত নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যায়। প্রবল স্রোতের মধ্যে গাড়িটি আটকে পড়ে।
ভিডিও করার সময় হয়তো তাঁরা বুঝতেই পারেননি নদীর স্রোত কতটা ভয়ঙ্কর। গাড়িটি জলের মধ্যে আটকে যাওয়ার পর সেটির ভিতরে থাকা ব্যক্তিরা মাঝস্রোতে আটকে পড়েন। পরিস্থিতি এমন জায়গায় পৌঁছয় যে, সামান্য ভুলেই গাড়ি ভেসে যেতে পারত।
খবর পেয়ে দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছয় জম্মু-কাশ্মীর পুলিশ। উদ্ধারকাজে হাত লাগান স্থানীয় বাসিন্দারাও। পুলিশ ও স্থানীয়দের যৌথ প্রচেষ্টায় শেষ পর্যন্ত গাড়ির সমস্ত আরোহীকে নদীর পাড়ে নিরাপদে নিয়ে আসা হয়। ঘটনায় কারও আঘাত লাগেনি বলে জানা গিয়েছে। পরে নদী থেকে SUV-টিও উদ্ধার করা হয়।
পুলিশ জানিয়েছে, গাড়ির চালক হিসেবে মোহাম্মদ ইবাদ ভাট-কে শনাক্ত করা হয়েছে। তিনি শ্রীনগরের নওয়াকাদলের বাসিন্দা। গাড়িতে থাকা অপর এক ব্যক্তির নাম নাসির আহমেদ মুগল, তিনি রেয়াসির মহোরের বাসিন্দা বলে জানিয়েছে পুলিশ।
পুলিশের বক্তব্য, সোশ্যাল মিডিয়ার ভিডিও তৈরির জন্য এভাবে নদীতে গাড়ি নামানো নিছক স্টান্ট নয়, বরং অত্যন্ত বেপরোয়া এবং বিপজ্জনক আচরণ। এতে গাড়ির যাত্রীদের পাশাপাশি আশপাশের মানুষের নিরাপত্তাও ঝুঁকির মধ্যে পড়ে। এই ঘটনায় একটি মামলা দায়ের করা হয়েছে।
সোশ্যাল মিডিয়ায় ভাইরাল হওয়ার আকাঙ্ক্ষায় বিপজ্জনক স্টান্টের ঘটনা নতুন নয়। কিন্তু পাহাড়ি এলাকার নদীর ক্ষেত্রে ঝুঁকি আরও বেশি। বাইরে থেকে নদীর স্রোত তুলনামূলক কম মনে হলেও জলের তলায় স্রোতের গতি এবং গভীরতা মুহূর্তে পরিস্থিতি বদলে দিতে পারে।
প্রশাসনের তরফেও পর্যটক ও স্থানীয়দের নদী, ঝরনা বা অন্য জলাশয়ের কাছে এমন কোনও স্টান্ট না করার আবেদন জানানো হয়েছে। কারণ কয়েক সেকেন্ডের একটি ভিডিও ভাইরাল করার চেষ্টা কখন প্রাণঘাতী হয়ে উঠবে, তা আগে থেকে বোঝা সম্ভব নয়।
