Petrol Diesel : শিয়রে সঙ্কট? দেশে জ্বালানী আর গ্যাসের ভাণ্ডার ফুরোচ্ছে? প্রধানমন্ত্রীর সতর্কবার্তার পর কী বার্তা কেন্দ্রের?


 

পশ্চিম এশিয়ার সংঘাত ও বিশ্ব জ্বালানি বাজারে টানা অস্থিরতার মধ্যেও দেশে পেট্রোল, ডিজেল বা LPG সরবরাহে কোনও ঘাটতি নেই বলে স্পষ্ট জানাল কেন্দ্র। সোমবার CII Annual Business Summit-এ বক্তব্য রাখতে গিয়ে তৈল সচিব ( Oil Secretary)  নীরজ মিত্তল বলেন, আতঙ্কের কোনও কারণ নেই, দেশে পর্যাপ্ত জ্বালানি মজুত রয়েছে এবং রেশনিং চালুরও কোনও পরিকল্পনা নেই।

পশ্চিম এশিয়ায় সংঘাতের জেরে আন্তর্জাতিক জ্বালানি বাজারে উদ্বেগ বাড়লেও, দেশের জ্বালানি মজুত নিয়ে আশ্বস্ত করল কেন্দ্র। কেন্দ্রীয় প্রতিরক্ষা মন্ত্রকের তরফে জানানো হয়েছে, ভারতের কাছে বর্তমানে প্রায় ৬০ দিনের অপরিশোধিত তেলের মজুত রয়েছে। পাশাপাশি, ৬০ দিনের প্রাকৃতিক গ্যাস এবং ৪৫ দিনের এলপিজি রোলিং স্টকও রয়েছে দেশে। ফলে জ্বালানি সরবরাহ নিয়ে এখনই আতঙ্কের কোনও কারণ নেই বলেই ইঙ্গিত কেন্দ্রের।

সম্প্রতি প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি জ্বালানি ব্যবহারে সংযমের বার্তা দিয়েছিলেন। পেট্রোল-ডিজেলের অপ্রয়োজনীয় ব্যবহার কমানো, গণপরিবহণ ব্যবহারে জোর এবং বিদেশি আমদানির উপর নির্ভরতা কমানোর আহ্বান জানান তিনি। প্রধানমন্ত্রীর সেই বার্তার পরেই কেন্দ্রীয় প্রতিরক্ষা মন্ত্রী জানালেন, ‘ভারতের কাছে ৬০ দিনের অপরিশোধিত তেল মজুত আছে’

৬০ দিনের জ্বালানি, ৪৫ দিনের LPG মজুত

নীরজ মিত্তল জানান, গত ৬৭ দিন ধরে আন্তর্জাতিক বাজারে অস্থিরতা চললেও ভারত প্রায় ৬০ দিনের জ্বালানি এবং ৪৫ দিনের LPG মজুত ধরে রাখতে সক্ষম হয়েছে। পশ্চিম এশিয়ায় যুদ্ধ পরিস্থিতি ও শিপিং রুটে বাধা তৈরি হলেও সরকার বিকল্প উৎস থেকে জ্বালানি আমদানি বাড়িয়েছে।

প্রধানমন্ত্রীর বার্তার পর কেন্দ্রের ব্যাখ্যা

একদিন আগেই প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি দেশবাসীকে জ্বালানি সংযম, অপ্রয়োজনীয় বিদেশ সফর কমানো এবং সোনার কেনাকাটায় নিয়ন্ত্রণ আনার আহ্বান জানিয়েছিলেন। আন্তর্জাতিক বাজারে অপরিশোধিত তেলের দাম বৃদ্ধির ফলে দেশের বৈদেশিক মুদ্রার উপর চাপ তৈরি হওয়াতেই এই সতর্কবার্তা দেওয়া হয়েছিল বলে মনে করা হচ্ছে।

আমদানি ঝুঁকি সামলাতে বিকল্প উৎসে জোর

তৈল সচিব জানান, ভারত ইতিমধ্যেই অতিরিক্ত জ্বালানি কার্গো নিশ্চিত করেছে এবং বিভিন্ন বিকল্প সরবরাহকারীর কাছ থেকে আমদানি বাড়ানো হয়েছে। আন্তর্জাতিক বাজারে দামের ধাক্কা সামাল দিতে কেন্দ্র পেট্রোল ও ডিজেলের উপর আবগারি শুল্কও কমিয়েছে।

স্ট্র্যাটেজিক রিজার্ভ বাড়াতে নতুন পরিকল্পনা

ভারতের দৈনিক তেল খরচ প্রায় ৫০ লক্ষ ব্যারেল । নীরজ মিত্তল বলেন,এই পরিস্থিতিতে ৯০ দিনের মজুত ধরে রাখা অত্যন্ত ব্যয়বহুল। তাই সরকার এমন কিছু  পদ্ধতি  খুঁজছে, যাতে তেল মজুতও বাড়ানো যায়, আবার সেই মজুত থেকে আর্থিক রিটার্নও পাওয়া সম্ভব হয়।

হরমুজ প্রণালী থেকে নিরাপদে ফিরেছে ভারতীয় জাহাজ

তিনি আরও জানান, সংঘাতপূর্ণ হরমুজ প্রণালী থেকে ভারতের ১৪টি জাহাজ নিরাপদে সরিয়ে আনা হয়েছে। তবে বিশ্বব্যাপী সরবরাহ শৃঙ্খলে সমস্যা আরও বেড়েছে বলেও মন্তব্য করেন তিনি। তিনি বলেন, ভারতের বিশাল রিফাইনারি পরিকাঠামো দেশের জ্বালানি চাহিদা মেটানোর পাশাপাশি পরিশোধিত পেট্রোলিয়াম পণ্য রফতানিও চালিয়ে যেতে সাহায্য করছে। ফলে আন্তর্জাতিক চাপের মধ্যেও সরবরাহ ব্যবস্থা স্থিতিশীল রাখা সম্ভব হয়েছে।

LPG-তে ডিজিটাল নজরদারিতে কমেছে কালোবাজারি

সরকার LPG সিলিন্ডার সরবরাহে প্রায় ১০০ শতাংশ ডিজিটাল ট্র্যাকিং চালু করেছে বলেও জানান মিত্তল। এর ফলে কালোবাজারি ও বাণিজ্যিক ব্যবহারে গৃহস্থালির LPG সরিয়ে দেওয়ার প্রবণতা অনেকটাই কমেছে। প্রথমে গৃহস্থালির ব্যবহারে LPG সরবরাহকে অগ্রাধিকার দেওয়া হলেও পরে শিল্পমহলের আবেদনে ৭০ শতাংশ ইন্ডাস্ট্রিয়াল LPG সরবরাহও চালু করা হয়েছে। 



Source link

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *