Sujata Mondal: ‘বিবেকের দংশন, শিক্ষকদের মারের দাগ আমার গায়ে লাগত’, তৃণমূল ছাড়লেন সুজাতা মণ্ডল


বাঁকুড়া: বাঁকুড়া জেলা পরিষদের মৎস্য ও প্রাণী সম্পদ স্থায়ী সমিতির কর্মাধ্যক্ষ পদ থেকে পদত্যাগ করলেন সুজাতা মণ্ডল। একইসঙ্গে তৃণমূল কংগ্রেস ছাড়ার ঘোষণাও করেছেন তিনি। বাঁকুড়ার জেলা শাসকের দফতরে গিয়ে নিজের পদত্যাগ পত্র জমা দেন তিনি।

আরও পড়ুন: সাষ্টাঙ্গ প্রণাম করে বিধানসভায় ঢুকলেন অসীম সরকার, গানে বললেন, ‘দিদি হেরে গিয়েছে, সুজিতদা ধরা পড়েছে’

সুজাতা বলেন, “বাঁকুড়া জেলা পরিষদের কর্মাধক্ষ্যের পদ থেকে আমি রিজাইন করলাম। পার্টি থেকেও আমি নিজেকে সরিয়ে নিলাম। কোনও দলের সঙ্গে আমি যুক্ত নই। আমি একজন সাধারণ মানুষ। আমার ৭ জনের নিরাপত্তা রক্ষা বাহিনীও আমি ত্যাগ করেছি।”

কেন দল ছাড়লেন সুজাতা? তাঁর গলায় শোনা গেল বিবেকের দংশনের কথা। সুজাতা বললেন, “আজ নয়, অনেক দিন ধরে বিবেকের দংশন হচ্ছিল। যখন মাস্টাররা রাস্তায় মার খাচ্ছিল। আমিও তো ছোট বাচ্চা পড়াই। তখন সেই মারের দাগগুলো আমারও গায়ে লাগত। যখন দেখতাম অভয়া বিচার পেল না, তার মাকেও মারধর করা হচ্ছে, তখন কোথাও যেন মনে হত মনুষ্যত্বে আঘাত লাগছে। আমি তখনই দল ছাড়তে চেয়েছিলাম। নিরাপত্তা বাহিনী ছাড়তে চেয়েছিলাম।”

আরও পড়ুন: ‘দুর্নীতির সঙ্গে কোনও আপস নয়’, সচিবদের সঙ্গে বৈঠকে কড়া বার্তা মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর

রাজ্য রাজনীতিতে সুজাতা মণ্ডল বরাবরই চর্চিত নাম। এক সময় তিনি বিজেপির সক্রিয় কর্মী ছিলেন। তারপর বিজেপি ছেড়ে তৃণমূলে যোগ দেন তিনি। পরবর্তীতে ২০২৩ সালের পঞ্চায়েত নির্বাচনে তৃণমূলের টিকিটে জয়ী হয়ে বাঁকুড়া জেলা পরিষদের মৎস্য ও প্রাণী সম্পদ স্থায়ী সমিতির কর্মাধ্যক্ষ হন সুজাতা।

সুজাতা আরও বলেন, “কিন্তু বিবেকের দংশন যখন হয়, আর কিছু করা যায় না। আজ মনে হল নিজেকে মুক্তি দেওয়া দরকার। এটা ভাবার কোনও কারণ নেই যে ৪ মে-র পর আমি রিজাইন দিচ্ছি। ৪ মে যদি ২৯৪ সিটে আমার প্রাক্তন দল ক্ষমতায় আসত, তা হলেও আমি রিজাইন দিতাম। পশ্চিমবঙ্গে আমিই মনে হয় প্রথম ব্যক্তি, যে স্বেচ্ছায় সব সুযোগ, সুবিধা, নিরাপত্তা রক্ষী সব থেকে পদত্যাগ করলাম। সব কিছুকে আমার থেকে মুক্তি দিলাম।”

তৃণমূলের বিরুদ্ধে অনেক ক্ষোভ উগরে দিলেন সুজাতা। তিনি বললেন, “অনেককে দল সাসপেন্ড করছে, তারা সমালোচনা করছে। আমি তো নিজে ছাড়ছি। আজ আর সমালোচনা করে লাভ নেই। দলের ভিতরে থেকে মানুষের কথা, চাহিদা শীর্ষ নেতৃত্বকে জানানোর চেষ্টা করেছি, দল শোনেনি। আমি মহাকুম্ভে ‘জয় শ্রী রাম’ বলায় দলের ভর্ৎসনা শুনেছি। যে দলই করি, আমি সবার আগে হিন্দু, সনাতনী ভারতীয় নারী। ওই পরিচয় আমি মুছতে পারব না। এবং হিন্দুত্ব আমার কাছে সম্পদ। আমি ‘জয় শ্রী রাম’ বলার জন্য, অযোধ্যার রাম মন্দির যাওয়ার জন্য আমাকে যদি দলে ভর্ৎসনা হতে হয়, তাহলে বুঝতে হবে এটা ৪ মে দুপুর ১২ টার পর নয়।”

রাজ্যের রাজনৈতিক পরিস্থিতির পরিবর্তনের মধ্যেই দল ও পদ— দুই থেকেই সরে দাঁড়ালেন সুজাতা মণ্ডল। যদিও আপাতত অন্য কোনও রাজনৈতিক দলে যোগ দেওয়ার ইঙ্গিত দেননি তিনি। তাঁর এই সিদ্ধান্ত ঘিরে ইতিমধ্যেই শুরু হয়েছে রাজনৈতিক জল্পনা।



Source link

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *