Baruipur Incident : বারুইপুর কাণ্ডে নিরপরাধ, তাও হত্যা! অভাবের সংসার ইন্দ্রজিতের, অর্থ জোগাতে কী করতেন জানেন ?


কলকাতা : একটি ঘটনা নাড়িয়ে দিয়েছে গোটা রাজ্যকে। অভয়া কাণ্ডের পর বারুইপুর ধর্ষণ-খুন হত্যা ভাবাচ্ছে সাধারণ মানুষকে। বন্ধুর জন্মদিনের উপহার কিনতে গিয়ে আর কোনওদিন বাড়ি ফিরল না ১২ বছরের নাবালিকা। এই ঘটনাকে ঘিরে উত্তাল গোটা বাংলা। রীতিমতো অগ্নিগর্ভ হয়ে ওঠে পরিস্থিতি। পথ অবরোধ, রেল লাইন অবরোধ, পুলিশকে মারধর, ট্রেন চলাচলে ব্যাঘাত ও গণপিটুনি দিয়ে মেরে ফেলার মত ঘটনা ঘটে যায়। এই হিংসার বিরুদ্ধে গর্জে উঠেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। তিনি স্পষ্ট ভাষায় জানিয়ে দেন, শুধু ধর্ষণ-খুনের সঙ্গে জড়িতদের সাজা নয়, যারা গণপিটুনি, পুলিশকে মারধর এবং রেললাইন অবরোধ ও অশান্তিতে জড়িত তাদের কাউকেই ছাড়া হবে না। 

নাবালিকার ধর্ষণ ও খুনের ঘটনায় রবিবার অগ্নিগর্ভ হয়ে ওঠে বারুইপুর। নাবালিকার দেহ রাস্তায় রেখে শুরু হয় বিক্ষোভ। পুলিশকে লক্ষ্য করে ইট, কাচের বোতল ছোড়া হয়। গণপিটুনিতে মৃত্য়ু হয় ইন্দ্র মণ্ডল নামে বছর পঁয়ত্রিশের এক যুবকের। এরপর মঙ্গলবার বারুইপুরে গিয়ে এই ঘটনায় কড়া ব্যবস্থা নেওয়ার হুঁশিয়ারি দেন মুখ্য়মন্ত্রী। এর ২৪ ঘণ্টার মধ্যেই বারুইপুরে পুলিশের ওপর হামলা, গণপিটুনি, ও সরকারি সম্পত্তি নষ্টের ঘটনায় গ্রেফতার করা হয়েছে বহু অভিযুক্তকে। 

আরও পড়ুন – গোপনাঙ্গে আঘাত, মাথায় ক্ষত ! জীবিত অবস্থাতেই ফেলা হয় জলে, ময়নাতদন্তের রিপোর্টে ভয়াবহ নৃশংসতা

বারুইপুরে একটি ছোট্ট বাড়িতে থাকতেন ইন্দ্রজিৎ মণ্ডল। অভাবের সংসার তাঁদের। অটো চালাতেন তিনি। বাবার একটি দোকান রয়েছে। দাদা গাড়ি চালিয়ে রোজগার করতেন। কিন্তু অসুস্থ হয়ে পড়ায় সেটাও বন্ধ হয়ে যায়। গণপিটুনিতে নিরপরাধ ছেলের এমন পরিণতিতে হাহাকার নেমে এসেছে পরিবারে। একমাত্র রোজগেরে ছিল ছেলে। কারণ বাবার দোকান সেই ভাবে চলত না। 

গণপিটুনিতে নিহত ইন্দ্রজিৎ মণ্ডলের বউদি বলেন, ”এইখানটায় সবাই ঘরে বসেছিল। মারতে মারতে জামার কলার ধরে নিয়ে চলে গেল। প্রচুর লোক, প্রচুর লোক। আমরাও পিছনে পিছনে গেছি। পিছনে পিছনে যাচ্ছিলাম। সবাই বলে তোমাদেরও মেরে দেব। বাঁশ ছিল, তারপর ইট, লাঠি মেরেছে। ভয়েতে আবার জলে পড়ে গেছে। এখান থেকে নিয়ে বাজারে, ওখানে মরে গেছে। এখান থেকে বলছে আমি করিনি, আমি করিনি।” ইন্দ্রজিৎ-এর মা জানান, ”হ্যাঁ বাবা, সকালের ঘটনা। আমার বাবারে এরকম করে ধরে আছে। দেখতে পাই না…আমার বাবার কত কষ্ট…আমার সামনে দিয়ে ছুটে পালাচ্ছে। আমিও পিছন দিয়ে ছুটে গেছি, আমার বাবা যাতে পালাতে পারে। আমাদের তো পিছনে ভয় আছে যদি কিছু হয়। কী বলব, আমার কোলের ছেলে বাবা।”



Source link

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *