নয়া দিল্লি: মাঝ আকাশে ভয়াবহ পরিস্থিতি। দুবাই থেকে তেল আভিভগামী ফ্লাইদুবাইয়ের FZ1073 বিমানের ককপিটে আচমকাই দুই পাইলটের মধ্যে সংঘর্ষ। অভিযোগ, সহ-পাইলট ছুরি নিয়ে ভারতীয় ক্যাপ্টেন স্মিত মাচ্ছরের উপর হামলা করেন এবং বিমানের নিয়ন্ত্রণে হস্তক্ষেপের চেষ্টা করেন। গুরুতর আহত হওয়ার পরও ককপিটের দরজা খুলে সাহায্যের জন্য চিৎকার করেন স্মিত। এরপর যাত্রী ও ক্রু সদস্যরা ককপিটে ঢুকে হামলাকারীকে কাবু করতে সাহায্য করেন। শেষ পর্যন্ত বিমানটি সৌদি আরবের তাবুকে জরুরি অবতরণ করে।
ঘটনায় বিমানে থাকা ১৭৪ জনের প্রাণ বেঁচেছে বলে জানিয়েছেন ইজরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহু। ভারতীয় ক্যাপ্টেন স্মিত মাচ্ছরের সাহসিকতার প্রশংসা করে তাঁকে ‘সত্যিকারের নায়ক’ বলে উল্লেখ করেছেন নেতানিয়াহু। তাঁর বক্তব্য অনুযায়ী, ছুরিকাঘাতে গুরুতর আহত হওয়ার পরও স্মিত প্রতিরোধ করেন, ককপিটের দরজা খুলে দেন এবং যাত্রী ও ক্রুদের হামলাকারীকে নিয়ন্ত্রণে আনার সুযোগ করে দেন।
স্মিত মাচ্ছরের সাহসিকতার প্রশংসায় ট্রাম্প
এই ঘটনার পর ভারতীয় পাইলটের সাহসিকতার প্রশংসা করেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পও। ওভাল অফিসে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলার সময় ট্রাম্প জানান, তিনি ইজরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহুর সঙ্গে এই ঘটনা নিয়ে দীর্ঘক্ষণ কথা বলেছেন। নেতানিয়াহুর কাছ থেকেই তিনি ঘটনাটির বিস্তারিত বিবরণ পেয়েছেন বলে জানান ট্রাম্প।
ট্রাম্পের কথায়, ছুরিকাঘাতে পাইলট তখন অত্যন্ত খারাপ অবস্থায় ছিলেন। কিন্তু সেই অবস্থাতেও তিনি ককপিটের দরজা খুলে সাহায্যের জন্য চিৎকার করেন। ট্রাম্প এই কাজটিকেই অসাধারণ সাহসিকতা হিসেবে বর্ণনা করে স্মিত মাচ্ছরকে ‘হিরো’ বলেন।
ট্রাম্প আরও বলেন, নেতানিয়াহুর কাছ থেকে তিনি শুনেছেন যে একজন ইজরায়েলি যাত্রী ককপিটে ঢুকে হামলাকারীকে সরিয়ে দেন। ওই যাত্রী পেশায় প্লাম্বার এবং আগে কখনও বিমান চালাননি বলেও ট্রাম্প দাবি করেন। তাঁর বর্ণনা অনুযায়ী, ওই যাত্রী হামলাকারীকে পাইলটের আসন থেকে সরিয়ে দেন এবং পরে অন্য যাত্রী ও ক্রু সদস্যরা তাঁকে নিয়ন্ত্রণে আনতে সাহায্য করেন।
তবে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হল, ট্রাম্প নিজেই স্পষ্ট করেছেন যে তিনি ঘটনাস্থলে ছিলেন না এবং নেতানিয়াহুর কাছ থেকে পাওয়া বিবরণই সাংবাদিকদের জানিয়েছেন। তিনি বলেন, সেটিই তিনি শুনেছেন, যদিও পুরো ঘটনাটি তিনি স্বাধীনভাবে যাচাই করেননি। ফলে তদন্ত শেষ হওয়ার আগে ট্রাম্পের বর্ণিত কিছু বিষয়কে চূড়ান্ত তথ্য হিসেবে দেখার ক্ষেত্রে সতর্কতা প্রয়োজন।
কী ঘটেছিল বিমানে?
৩০ সেপ্টেম্বর দুবাই থেকে তেল আভিভের উদ্দেশে রওনা হয়েছিল ফ্লাইদুবাইয়ের FZ1073। মাঝ আকাশে ককপিটে দুই পাইলটের মধ্যে সংঘর্ষ শুরু হয়। প্রাথমিক তথ্য অনুযায়ী, সহ-পাইলট ভারতীয় ক্যাপ্টেন স্মিত মাচ্ছরকে ছুরি দিয়ে আঘাত করেন এবং বিমানের নিয়ন্ত্রণে হস্তক্ষেপের চেষ্টা করেন। এর পর বিমানটি দ্রুত উচ্চতা হারায়। Reuters জানিয়েছে, প্রায় ৩০ সেকেন্ডের মধ্যে বিমানটি প্রায় ১৪ হাজার ফুট উচ্চতা হারিয়েছিল।
এই অবস্থায় আহত ক্যাপ্টেন স্মিত ককপিটের দরজা খুলে দেন। যাত্রী ও ক্রু সদস্যরা ভিতরে ঢুকে হামলাকারীকে কাবু করেন। বিমানে থাকা আরও পাইলটরা পরে ককপিটের নিয়ন্ত্রণ নেন। বিমানটির গতিপথ পরিবর্তন করে সৌদি আরবের তাবুকে নিরাপদে অবতরণ করানো হয়।
এখন কেমন আছেন ভারতীয় পাইলট?
ভারতীয় দূতাবাস জানিয়েছে, ক্যাপ্টেন স্মিত মাচ্ছর সৌদি আরবের তাবুকের একটি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন এবং তাঁর অবস্থা স্থিতিশীল। তাঁর পরিবারের সঙ্গে দূতাবাস যোগাযোগ রাখছে এবং প্রয়োজনীয় সহায়তা দেওয়া হচ্ছে।
ঘটনার তদন্ত চলছে। সহ-পাইলটকে সৌদি কর্তৃপক্ষের হেফাজতে নেওয়া হয়েছে। হামলার সঠিক উদ্দেশ্য এখনও নিশ্চিত নয়। ফ্লাইদুবাইও ককপিটে সংঘর্ষের ঘটনা নিশ্চিত করলেও তদন্ত শেষ হওয়ার আগে কোনও ধরনের জল্পনা না করার আহ্বান জানিয়েছে।
একদিকে নেতানিয়াহু ভারতীয় ক্যাপ্টেন স্মিত মাচ্ছরকে ‘সত্যিকারের নায়ক’ বলেছেন, অন্যদিকে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পও তাঁর সাহসিকতার প্রশংসা করেছেন। মাঝ আকাশে ভয়াবহ বিপদের মধ্যে আহত অবস্থাতেও ককপিটের দরজা খুলে সাহায্যের সুযোগ করে দেওয়া—এই ঘটনাই এখন আন্তর্জাতিক মহলে ভারতীয় পাইলটের সাহসিকতার অন্যতম আলোচিত দিক হয়ে উঠেছে।
Milan Pradhan: Nandigram-এর Congress-এর প্রার্থী মিলন প্রধানের জেলমুক্তি
