কলকাতা: দলের অভ্যন্তরে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের উপর চাপ ক্রমাগত বাড়ছে। আগেও সরব হয়েছিলেন কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়, আর এবার দলের মধ্যে থেকেই এই নিয়ে সরব হয়েছেন তিনি। ‘ক্যামাক স্ট্রিট আমাদের দলটাকে শেষ করে দিয়েছে’, হতাশা শোনা গেল শ্রীরামপুরের সাংসদের গলায়। একই সঙ্গে ‘ঋতব্রত তৃণমূল’কেও নিশানা সাংসদের। আর এবার তাঁকে খোঁচা দিলেন রাজ্যের মন্ত্রী দিলীপ ঘোষ।
কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়কে কটাক্ষ করে দিলীপ ঘোষ বলেন, “উনি নিজে কোন দিকে আছেন? কখন কোন দিকে যাচ্ছেন? সেটা আগে ঠিক করুন। উনি কনফিউজ।” কল্যাণ দু’দিকেই রয়েছেন কটাক্ষ দিলীপের। তিনি বলেন, “একটা পা কালীঘাটে। আরেকটা ঋতব্রতর দিকে। ১৯৮৯ সালে তৃণমূলের সূচনায় একই ধরনের জিনিস হয়েছিল। লোকসভা ভোটের মুখে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় তৃণমূল গড়েছিলেন। তখন কংগ্রেস নেতাদের মধ্যে এই ধরনের কনফিউশন তৈরি হয়েছিল। তখন অনেকে আমাকে জিজ্ঞাসা করেছিল কোন দিকে যাবো? কংগ্রেস চিরকাল কনফিউজ। সারা দেশকে কনফিউজ করেছে। তার সঙ্গে যারা যুক্ত তারাও কনফিউজ। এই ড্রামা চলছে। কিছু লোক বেরিয়ে এসেছে। কিছু ফিরে যাবে। কিছু লোক আলাদা গোষ্ঠী হয়ে কিছুদিন থাকবে। বাংলার রাজনীতিতে এই ড্রামা খোলাখুলি আমরা প্রথমবার দেখলাম। বিরোধী দল তাদের দায়িত্ব পালন করুন এটুকুই বলব।”
কী বলেছিলেন কল্যাণ? গত ১৪ জুলাই ক্যামাক স্ট্রিট নিয়ে বক্তব্য রাখতে দেখা গিয়েছিল কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়কে। এক কথায় হতাশা ঝরে পড়ে তাঁর গলা থেকে। শ্রীরামপুরের সাংসদ বলেন, “ক্যামাক স্ট্রিটটা আমাদের দলটাকে শেষ করে দিল। আজ যারা বড় বড় বক্তৃতা দিচ্ছে, অভিষেকের বিরুদ্ধে বলছে, ২০২২ -এ আমি যখন বলেছিলাম, এরাই আমার বিরোধিতা করেছিল। তোমরাই তো আইপ্যাককে মাথায় তুলেছ। তোমাদের মধ্যে কেউ কেউ, সুমিত যদি দু’বার কথা বলে, তো জীবন ধন্য হয়ে গিয়েছে তোমাদের। আইপ্যাক তোমাদের সঙ্গে কথা বললে, তোমরা বলেছ জীবন ধন্য হয়ে গিয়েছে। তোমরা সব বেনিফিট নিয়েছ, আইপ্যাকের বেনিফিট নিয়েছ। ক্যামক স্ট্রিটের বেনিফিট নিয়েছ। নিজেদের নেতা বলে প্রতিষ্ঠিত করেছ। অভিষেকের লোক বলে চাপ সৃষ্টি করেছ।”
আরও পড়ুন: সক্রিয় মৌসুমী অক্ষরেখা, রয়েছে ঘূর্ণাবর্তও; রথের দিন ভাসবে উত্তর থেকে দক্ষিণ
তবে শুধু কল্যাণ নয়, এর আগেও অভিষেকের বিরুদ্ধে বারবার ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন প্রাক্তন মন্ত্রী রবীন্দ্রনাথ ঘোষ থেকে অনুব্রত মণ্ডল। রবীন্দ্রনাথ ঘোষ বলছেন, “অভিষেককে কিছুদিনের জন্য আলাদা করে দেওয়া উচিত। সাইড করে দেওয়া উচিত। রাজনীতির অঙ্গন থেকে সরিয়ে রাখা উচিত। দিদি যদি সংশোধন করে, মানুষের দাবির প্রতি যদি দিদি আস্থা দেখায়, অর্থাৎ অভিষেককে যদি সাইড করে দেয় দল থেকে, তাহলে হয়তো আবারও সমস্ত নেতা-নেত্রী, MLA, MP আবার ফিরতে পারে দিদির পাশে।”
অনুব্রত মণ্ডল বলেন, “মমতা ব্যানার্জির ভুলের জন্য হল। দিদির হাতে থাকলে দলটা যেতই না। আমি কারও নাম করতে রাজি নই। ছোট থেকে তো ও রাজনীতি করেনি। দেওয়ালও লেখেনি, মিছিলও করেনি। সেটা আমরা করেছি। সেই ভাবে তো ওঁকে করতে হয়নি।”
