অমৃতসর: পঞ্জাবে গুলি করে খুন ইনফ্লুয়েন্সার তথা LGBTQ+ সমাজের প্রতিনিধি ম্যাড সান্ধুকে। মোটর সাইকেলে চেপে এসে হামলা চালায় দুই আততায়ী। এলোপাথাড়ি গুলি চালানো হয়। রক্তাক্ত অবস্থায় হাসপাতালে নিয়ে যাওয়ার পথে মৃত্যু হয় তাঁর। ‘Goldy Dhillon’ নামের একটি ফেসবুক অ্যাকাউন্টের পোস্টে হামলার দায় স্বীকার করা হয়েছে। (Influencer Shot Dead in Punjab)
শনিবার সন্ধেয় অমৃতসরের লোহারকা রোডে সান্ধুর উপর হামলা হয়। জানা গিয়েছে, নিজের গাড়ি পরিষ্কার করতে দিয়েছিলেন সান্ধু। শনিবার সন্ধেয় গাড়িটি নিতে এসেছিলেন তিনি। সেই সময়ই মোটর সাইকেলে সওয়ার দুই অজ্ঞাত পরিচয় দুই যুবক গুলি চালায় তাঁর উপর। (Influencer Murdered)
পুলিশের অ্যাডিশনাল ডেপুটি কমিশনার জানিয়েছেন, রক্তাক্ত অবস্থায় সান্ধু লুটিয়ে পড়ার পরই ঘটনাস্থল থেকে চম্পট দেয় ওই দুই আততায়ী। এর পর রক্তাক্ত অবস্থায় সান্ধুকে উদ্ধার করে হাসপাতালে নিয়ে যাওয়ার চেষ্টা হয়। কিন্তু রাস্তাতেই মারা যান তিনি। সান্ধুকে লক্ষ্য করে দু’-তিন রাউন্ড গুলি চালানো হয়। খুব কাছ থেকে গুলি চালানো হয় বলে দাবি করেছেন প্রত্যক্ষদর্শীরা।
আরও পড়ুন: বাড়িতে অগ্নিদগ্ধ ঋতব্রত-তৃণমূলের বিধায়ক বায়রন বিশ্বাস, অবস্থা কতটা গুরুতর? এখন কেমন আছেন?
ঘটনাস্থল থেকে একটি ভিডিও সামনে এসেছে, যেখানে রাস্তার উপর রক্তাক্ত অবস্থায় পড়ে থাকতে দেখা গিয়েছে সান্ধুকে। কিছু মানুষজন তাঁকে তোলার চেষ্টা করছেন। খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে পৌঁছয় পুলিশ। আততায়ীদের খোঁজ চলছে বলে জানানো হয়েছে। তবে খুনের নেপথ্যকারণ এখনও পর্যন্ত স্পষ্ট নয়। তাই সব দিকই খতিয়ে দেখা হচ্ছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।
তবে এই ঘটনার পরই ফেসবুকে ‘Goldy Dhillon’ নামের একটি অ্যাকাউন্ট থেকে সান্ধুকে খুনের দায় স্বীকার করা হয়। লেখা হয়, ‘পঞ্জাবকে নষ্ট করছিলেন সান্ধু’। ওই পোস্টটিকেও তদন্তের আওতায় আনা হয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ। এই ঘটনায় নতুন করে উত্তেজনা ছড়িয়েছে। কারণ একবছর আগে ভাটিন্ডায় ঠিক একই কায়দায় খুন করা হয় আর এক ইনফ্লুয়েন্সার ‘কামাল কৌর ভাবী’ ওরফে কাঞ্চন কৌরকে। সেবার চরমপন্থী শিখ সংগঠন খুনের দায় স্বীকার করে। ‘অশ্লীল’ ভিডিও পোস্ট করার দরুণ কাঞ্চনকে খুন করা হয়েছে বলে জানায়।
সান্ধুর খুনের নেপথ্যেও তেমন কোনও সংগঠনের হাত থাকতে পারে বলে মনে করছেন তাঁর অনুরাগীরা। সান্ধুর আসল নাম মধুসূদন। তিনি মেকআপ আর্টিস্টও ছিলেন। একাধিক পডকাস্টে মেকআপের খুঁটিনাটি নিয়ে আলোচনায় যোগ দিয়েছেন। পাশাপাশি, নিজের লিঙ্গ পরিচয় নিয়েও খোলামেলা আলোচনা করতেন। LGBTQ+ সমাজের প্রতিনিধি হিসেবে গর্ববোধ করতেন তিনি। সোশ্য়াল মিডিয়ায় সমালোচকদের জবাব দিতেও দ্বিধা করতেন না। তাঁর সাফ বক্তব্য ছিল, “ঈশ্বর এভাবেই তৈরি করেছেন আমাকে। সমকামিতা কখনও গোপন করিনি আমি।”
ফ্যাশন জগতের সঙ্গে যুক্ত ছিলেন সান্ধু। পঞ্জাব এবং মুম্বইয়ে কাজ করেছেন। ইনস্টাগ্রামে বেশ জনপ্রিয় ছিলেন তিনি। পঞ্জাবের একাধিক ছবিতেও কাজ করেছেন।
