কলকাতা: হাতে যদি ১০ লক্ষ টাকা বিনিয়োগের জন্য প্রস্তুত থাকে, তাহলে বড় প্রশ্ন হল—পুরো টাকা একসঙ্গে বিনিয়োগ করা হবে, নাকি ধাপে ধাপে বাজারে ঢোকানো হবে? লাম্পসাম, SIP এবং STP—এই তিনটি পদ্ধতির মধ্যে কোনটি উপযুক্ত হবে, তা নির্ভর করে বিনিয়োগকারীর ঝুঁকি নেওয়ার ক্ষমতা, বিনিয়োগের সময়সীমা এবং বাজারের ওঠানামা কতটা স্বাচ্ছন্দ্যের সঙ্গে সামলাতে পারেন তার উপর।
আরও পড়ুন: ১৫ কোটির বেশি মানুষের জনধন অ্যাকাউন্ট নিষ্ক্রিয়, টাকা নেই ৫ কোটির বেশি অ্যাকাউন্টে!
লাম্পসাম বিনিয়োগের ক্ষেত্রে পুরো ১০ লক্ষ টাকা একবারে মিউচুয়াল ফান্ডে বিনিয়োগ করা হয়। ইক্যুইটি ফান্ডে পুরো অর্থ একসঙ্গে বিনিয়োগ করলে বাজারের উত্থান-পতনের প্রভাবও সম্পূর্ণ বিনিয়োগের উপর পড়ে। বাজার বাড়লে লাভের সুযোগ থাকে, আবার বাজার পড়লে ক্ষতির আশঙ্কাও থাকে। তাই এই পদ্ধতিতে বিনিয়োগের সময় বাজারের অবস্থান গুরুত্বপূর্ণ হয়ে ওঠে।
অন্যদিকে SIP-এর মাধ্যমে নির্দিষ্ট সময় অন্তর নির্দিষ্ট পরিমাণ অর্থ মিউচুয়াল ফান্ডে বিনিয়োগ করা হয়। হাতে ১০ লক্ষ টাকা থাকলেও সেটিকে ছোট ছোট অংশে ভাগ করে নির্দিষ্ট সময় ধরে বিনিয়োগ করা যেতে পারে। এতে একবারে পুরো অর্থ বাজারের ওঠানামার মুখে পড়ে না।
আরও পড়ুন: প্রভিডেন্ট ফান্ডে টাকা জমিয়েই কোটি কোটি টাকার মালিক, চাকরির বেতন থেকে কীভাবে হতে পারে এত বড় তহবিল?
STP বা সিস্টেমেটিক ট্রান্সফার প্ল্যান এক্ষেত্রে মাঝামাঝি একটি পথ হতে পারে। এই পদ্ধতিতে প্রথমে পুরো ১০ লক্ষ টাকা একটি উৎস ফান্ডে, সাধারণত ডেট বা লিকুইড ফান্ডে বিনিয়োগ করা হয়। এরপর নির্দিষ্ট অঙ্ক নিয়মিত ওই ফান্ড থেকে ইক্যুইটি ফান্ডে স্থানান্তরিত করা হয়।
যেমন, প্রতি মাসে ১ লক্ষ টাকা করে ইক্যুইটি ফান্ডে স্থানান্তর করলে ১০ মাসে পুরো ১০ লক্ষ টাকা বিনিয়োগ হয়ে যাবে। এই সময়ে উৎস ফান্ডে থাকা অর্থও রিটার্ন অর্জনের সুযোগ পায়। তবে তিনটি পদ্ধতির মধ্যে কোনও একটিই সব পরিস্থিতিতে সেরা নয়। দীর্ঘমেয়াদি বিনিয়োগ এবং বাজারের ওঠানামা সামলানোর মানসিকতা থাকলে লাম্পসাম উপযুক্ত হতে পারে। অন্যদিকে ধাপে ধাপে বাজারে ঢুকতে স্বাচ্ছন্দ্যবোধ করলে SIP বা STP বিবেচনা করা যেতে পারে।
