নন্দীগ্রাম: উপনির্বাচনের আগে টানটান উত্তেজনা। নন্দীগ্রামে মমতা সর্বভারতীয় তৃণমূল কংগ্রেসের প্রার্থী সঞ্চিতা প্রধান দে প্রার্থীপদ প্রত্যাহার করেছিলেন গতকাল। মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর সঙ্গে সাক্ষাতের পরই প্রার্থীপদ প্রত্যাহার করেন মমতা অল ইন্ডিয়া তৃণমূল কংগ্রেসের প্রার্থী। এই ইস্যুকে তুলে ধরে মমতা বন্দ্যোপাধ্য়ায়কে খোঁচা দিতে ছাড়েননি বিজেপি বিধায়ক কৌস্তভ বাগচি। তিনি বলেন, ‘খেলা হবে, খেলা হবে করতে গিয়ে পশ্চিমবঙ্গের মানুষের সঙ্গে এত ছিনিমিনি খেলেছেন। তাদের ভবিষ্যৎ নিয়ে খেলেছেন। নিজের দলের লোকজনের সঙ্গেও এমনভাবে খেলেছেন। যে এখন আর খেলতে চাইলেও তাঁর খেলার আর সঙ্গী পাচ্ছেন না। তিনি একা বল নিয়ে বসে আছেন।’
নন্দীগ্রামের তৃণমূল নেতা আবু তাহের বলছেন, ‘আমি এটা আরও আগে বলেছিলাম যে মমতা বন্দ্যোপাধ্য়ায়কে কেউ না কেউ ভুল বুঝিয়ে প্রার্থীটা দিয়েছেন। সব নকল লোককে পাশে বসিয়ে রাজনীতি করেছেন। চোখ দিয়ে নয়, কান দিয়ে দেখতেন উনি। আমরা কোনও অভিযোগ নিয়ে গেলে উনি বলতেন যে তােদের কিছু বলতে হবে না, সব হাতের মুঠোয় আছে ওনার। এখন উনি বুঝতে পারছেন কে কেমন লোক। ওঁনার ফসল অন্য় লোক জোর করে তুলে নিয়ে চলে যাচ্ছে। যে নন্দীগ্রামেো আমরা আন্দোলন করেছিলাম, কত লোক আক্রান্ত হয়েছিলাম, বাড়িছাড়া হয়েছে অনেকে। আজকের দিনে দাঁড়িয়ে আমরা একের পর এক মামলায় জর্জরিত। কিন্তু দল কিন্তু আমাদের পাশে নেই। নন্দীগ্রামের ফলাফল যা হওয়ার তাইই হবে। ফলাফল হয়েই গিয়েছে। মাঠে খেলার মত আর তো কেউ নেই। সব খেলােয়াড় ছত্রভঙ্গ। কেউ নেই।’
এদিকে, নন্দীগ্রামে সঞ্চিতা প্রধান দে প্রার্থী পদ প্রত্যাহারের পরেই কংগ্রেস প্রার্থীকে সমর্থনের ঘোষণা মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের। তিনি বলেন, ‘নন্দীগ্রামে উপনির্বাচনে আমরা কংগ্রেসকে সমর্থনের সিদ্ধান্ত নিয়েছি। ইন্ডি জোটকে শক্তিশালী করতে কংগ্রেসকে সমর্থন করছে। রেজিনগরের বিষয়ে পরে সিদ্ধান্ত নেব।’
এদিকে, নন্দীগ্রামে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় কংগ্রেসকে সমর্থনের কথা বললেও অধীর চৌধুরী জানিয়েছেন, ‘মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় কখন বলছেন সেটা দেখতে হবে। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় তখন বলছেন যখন তাঁর দলের প্রার্থী ভয়ে-প্রলোভনে আর দলের হয়ে লড়তে রাজি হলেন না। অর্থাৎ, তিনি যে খেলাটা খেলবেন, ফুটবল খেলোয়াড় হিসাবে প্রতীক নিয়ে, সেই প্রতীকে তিনি তাঁর দলের কোনও খেলোয়াড়ই পেলেন না। কাকে নিয়ে খেলবেন তিনি? এই জায়গাটা বুঝতে হবে। এক। আর একদিকে আছে, খাম প্রতীক। খামের তলায় তো যা দেওয়ার দিয়ে এসেছে বিজেপি। ফলে, খাম খামেই থাকবে। খামের মুখ আর খুলবে না। ফলে, সেই জায়গায় দাঁড়িয়ে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের মনে হয়েছে যে তৃতীয় কোনও শক্তি থাকলে তার নাম হচ্ছে কংগ্রেস। আমার বিশ্বাস আসল লড়াইটা হবে বিজেপি ও কংগ্রেসের মধ্য়ে।’
Ritabrata Banerjee: “আমরা বলছি এটা হিমশৈলের চূড়া মাত্র”, কোন প্রসঙ্গে বললেন ঋতব্রত? | ABP Ananda
