নয়াদিল্লি: বিশে জুলাই যন্তরমন্তরে অমানবিকভাবে পড়ুয়াদের ওপর লাঠিচার্জ করেছিল পুলিশ। কার্যত পড়ুয়ার গায়ের ওপর টিয়ার গ্যাসের শেল চার্জ করতে দেখা গেছিল পুলিশকে। আর বুধবার, পুলিশের ওপর ব্যাপক হামলা চালায় বিক্ষোভকারীরা। ছোড়া হয় পাথর, জলের বোতল। প্রশ্ন উঠছে, ক্রাউড ম্যানেজমেন্টে কেন ব্যর্থ হল দিল্লি পুলিশ?
আরও পড়ুন, ২৪-র NEET-UG র প্রশ্ন ফাঁস কাণ্ডে, ‘প্রমাণের অভাবে’ ধৃত ‘কিংপিন’কেই ক্লিনচিট দিল CBI
নিট। ডাক্তারির স্নাতক স্তরের সর্বভারতীয় প্রবেশিকা। কিন্তু প্রশ্নফাঁসের জেরে সেই পরীক্ষাই বাতিল। আর এই ঘটনা একবার নয়, বারবার। এর জেরেই ক্ষোভে ফেটে পড়েছেন কোটি কোটি পড়ুয়া। কিন্তু পরিস্থিতি এত ভয়ঙ্কর হল কী করে? আন্দোলন দেশজুড়ে ছড়াচ্ছে কী করে? দিল্লির যন্তরমন্তর পড়ুয়াদের ওপর এলোপাথারি লাঠিচার্জ করে পুলিশ। এমনও দেখা গেছে, আন্দোলনকারী পড়ুয়াকে তুলে আছাড় মারছে পুলিশ।
ফুটেজে দেখা যাচ্ছে, রাস্তায় মোবাইল হাতে দাঁড়িয়ে থাকা আন্দোলনকারীকে চতুর্দিক দিয়ে ঘিরে পেটাচ্ছে পুলিশ। দৌঁড়তে থাকা পড়ুয়ার সামনে পুলিশ পা এগিয়ে দেওয়ায়, হোঁচট খেয়ে পড়ে যান ওই আন্দোলনকারী। এক পড়ুয়ার কার্যত গায়ের ওপর টিয়ার গ্যাসের শেল চার্জ করতে দেখা যায়। আরেকটি ছবিতে দেখা যাচ্ছে, দাঁড়িয়ে থাকা পড়ুয়াকে লাঠি দিয়ে বেধরক মারছে পুলিশ। তবু পুলিশের লাঠির সামনে সে দাঁড়িয়ে রয়েছে অবিচলভাবে। দিল্লি পুলিশের অ্যাডিশনাল ডিসিপি সন্দীপ লাম্বাকে দেখা যায়, রাস্তার ধারে দাঁড়িয়ে থাকা মহিলাকে সটান গিয়ে থাপ্পড় মারতে। এখানে অনেকে প্রশ্ন তুলছেন, IPS পদমর্যাদার আধিকারিকও কি আইন নিয়ে ওয়াকিবহাল নন?
আন্দোলনকারী বলেন, ছোট ছোট স্কুলের বাচ্চারা এসেছে। তাদের মেরে মাথা ফাটিয়ে দেওয়া হয়েছে। পা ভেঙে দেওয়া হয়েছে। যখন জিজ্ঞেস করছে ডাক্তার কোথায়? বলছে সামনে এগিয়ে যাও। প্রথমে মারছে, তারপর বলছে ডাক্তার সামনে আছে ওদিকে যাও। এর ঠিক উল্টো ছবিও ধরা পড়েছে। বুধবার রাত সাড়ে ৮টা যন্তর মন্তর থেকে প্রায় ৩-৪ হাজার বিক্ষোভকারী এসে জড়ো হন টলস্টয় মার্গে।পুলিশ বিক্ষোভকারীদেরকে যন্তরমন্তরে ফিরে যেতে বলার পরই উত্তপ্ত হয়ে ওঠে পরিস্থিতি। ছোড়া শুরু হয় জলের বোতল। হামলার হাত থেকে বাঁচতে শূন্যে লাঠি ঘোরায় পুলিশ। ভিড়ের মধ্যেই ২ পুলিশকর্মীকে মারধর করা হয়। আহত হন এসিপি বিবেক ভগত।
দিল্লি পুলিশ আহত এসিপি বিবেক ভগত বলেন, লাথি, ঘুষি মারা হয়েছিল। অশ্রাব্য ভাষায় গালিগালাজ করা হয়েছিল। দিল্লি পুলিশ আহত এসিপি জয়প্রকাশ বলেন, ‘প্লাস্টিকের বোতল, পাথর ছোড়া হচ্ছিল। আমার মাথায় একটা পাথর এসে লাগে।’ দিল্লি পুলিশের ৩ জন এসিপি-সহ ৬ জন আহত হন। এরপর লাঠিচার্জ শুরু করে পুলিশ। পুলিশের বিরুদ্ধে এই হামলাকে যেমন কেউ কোনওভাবেই সমর্থন করছেন না, তেমনই নানা মহলে এই প্রশ্নও উঠছে, ক্রাউড ম্যানেজমেন্টে কি তাহলে পুরোপুরি ব্যর্থ হয়েছে কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রকের অধীনস্থ দিল্লি পুলিশ?
