
নেপালে লাফিয়ে বাড়ছে মৃতের সংখ্যা। এখনও পর্যন্ত ১৬০ জনের মৃত্যুর খবর। বিপর্যয়ের পর নিখোঁজের সংখ্যা অন্তত ৭৫০। খোঁজ মিলছে না নেপালে ঘুরতে যাওয়া ১৩৩ জন ভারতীয়র। আরও বহু বিদেশি পর্যটক নিখোঁজ। জানা গিয়েছে, এর মধ্যে আমেরিকার ৪৭, ব্রিটেনের ৩৩ জন নাগরিক নিখোঁজ রয়েছেন।

পাশাপাশি খোঁজ মিলছে না অস্ট্রেলিয়ার ৩৪ ও কানাডার ২৪ জন নাগরিকের। নেপালের সেনা বিস্তীর্ণ অঞ্চল জুড়ে উদ্ধারকাজ চালাচ্ছে। সঙ্কটকালে পাশে দাঁড়িয়েছে ভারত।

পরিস্থিতি মোকাবিলায় বৈঠক ডেকেছেন নেপালের প্রধানমন্ত্রী বালেন্দ্র শাহ।ভারতীয় বিমানবাহিনীর বিশেষ সামরিক বিমান C 130J করে ত্রাণসামগ্রী ও চিকিৎসার সরঞ্জাম পাঠানো হয়েছে কাঠমান্ডুতে। যার মোট পরিমাণ ১০ টন।

নেপালে হড়পা বানে ক্ষতিগ্রস্ত ৬টি জেলা। ভেসে গিয়েছে একাধিক সেতু ও বাড়ি। বহু মানুষের মৃত্যু হয়েছে। মুখ্যমন্ত্রীর নির্দেশে, রাজ্যের ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলিকে সাহায্যের হাত এগিয়ে দিল পশ্চিমবঙ্গ পুলিশ।

ইতিমধ্যেই ভবানী ভবনে খোলা হয়েছে কন্ট্রোল রুম। কারও আপনজন যদি নেপালে গিয়ে আটকে পড়ে থাকেন, বা তাঁদের কোনওধরণের সাহায্যের প্রয়োজন হয়, সেক্ষেত্রে তাঁদেরকে নিরাপদে ফিরিয়ে আনার জন্য সবভাবে চেষ্টা করা হবে। কঠিন সময়ে আপনাদের পাশে আছি বলে বিশেষ বার্তা পশ্চিমবঙ্গ পুলিশের। কন্ট্রোল রুমে যোগাযোগের জন্য দেওয়া হয়েছে হেল্প লাইন নাম্বার।

সূত্রের খবর, পরিস্থিতি মোকাবিলায় ভারতের সাহায্য চেয়েছে নেপাল। হ্যান্ডলে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি লিখেছেন, নেপালের প্রধানমন্ত্রী বলেন্দ্র শাহর সঙ্গে কথা বলেছি। এই কঠিন সময়ে ভারতের মানুষ নেপালের ভাই-বোনদের পাশে আছে। নেপালকে সব ধরনের মানবিক সাহায্য দিতে ভারত প্রস্তুত। উদ্ধার ও ত্রাণকাজে আমাদের বিপর্যয় মোকাবিলা দলগুলি নেপাল প্রশাসনের সঙ্গে সমন্বয় করছে।

এদিকে, তিব্বত থেকে নেমে আসা ভোতেকোশি নদী নেপালের ৬ জেলা পার করার পর মিশেছে বিহারমুখী গণ্ডক নদীর সঙ্গে। নেপাল থেকে নেমে আসা জলে ইতিমধ্যেই ফুঁসতে শুরু করেছে গণ্ডক। সেই কারণে, সতর্ক রয়েছে বিহার প্রশাসন।

নেপালে জলপ্রলয়, ফেরাল ২০১৫-র ভয়াবহ বিপর্যয়ের স্মৃতি। অথচ, বুধবার সকালে নেপালের কোথাও বৃষ্টির চিহ্নমাত্র ছিল না। ঝলমলে রোদের সঙ্গে ছিল ঝকঝকে নীল আকাশ। তখন সকাল ৯টা।

স্থানীয় বাসিন্দারা জানিয়েছেন, হঠাৎ তীব্র গুড়গুড় শব্দ শুনতে পান তাঁরা। বাইরে বেরিয়ে দেখেন, বিস্ফোরণের ধোঁয়ার মতো কুণ্ডলী পাকিয়ে নেমে আসছে জলের স্রোত।

প্রশাসন সূত্রে খবর, এদিন সকালে তিব্বত থেকে নেমে আসা ভোতেকোশি নদীর জলস্তর আচমকা বৃদ্ধি পায়। হুড়মুড়িয়ে নেমে আসে হড়পা বাণ। হড়পা বানে ভয়ানক ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে রাসুয়া, নুয়াকোট, ধাদিং, চিতওয়ান সহ নেপালের ৬টি জেলা। ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ জানা না গেলেও ব্যাপক হতাহতের হয়েছে বলে রাসুয়া জেলা প্রশাসন সূত্রে খবর।
Published at : 27 Aug 2026 11:14 AM (IST)
