Pakistani Fairness Cream: ‘মেড ইন পাকিস্তান’ ফেয়ারনেস ক্রিম মেখে অসুস্থ, কিডনির সমস্যা একাধিক মহিলার, ভারতে ঢুকল কী করে?


নয়াদিল্লি: ফর্সা হওয়ার জিগির আজও অব্যাহত। আর তাতেই ভয়ঙ্কর ঘটনা ঘটে গেল। পাকিস্তান থেকে আমদানিকৃত ফেয়ারনেস ক্রিম মেখে অসুস্থ ১৮ জন মহিলা। তাঁদের কিডনির সমস্যা দেখা দিয়েছে বলে খবর। আর তাতেই ওই ফেয়ারনেস ক্রিম নিষিদ্ধ করল মহারাষ্ট্র সরকার। কিন্তু পাকিস্তানের ফেয়ারনেস ক্রিম ভারতে এল কী করে, উঠছে প্রশ্ন। (Goree Fairness Cream)

পাকিস্তানের Goree (গোরী) ফেয়ারনেস ক্রিমের গুণমান নিয়ে প্রশ্ন উঠছে। ওই ক্রিম মেখে সম্প্রতি মহারাষ্ট্রের নাগপুরের ১৮ জন মহিলা অসুস্থ হয়ে পড়েন বলে অভিযোগ। তাঁদের কিডনির সমস্যা দেখা দিয়েছে। পরীক্ষা করে দেখা গিয়েছে, ফেয়ারনেস ক্রিমটিতে পারদের মাত্রা অত্যন্ত বেশি, অনুমোদিত মাত্রার চেয়ে প্রায় ৭৫২ গুণ বেশি। (Pakistani Fairness Cream)

হেলথ ক্রিয়েটর চিরাগ বরজাতিয়া একটি পোস্টে দাবি করেছেন, মহারাষ্ট্রের ফুড অ্যান্ড ড্রাগ অ্যাডমিনিস্ট্রেশন ল্যাবরেটরিতে পাঠিয়েছিল ফেয়ারনেস ক্রিমটি। তাতে দেখা গিয়েছে, আইনত অনুমোদিত মাত্রার চেয়ে ৭৫২ গুণ বেশি পারদ রয়েছে ফেয়ারনেস ক্রিমটিতে। চিরাগ লেখেন, ‘গত দু’বছরে মহারাষ্ট্রের নাগপুরের ১৮ জন মহিলা কিডনির সমস্যা ধরা পড়ে। চিকিৎসকরা জানতে পারেন, ওই ১৮ জনই পাকিস্তানের ফেয়ারনেস ক্রিমটি মাখছিলেন’।

আরও পড়ুন: খামেনেইয়ের শেষযাত্রায় জনসমুদ্র ইরানে, হতবাক ট্রাম্প, বললেন, ‘চাইলে এক তুড়িতেই…’

কিন্তু পাকিস্তানের ফেয়ারনেস ক্রিম নাগপুর পৌঁছল কী করে? জানা গিয়েছে, ইনস্টাগ্রাম পেজ এবং অনলাইন সংস্থা Meesho-র মাধ্যমে ওই ফেয়ারনেস ক্রিমটি কেনা যায়। চিরাগ জানিয়েছেন, পারদ একটি অত্যন্ত বিষাক্ত ধাতু। সেটি মেলানিন উৎপাদন আটতে দেয়। এর ফলে সাময়িক ফর্সা দেখায় ত্বক। আসলে কিন্তু ত্বকের ক্ষতি হয়। ত্বক পারদ শুষে নেয় এবং তা শেষ পর্যন্ত কিডনিতে পৌঁছয়।

মহারাষ্ট্র FDA-র তরফেও এর পর বিবৃতি জারি করা হয়। পাকিস্তানে তৈরি ফেয়ারনেস ক্রিম ব্যবহার নিয়ে সতর্ক করা হয় সকলকে। শনিবার সন্ধেয় বিবৃতি জারি করে জানানো হয় যে, অবিলম্বে ওই ফেয়ারনেস ক্রিম ব্যবহার বন্ধ করতে হবে। সেটি বিক্রি বা বিতরণ করা যাবে না। ‘গোরী’ ফেয়ারনেস ক্রিমের পাশাপাশি পাকিস্তানে তৈরি আরও দু’টি ক্রিম নিষিদ্ধ করা হয়েছে। 

আরও পড়ুন: ভারতের কাছ থেকে ইথানল মিশ্রিত E20 পেট্রোল কেনায় আপত্তি ভুটানের? ফ্যাক্ট চেক করে কেন্দ্র বলল ‘ভুল খবর’

এই ঘটনায় চেম্বুরের এক প্রসাধনী বিক্রেতার বিরুদ্ধে অপরাধমূলক মামলাও দায়ের করে মুম্বই পুলিশ। পাকিস্তান থেকে পণ্য আমদানি পুরোপুরি নিষিদ্ধ হলেও, বেআইনি ভাবে ওই বিক্রেতা পাকিস্তানি প্রসাধনী মজুত এবং বিক্রি করছিলেন বলে অভিযোগ। আরও যে দু’টি প্রসাধনী নিষিদ্ধ করা হয়েছে, তা বহল, Face Fresh Gold Beauty Cream & Beauty Serum এবং Golden Star Beauty Cream. FDA-র ল্য়াবে পরীক্ষা করে দেখা গিয়েছে, বিষাক্ত ভারী ধাতু রয়েছে সেগুলিতে। দীর্ঘ সময় ব্যবহার করলে কিডনি এবং নার্ভাস সিস্টেমের ক্ষতি হয়। 

তদন্তে জানা গিয়েছে, ওই ক্রিমের কৌটোর উপর সঠিক লেবেল ছিল না, উৎপাদনকারী সংস্থার নাম এবং ঠিকানাও ছিল না। ছিল না ব্যাচ নম্বর, ম্যানুফ্যাকচারিং ডেট এবং এক্সপায়ারি ডেট। FDA কমিশনার তুকারাম মুন্ডে শনিবার জানান, জুন মাসে ৩৪টি ম্যানুফ্যাকচারিং ইউনিটে হানা দিয়ে বেআইনি মাদক, ওষুধ সামগ্রী এবং প্রসাধনী উদ্ধার করা হয়, যার বাজারমূল্য প্রায় ৪.১২ কোটি টাকা। 





Source link

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *