Petrol-Diesel : ৩০ হাজার কোটির ক্ষতি, বাড়তে চলেছে পেট্রোল ও ডিজেলের দাম ! কবে থেকে ?


দিল্লি : মধ্যপ্রাচ্যে নতুন করে সংঘাত সৃষ্টি না হলেও, যুদ্ধের আবহে সৃষ্টি হওয়া বিশ্ব বাজারের সঙ্কট থেকে এখনও পুরোপুরি মুক্তি মেলেনি। সূত্রের খবর, বিশ্ববাজারে অপরিশোধিত তেলের অগ্নিমূল্য দাম এবং রাষ্ট্রায়ত্ত তেল সংস্থাগুলির অত্যাধিক লোকসানের জেরে জ্বালানির দাম বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা। গত চার বছর ধরে যে দাম এক জায়গায় স্থিতিশীল ছিল, তা ফের পরিবর্তন হওয়ার সম্ভাবনার খবর আসছে। 

ইরান-মার্কিন যুদ্ধের পর থেকে বিশ্বজুড়ে সৃষ্ট অস্থিরতার কারণে দেশের অয়েল মার্কেটিং সংস্থাগুলি প্রতি মাসে আনুমানিক প্রায় ৩০ হাজার কোটি টাকার আর্থিক ক্ষতির সম্মুখীন হয়েছে। সূত্রের খবর, এই ক্ষতি সামাল দিতেই পেট্রোল-ডিজেলের দাম বাড়ার সম্ভাবনা আছে। বিজনেস টুডে-র এক প্রতিবেদন অনুযায়ী, আগামী ১৫ই মে-র আগে দেশে জ্বালানি তেলের দাম বাড়তে পারে। এর প্রধান কারণ হলো, আন্তর্জাতিক বাজারে অপরিশোধিত তেলের দাম তীব্র বৃদ্ধি। যে অপরিশোধিত তেলের দাম কিছুদিন আগেও ব্যারেল প্রতি প্রায় ৭০ ডলার ছিল, তা এখন ব্যারেল প্রতি ১২৬ ডলারে পৌঁছেছে।

যদিও তেলের দাম বৃদ্ধি নিয়ে কেন্দ্র সরকারের তরফ থেকে এখনও কোনও খবর নেই। সূত্র থেকে জানা গেছে যে, অপরিশোধিত তেলের অত্যাধিক মূল্য বৃদ্ধি এবং হরমুজ প্রণালী বন্ধের ফলে সরবরাহের উপর বড় প্রভাব ফেলছে। যার ফলে দেশের রাষ্ট্রীয় মালিকানাধীন তেল কোম্পানিগুলো, যেমন – ইন্ডিয়ান অয়েল, বিপিসিএল এবং এইচপিসিএল চরম দুর্ভোগের মধ্যে পড়েছে। এই কোম্পানিগুলো প্রতি মাসে প্রায় ৩০,০০০ কোটি টাকার লোকসান হচ্ছে। বর্তমানে, কোম্পানিগুলো পেট্রোলের জন্য প্রতি লিটারে প্রায় ২৪ টাকা এবং ডিজেলের জন্য প্রতি লিটারে প্রায় ৩০ টাকা অতিরিক্ত লোকসানের বোঝা বহন করছে, যা ‘আন্ডার-রিকোভারি’ বা লোকসান হিসেবে পরিচিত।

দাম বাড়লে কতটা প্রভাব পড়বে ? 

বিজনেস টুডে-র প্রতিবেদন অনুযায়ী, পেট্রোল ও ডিজেলের দাম লিটার প্রতি ৪ থেকে ৫ টাকা বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা। এছাড়াও, গৃহস্থালির এলপিজি সিলিন্ডারের দামও ৪০ থেকে ৫০ টাকা বাড়তে পারে বলে সূত্রের খবর। উল্লেখ্য যে, ২০২২ সাল থেকে পেট্রোল ও ডিজেলের দামে কোনও বড় পরিবর্তন হয়নি, কিন্তু এখন তেল কোম্পানিগুলো এই ক্রমবর্ধমান আর্থিক বোঝা বহন করা ক্রমশ কঠিন হয়ে পড়েছে।

সূত্রের খবর, বিশ্বজুড়ে বহু দেশে জ্বালানি সঙ্কট আরও ভয়ঙ্কর পর্যায়ে পৌঁছে যাচ্ছে। এমনকি আমেরিকাতেও পেট্রোলের দাম ব্যাপকভাবে বাড়ানো হয়েছে। বাংলাদেশে রেশনিং চলছে, অন্যদিকে প্রতিবেশী পাকিস্তান ও শ্রীলঙ্কায় কর্মদিবস কমানো হয়েছে। অন্যান্য দেশের তুলনায়, ভারত এখনও পর্যন্ত পরিস্থিতি অনেক ভালোভাবে সামাল দিয়েছে।



Source link

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *