পুণে: তিন বছরের মেয়েকে ধর্ষণ করে খুন। ধর্ষককে মৃত্যুদণ্ডের সাজা শোনালেন বিচারক, একটি নয় তিন-তিনটি। ন্যক্কারজনক অপরাধকে ‘বিরলের মধ্যে বিরলতম’ বলে উল্লেখ করলেন। শিশুটির সরলতা, যন্ত্রণা এবং শেষ মুহূর্তে তার আর্তনাদের কথা মাথায় রেখেই এমন রায় শোনাল আদালত। (Tree Death Sentences to Convict)
মাস দুয়েক আগে মহারাষ্ট্রের পুণেতে তিন বছরের শিশুকন্যাকে ধর্ষণের পর খুন করা হয়। পুণের বিশেষ ফাস্টট্র্যাক কোর্ট সোমবার সেই মামলার সাজা শুনিয়েছে ৬৫ বছর বয়সি ধর্ষককে। সেই সাজা ঘোষণা করতে গিয়ে বিচারক আর এস সালুঙ্খে যে মন্তব্য করেন, তাতে আদালতে উপস্থিত সকলের চোখে জল চলে আসে কার্যত। (Pune News)
সাজাঘোষণা করতে গিয়ে বিচারক সালুঙ্খে জানান, শেষ মুহূর্তে শিশুটির কী অবস্থা হয়েছিল, আদালতকে অবশ্যই তা বুঝতে হবে—শিশুটির শেষ আর্তনাদ, অপরাধীর সঙ্গে সরল মনে হেঁটে যাওয়া, শরীরে ১৮টি ক্ষত, তার মা-বাবার যন্ত্রণা। ধর্ষণ, খুন এবং POCSO আইনের আওতায় অপরাধীকে দোষী সাব্যস্ত করে তিন-তিনটি মৃত্যুদণ্ডের সাজা শোনান তিনি। গোটা ঘটনাকে ‘বিরলের মধ্যে বিরলতম’ বলে উল্লেখ করেন।
আরও পড়ুন: সন্তান চান নায়ক, মা হতে অনীহা নায়িকার, বিয়ে ভাঙছে তারকাদম্পতির
বিচারক সালুঙ্খে বলেন, “বিচার-বিবেচনার পর আদালত মৃত্য়ুদণ্ডকেই উপযুক্ত শাস্তি বলে মনে করেছে।” রায় শোনানোর সময় তিনি বলেন, “এক্ষেত্রে শুধুমাত্র নিভুক্ত তথ্যপ্রমাণ বিবেচনা করলেই চলবে না, আদালতকে ইন্দ্রিয় দিয়ে অনুভব করতে হবে সিসিটিভি ক্যামেরার অডিও-ভিডিওতে রেকর্ড হওয়া শিশুটির শেষ আর্তনাদ, যা অত্যন্ত মর্মভেদী ছিল। ছোট্ট শিশুর শরীরে যে ১৮টি ক্ষত ছিল, তাও অনুভব করতে হবে। অনুভব করতে হবে যৌন নির্যাতনের সময় কী তীব্র যন্ত্রণা সইতে হয় শিশুটিকে।”
যে সিসিটিভি ফুটেজ হাতে পায় পুলিশ, তাতে দেখা যায়, ছোট্ট ছোট্ট পায়ে খুশিমনে অপাধীর সঙ্গে এগিয়ে যাচ্ছে সে। সেই প্রসঙ্গে বিচারক সালুঙ্খে বলেন, “ছোট্ট পায়ে অপরাধীর সঙ্গে হাঁটছিল শিশুটি। শিশুমনে অপরাধীকে বিশ্বাস করেছিল। বাছুরের নতুন জীবন দেখতে উদগ্রীব ছিল সে। কিন্তু তাতে যে নিজের প্রাণটা চলে যাবে, তার জীবন শেষ হয়ে যাবে, তার আঁচও পায়নি। আদালতকে অনুভব করতে হবে। শিশুটির মা-বাবা আদালতের দরজায় বিচার চাইতে এসেছেন মায়ের জন্য।”
আদালত জানায়, যে ১৮টি ক্ষত ছিল, তা দেখে ময়নাতদন্তের রিপোর্টে বলা হয়েছে যে, তিন বছরের মেয়ের উপর পাশবিক অত্যাচার চালায় অপরাধী। ভয়ডরহীন হয়ে, মেয়েটির সঙ্গে বর্বরোচিত আচরণ করেছে সে। পরিণতির তোয়াক্কা করেনি বিন্দুমাত্র। আগের অভিজ্ঞতা এর কারণ হতে পারে। তার মনে হয়েছিল, আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হলেও, আদালত শেষ পর্যন্ত কিছু করবে না। গোটা ঘটনায় যেভাবে জনরোষ আছড়ে পড়ে তা নিয়ে বিচারক সালুঙ্খে বলেন, “সব ক্ষেত্রের হাজার হাজার মানুষ মুম্বই-বেঙ্গালুরু জাতীয় সড়কে নেমে আসেন শিশুটির দেহ নিয়ে। অপরাধীর নাগাল পেতে চাইছিলেন তাঁর। তাঁরা হাতেনাতে বিচার করতে চাইছিলেন। আইন-তদন্তকারী সংস্থার উপর আস্থা রাখতে পারছিলেন না।” সেই জন্য সকলকে ধন্যবাদ জানান তিনি। এই ধরনের অপরাধের ক্ষেত্রে মৃত্যুদণ্ডও যথেষ্ট বলে হয় না, এমন মন্তব্যও করেন বিচারক সালুঙ্খে।
তবে দায়রা আদালত এই সাজা ঘোষণা করেছে। মামলাটি উচ্চ আদালতে যায় কি না, বয়সজনিত কারণে অপরাধীর সাজায় কাটছাঁট হয় কি না, সে ক্ষমাপ্রার্থনা করে কি না, তা সময়ই বলবে। সর্বত্র আবেদন খারিজ হলে, মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করা যাবে। তিন-তিনটি মৃত্যুদণ্ডের সাজা অর্থাৎ পৃথক অপরাধের জন্য পৃথক পৃথক সাজা। এক্ষেত্রে তিনটিতেই মৃত্যুদণ্ডের সাজা শোনানো হয়েছে।
Haridevpur News: হরিদেবপুর নির্যাতনকাণ্ডে গ্রেফতার মূল অভিযুক্ত দেবাংশু বিশ্বাস
