পুণে: নারীদের দেশের ‘সবচেয়ে বড় সম্পদ’ বলে উল্লেখ করলেন লোকসভার বিরোধী দলনেতা রাহুল গাঁধী। এমনকি দেশের ভবিষ্যৎ গড়ার ক্ষেত্রে পুরুষদের চেয়ে নারীদের এগিয়ে রাখলেন তিনি। ‘মনুস্মৃতি’তে নারীদের যেভাবে বর্ণনা করা হয়েছে, তার সঙ্গে যে একেবারেই একমত তিনি, পরিষ্কার জানিয়ে দিলেন। দেশের নারীদের বার্তা দিয়ে বললেন, ‘নারীর নিজের জীবনের উপর একমাত্র তাঁরই অধিকার কায়েম থাকা উচিত।’ (Rahul Gandhi on Patriarchy)
‘ছাত্রোঁ কি গুঞ্জ’ কর্মসূচির চতুর্থতম সমাবেশের আয়োজন হয়েছিল মহারাষ্ট্রের পুণে-র AISSMS কলেজে। সেখানে রাহুলকে দেখতে, তাঁর বক্তৃতা শুনতে ভিড় উপচে পড়ে শনিবার। আর সেখানেি নারীর ক্ষমতায়নের পক্ষে সওয়াল করেন রাহুল। ‘মনুস্মৃতি’ এবং ভারতীয় সমাজের চিরাচরিত ধ্যান ধারণাকে একেবারেই সমর্থন করেন না বলে জানান। (Rahul Gandhi)
নারী স্বাধীনতার কথা বলতে গিয়ে ‘মনুস্মৃতি’র উল্লেখ করেন রাহুল। বলেন, “মনুস্মৃতিতে বলা আছে শৈশবে মেয়েরা বাবার দায়িত্ব, যৌবনকালে স্বামীর, স্বামীর মৃত্যুর পর এবং বার্ধক্য়ে পুত্রসন্তানের। নারী কখনও স্বাধীন বা স্বতন্ত্র থাকতে পারে না। এই ধরনের ভাবনা অত্যন্ত লজ্জাজনক, কখনও উচ্চারণ করাই উচিত নয়।”
এর পর নিজের অবস্থান জানাতে রাহুল বলেন, “মেয়েদের অবশ্যই স্বাধীন থাকা উচিত, নিজের জন্য কথা বলা উচিত, নিজের উপর আস্থা রাখা উচিত। মেয়েদের বলব, আপনাদের উপর কারও অধিকার, নিয়ন্ত্রণ থাকা উচিত নয়। নিজের উপর অধিকার শুধুমাত্র আপনারই।”
আরও পড়ুন: ‘ককরোচ জনতা পার্টি’র অভিজিৎ দীপকের বিরুদ্ধে FIR দায়ের, একাধিক অপরাধমূলক ধারায় মামলা
২০২৬ সালে এসেও কর্মক্ষেত্রে মহিলাদের কী ভাবে হেনস্থা হতে হয়, সম্পত্তির অধিকার পেতে কত লড়াই করতে হয়, সেকথাও তুলে ধরেন রাহুল। পিতৃতান্ত্রিক সমাজব্যবস্থা, পিতৃতান্ত্রিক মানসিকতা নিয়ে প্রশ্ন তোলেন তিনি। ‘ককরোচ জনতা পার্টি’র ডাকা আন্দোলনে মেয়েদের কটু কথা নিয়ে প্রশ্ন তুলছেন যাঁরা, ছেলেদের কটু কথা বলা নিয়ে কেন আপত্তি নেই তাঁদের, সেই প্রশ্নও তোলেন।
যন্তর মন্তরের আন্দোলন প্রসঙ্গে রাহুল বলেন, “ছেলেরা গালিগালাজ করলে, সমস্যা নেই। মেয়েরা করলেই দেশের সংস্কৃতি ক্ষুণ্ণ হয়।” রাষ্ট্রীয় স্বয়ম সেবক সঙ্ঘের প্রধান মোহন ভাগবতের একটি মন্তব্য তুলে ধরেন রাহুল, যেখানে ভাগবত বলেছিলেন, “শহুরে India-তে পশ্চিমি জীবনযাপনের দরুণ ঘন ঘন ধর্ষণের ঘটনা ঘটে। কিন্তু বুনিয়াদি, গ্রামীণ ভারতে কদাচিৎই ওই ধরনের ঘটনা ঘটে।” হরিয়ানার প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী মনোহরলাল খট্টার ৮০ শতাংশ ধর্ষণের ক্ষেত্রে যেভাবে মেয়েদের দায়ী করেছিলেন, সেই প্রসঙ্গও পাড়েন কংগ্রেস সাংসদ রাহুল। বলেন, “এ কেমন মানসিকতা? মেয়েদের খাঁচায় বন্দি করে রাখো, তাদের নিয়ন্ত্রণে রাখো, তাদের কাজ করতে দিও না, অথচ ছেলেদের সব স্বাধীনতা থাকবে। ছেলেরা চাইলে গালিগালাজ করতে পারে, যা ইচ্ছে করতে পারে। এমন ভারত চাই ননা আমরা। দেশের মেয়েরাই দেশের শক্তি, দেশের ভিত্তি এবং ভবিষ্যৎ। পিতৃতন্ত্র দমন করে, ভীতি প্রদর্শন করে, হুমকি দেয়, নিয়ন্ত্রণ কায়েম করে। একজোট হয়ে পিতৃতন্ত্রকে গুঁড়িয়ে দিতে হবে আমাদের। ভেঙে গুঁড়িয়ে দিন পিতৃতন্ত্রকে। সোজা কথা বলব, বি লাউড, বি প্রাউড, ফাইট ফর ইওর স্পেস ইন সোসাইটি।”
মেয়েদের উপর তিন ধরনের হিংসার কথাও বলতে শোনা যায় রাহুলকে—শারীরিক সহিংসতা, বঞ্চিত করে রাখার মাধ্যমে সহিংসতা এবং অর্থনৈতিক সহিংসতা। এখনও যেভাবে কন্যাভ্রূণ হত্যা চলছে, মেয়েদের উপর শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন, ধর্ষণ চলছে, তার তীব্র নিন্দা করেন। রাহুল জানান, সামাজিক ছুঁতমার্গের দরুণ ৯০ শতাংশ ক্ষেত্রেই যৌন নির্যাতনের অভিযোগ জমা পড়ে না।
Serampore Fire Incident : শ্রীরামপুরের একটি আবাসনে আগুন । কীভাবে লাগল আগুন ? ABP Ananda Live
