Stock Market Crash : মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধ, ২ দিনে ভারতের শেয়ার বাজার থেকে উধাও ৯.৭ লক্ষ কোটি টাকা


US Israel Iran War : পড়েই চলেছে ভারতের শেয়ার বাজার। মাত্র দুটি ট্রেডিং সেশনে বিপুল ধসের সাক্ষী থাকল ইন্ডিয়ান স্টক মার্কেট। ইরান, ইজরায়েল ও আমেরিকার মধ্যে বাড়তে থাকা সংঘাতের রক্তচক্ষু এবার সরাসরি আঘাত হানল ভারতের শেয়ার বাজারে। বুধবার যুদ্ধের এই অস্থিরতা মার্কেটে বড় ধস নামানোর পাশাপাশি টাকার মূল্যকেও ইতিহাসের সর্বনিম্ন স্তরে নামিয়ে দিয়েছে।

বাজারে হাহাকার, উধাও ৯.৭ লক্ষ কোটি টাকা
গত দুটি ট্রেডিং সেশনে ভারতের শেয়ার বাজার রক্তাক্ত হয়েছে। বিএসই (BSE) তালিকাভুক্ত সংস্থাগুলির মোট বাজার মূলধন (Market Cap) সোমবারের ৪৫৬.১৭ লক্ষ কোটি টাকা থেকে কমে দাঁড়িয়েছে ৪৪৬.৪৭ লক্ষ কোটি টাকায়। অর্থাৎ মাত্র ৪৮ ঘণ্টায় বিনিয়োগকারীদের পকেট থেকে উধাও হয়ে গিয়েছে প্রায় ৯.৭ লক্ষ কোটি টাকা।

ভারতীয় টাকা তলানিতে
বুধবার সকালেই মার্কিন ডলারের বিপরীতে ভারতীয় মুদ্রার দাম ৬৮ পয়সা কমে ৯২.১৭ টাকায় দাঁড়ায়। এই প্রথমবার ভারতীয় টাকা ৯২-এর ঐতিহাসিক গণ্ডি অতিক্রম করল। এর আগে ২০২৬ সালের জানুয়ারিতে টাকার দাম ৯১.৯৯ থেকে ৯২.০২-এর কাছাকাছি পৌঁছেছিল, যা আজকের পতন সব রেকর্ড ভেঙে দিয়েছে।

বাজারের বর্তমান চিত্র:
Sensex: ১,৭১০ পয়েন্ট পড়ে পৌঁছেছে ৭৮,৫২৯-এ (গত বছরের এপ্রিলের পর সর্বনিম্ন)।

কেন এই রক্তক্ষরণ ? 
মূল কারণসমূহ
তেলের দাম বৃদ্ধি: ভারত তার প্রয়োজনীয় অপরিশোধিত তেলের ৮০ শতাংশেরও বেশি আমদানি করে। ইরান-ইজরায়েল যুদ্ধের আশঙ্কায় ব্রেন্ট ক্রুড অয়েলের দাম ব্যারেল প্রতি ৮২.৫ ডলারে উঠে গিয়েছে।

হরমুজ প্রণালী নিয়ে আতঙ্ক: বিশ্ব বাণিজ্যের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ এই রুটটি যুদ্ধের কারণে অবরুদ্ধ হওয়ার আশঙ্কায় জ্বালানি সরবরাহে টান পড়ার ভয় তৈরি হয়েছে।

বিদেশি মূলধন বাজার থেকে চলে যাওয়া : বিশ্ববাজারে অস্থিরতা বাড়লে বিদেশি বিনিয়োগকারীরা উদীয়মান বাজার (যেমন ভারত) থেকে টাকা তুলে নিতে শুরু করেন, যা শেয়ার বাজারে ধস নামাচ্ছে।

বিশেষজ্ঞদের মতামত
জিওজিৎ ইনভেস্টমেন্ট লিমিটেডের প্রধান বিনিয়োগ কৌশলবিদ ভি কে বিজয়কুমার জানান:
“ভারতের জন্য আসল চিন্তার কারণ হল মুদ্রাস্ফীতি। তেলের দাম বাড়লে দেশের আমদানি খরচ বাড়বে, যা সরাসরি সাধারণ মানুষের পকেটে টান দেবে ও দেশের অর্থনৈতিক বৃদ্ধিকে ধীর করে দিতে পারে।”

একদিকে যুদ্ধের মেঘ, অন্যদিকে তেলের অস্বাভাবিক দাম— এই সাঁড়াশি চাপে ভারতের অর্থনীতি এখন কঠিন পরীক্ষার মুখে। যদি এই সংঘাত দীর্ঘস্থায়ী হয়, তবে টাকার দাম আরও পড়ার এবং মুদ্রাস্ফীতি চরমে পৌঁছানোর সম্ভাবনা প্রবল।

( মনে রাখবেন : এখানে প্রদত্ত তথ্য শুধুমাত্র তথ্যের উদ্দেশ্যে দেওয়া হয়েছে। এখানে উল্লেখ করা জরুরি যে, বাজারে বিনিয়োগ করা ঝুঁকি সাপেক্ষ। বিনিয়োগকারী হিসাবে অর্থ বিনিয়োগ করার আগে সর্বদা একজন বিশেষজ্ঞের সঙ্গে পরামর্শ করুন। ABPLive.com কখনও কাউকে এখানে অর্থ বিনিয়োগ করার পরামর্শ দেয় না। এখানে কেবল শিক্ষার উদ্দেশ্যে এই শেয়ার মার্কেট সম্পর্কিত খবর দেওয়া হয়। কোনও শেয়ার সম্পর্কে আমরা কল বা টিপ দিই না। )



Source link

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *