কলকাতা: রাখি বন্ধন উৎসব উপলক্ষ্যে ভবানীপুরে যান মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। শুক্রবার তাঁর বিধানসভা কেন্দ্র ভবানীপুরের আম্বেদকর কলোনিতে রাখি বন্ধন উৎসবের সূচনা করেন। কলকাতা পুরসভার উদ্যোগে আয়োজিত এই অনুষ্ঠানে তিনি একটি ভ্রাম্যমাণ রাখি ট্যাবলোরও উদ্বোধন করেন। মা-বোনেদের হাত থেকে রাখিও পরেন। আর এরপর এই সভার মঞ্চ থেকে বিরোধীদের কড়া ভাষায় আক্রমণ করেন তিনি। মুখ্যমন্ত্রী বলেন, দেশের ভিতরে থেকে যাঁরা দেশপ্রেম, জাতীয়তাবাদ, বন্দে মাতরম ও জনগণমন অধিনায়ক-কে আক্রমণ করেন, তাঁদের ধীরে ধীরে পরিষ্কার করে দেওয়া হবে।
রাখি বন্ধন উৎসবকে পশ্চিমবঙ্গ সরকার দেশপ্রেমের বন্ধন হিসেবে ঘোষণা করেছে। মোট ৪০০০ কর্মসূচি পালিত হয়েছে রাজ্যে।’ ‘আমরা কয়েক কোটি মানুষকে এই উৎসবে সামিল করতে পেরেছি।’ ‘তাই এবারের রাখি বন্ধনের উৎসব ভাই-বোনের সম্পৃক্ততা বৃদ্ধি, ধর্মীয় মাহাত্ব, তার সঙ্গে দেশপ্রেমের বন্ধন আরও গভীর হোক, আরও অটুট হোক। খুব প্রয়োজন ভারত মাতাকে শক্তিশালী করা। দেশের বাইরেতো শত্রুরা আছেই, দেশের ভেতর থেকে, যখন দেখি কলকাতার রাস্তায় আজাদী আজাদী, কিসের আজাদী ? আমাদের স্বাধীনতা সংগ্রামীদের ত্যাগ, নেতাজি সুভাষচন্দ্রের লড়াই, মাতঙ্গিনী হাজরাদের বলিদান। আর আপনি কলকাতার রাস্তায় লিখবেন কাশ্মীর মাঙ্গে আজাদী লিখবেন।’ এরপর তিনি যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয় প্রসঙ্গ টেনে বলেন, ”সেন্টার ফর এক্সেলেন্স, যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়। সেখানে কলাবিভাগের দেওয়ালে লিখবেন রেড স্যালুট কিষেনজি? কী শেখাচ্ছেন নতুন প্রজন্মকে?”
মুখ্যমন্ত্রী কিষেনজির প্রসঙ্গ তুলে বলেন, ”এই কিষেনজি কে? যিনি বলেন ভোট দিতে হবে না, ভোট বয়কট করো। যিনি বলেন সংবিধান পুড়িয়ে দাও, যিনি বলেন ভারতকে আবার ভাগ করব। আর আপনি সেন্টার ফর এক্সেলেন্স-এর দেওয়ালে লিখবেন স্যালুট ফর কিষেনজি ?” ”বন্দেমাতরমে আপত্তি কেন ? এটা তো কোনও রাজনৈতিক নেতা লেখেননি। সাহিত্য সম্রাট লিখে গিয়েছেন। এতে তো আপত্তি থাকার কথা নয়।” তিনি এই প্রসঙ্গে আরও বলেন যে, ‘দেশের বাইরে যাঁরা শত্রু আছেন, তাঁদের তো আমাদের ক্ষমতা বুঝিয়েছি, ভবিষ্যতেও বোঝাব।’ ‘কিন্তু দেশের ভিতরে থেকে যাঁরা দেশপ্রেম, জাতীয়তাবাদ, বন্দে মাতরম…জনগণমন অধিনায়ক-কে আক্রমণ করেন, তাঁদেরও আস্তে আস্তে বাড়ির আবর্জনা পরিষ্কার করার মত পরিষ্কার করার শপথ নিতে হবে।’
পরবর্তীতে যাদবপুরের একটি অনুষ্ঠান থেকেও এই প্রসঙ্গে মুখ খোলেন তিনি। তিনি বলেন, “যাদবপুরে বিদেশি প্রভাব যুক্ত কমিউনিস্টদের রাজত্ব ছিল। যাদের বাড়িতে রবীন্দ্রনাথ, শরৎচন্দ্র, বঙ্কিমচন্দ্রের ছবি থাকত না। যারা একসময় নেতাজি, কবিগুরুকেও আক্রমণ করেছিল। তারা যাদবপুরের তো সেন্টার অফ এক্সেলেন্সে একটা মানসিকতা তৈরি করেছিল। যে মানসিকতায় স্বাধীনতা দিবস, দেশপ্রেম, রাষ্ট্রবাদ, বাঙালি পরম্পরা। এই পরম্পরা থেকে বিচ্যুতি ঘটিয়েছিল বামেরা, পরে জামাতিদের শাসন। তাদের কাছে উর্দুকে দ্বিতীয় ভাষা হিসেবে স্বীকৃতি দেওয়াই ছিল এজেন্ডা”
Agnimitra Paul | ‘দেখেই রেগে গেছিলাম, ভেবেচিন্তে কথা বলিনি’, পার্ক স্ট্রিটের ঘটনায় অগ্নিমিত্রা
