কলকাতা: রাজনীতিতে সবই সম্ভব। পশ্চিমবঙ্গের রাজনীতি ফের হাতে ধরে দেখিয়ে দিল। মমতা বন্দ্যোপাধ্য়ায়ের দীর্ঘদিনের ছায়াসঙ্গী মদন মিত্র এবার ‘কালীঘাট তৃণমূল’ ছাড়লেন। দলের সব পদ ছেড়ে ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়ের শিবিরে যোগ দিলেন মদন। কিন্তু কেন মমতার হাত ছাড়লেন মদন? সরাসরি কিছু না বললেও, ঠারেঠোরে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের দিকেই ইঙ্গিত দিলেন তিনি। বললেন, “একটা লোকের জন্য় সর্বনাশ হল।” (Madan Mitra)
মদন শিবির বদল করতে পারেন বলে গতকাল থেকেই জল্পনা তুঙ্গে। বিশেষ করে পুরসভা নিয়োগ দুর্নীতি মামলায় মদনের স্ত্রী এবং দুই ছেলেকে ইডি তলব করার পর থেকে। একদিন আগেই সন্দীপন সাহার সঙ্গে দেখা করেন মদন। বুধবার সকালে নিজে গাড়ি চালিয়ে বেরোন বাড়ি থেকে। সটান বিধানসভায় পৌঁছে যান। ঢুকে যান ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়ের ঘরে। আর সেখানে ঋতব্রতর পাশে বসেই ‘কাবীঘাট তৃণমূলে’র সব পদ ছাড়ার ঘোষণা করেন মদন। (TMC News)
আরও পড়ুন: তৃণমূলের সব পদ ছেড়ে দিলেন মদন মিত্র, ঋতব্রতর পাশে বসেই ঘোষণা, শোনালের কবিতাও
কিন্তু এত দশক পর হঠাৎ মমতার হাত ছাড়ার সিদ্ধান্ত কেন? মদন জানান, বিপর্যয়ের পর মমতকাকে অনুরোধ করেছিলেন অভিষেককে সরাতে, নতুন ভাবে তৃণমূলকে পরিচালিত করতে, তৃণমূলকে ঘুরিয়ে দাঁড় করাতে। কিন্তু মমতা সেই কথায় কর্ণপাত করেননি। তাই এই পদক্ষেপ করতে বাধ্য হলেন তিনি। মদন জানিয়েছেন, সেনাপতি দলকে ভুল রাস্তায় নিয়ে গেলে সেখানে কারও কিছু করার নেই। এদিন মদন বলেন, “জীবন-মরণ, সাঁকোর সামনে বয়স এখন দাঁড়িয়ে, এখন তোমায় বুঝতে হবে, কী হবে, আর কী হবে না। কোন সাঁকোটা পারাপারের, কোন সাঁকোটা পার হবে না। জীবনের এই মুহূর্তটায় এসে আমি দাঁড়িয়েছি। এটা ঠিক যে আমি তৃণমূলের বিধায়ক। কিন্তু তৃণমূলের বিধায়ক নই শুধু, আমি বাংলার বিধায়ক। বিধানসভার সদস্য। তৃণমূলের সব ছেড়ে দিলাম মানে দলের বিধায়ক নই। যত পদ ছিল না, কলাপাতায় লিখে দেওয়া পদ। সব ছেড়ে দিলাম। দুঃখের বিষয় যখন ইতিহাস লেখা হবে বাংলার এই সময় নিয়ে, লেখা হবে যে, একটা লোকের জন্য গোটা দল, যারা ২১৩টি আসন পেয়েছিল, তাদের সর্বনাশ হয়ে যায়।”
আরও পড়ুন: কেন সরিয়ে নেওয়া হল দিলজিতের ‘সতলুজ’? সরকারের তরফ থেকে কী জানানো হল?
“কালীঘাট তৃণমূল” ছাড়লেও মমতার বিরুদ্ধে ক্ষোভ নেই বলে জানিয়ে দেন মদন। বরং মমতা তাঁকে যা দিয়েছেন, তার জন্য ধন্যবাদ জানান। এমনকি তিনি জেলে থাকার সময় মমতা যেভাবে রাস্তায় নেমেছিলেন, তাও স্মরণ করেন। মদন জানান, মমতার কাছে ক্ষমা চেয়ে নিয়েছেন তিনি। এদিন মদন বলেন, “আমি মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে সম্মান জানিয়ে, ধন্যবাদ জানিয়ে…দীর্ঘদিন তিনি আমাদের পাশে থেকেছেন, আমরাও চেষ্টা করেছি কমবেশি করার। আজ এই মুহূর্ত থেকে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের তৃণমূল কংগ্রেসের ন্যাশনাল কমিটির চিফ হুইপ, ওয়র্কিং কমিটি, পার্টির জেনারেল সেক্রেটারি থেকে সব পদ থেকে ইস্তফা দিলাম আমি। আমাকে আজ থেকে…আমি তৃণমূলে ছিলাম, তৃণমূলেই রইলাম। শুধু আমি এই ঘর থেকে ওই ঘরে গেলাম। ওই ঘরে হয়ত একটা সুখের পালঙ্ক ছিল। এই ঘরে হয়ত খাটিয়ে রয়েছে একটা। আমি খাটিয়ার দিকটাই বেছে নিলাম।” মদন জানিয়েছেন, ‘ঋতব্রত-তৃণমূল’কে বেশি প্রাসঙ্গিক মনে হয়েছে তাঁর। তাই সেই শিবিরেই যোগ দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন।
