কলকাতা : “নন্দীগ্রামের মানুষকে আগামী পাঁচ বছর বুঝতে দেব না যে তাঁদের বিধায়ক শুভেন্দু অধিকারী নন।” বিধায়ক হিসাবে শপথ নেওয়ার পর এমনই মন্তব্য করলেন শুভেন্দু অধিকারী। বিধানসভায় বুধবার ভবানীপুরের বিধায়ক হিসেবে শপথ নিয়েছেন তিনি। পরে শুভেন্দু বলেন, “আমি দুই জায়গার বিধায়ক হিসাবে তো শপথ নিতে পারি না। ভবানীপুর থেকে শপথ নিলাম মানে, আমাকে সংবিধান আইন অনুযায়ী নন্দীগ্রামটা ছাড়তে হবে। ছাড়লেও আমি নন্দীগ্রামের মানুষকে কথা দিতে পারি, ২০০৯-এর ৫ জানুয়ারি ফিরোজা বিবিকে জেতানোর পর থেকে আমি এমএলএ ছিলাম না, কিন্তু আমি নন্দীগ্রামের সব দেখাশোনা করেছি। এখানেও একজন প্রতিনিধি থাকবেন বা তাঁকে নন্দীগ্রামের মানুষ নির্বাচিত করবেন। নন্দীগ্রামে বিধায়কের পরিষেবা থেকে শুরু করে আমি নির্বাচনী চলাকালীন যে সমস্ত উন্নয়নের প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলাম, আমি অন্য এলাকার উন্নয়নের সঙ্গে সঙ্গে নন্দীগ্রামে দেওয়া আমার কথাও আমি কার্যকর করব। নন্দীগ্রামের মানুষকে আগামী পাঁচ বছর বুঝতে দেব না যে তাঁদের বিধায়ক শুভেন্দু অধিকারী নন।”
নন্দীগ্রামের পর ভবানীপুর কেন্দ্রে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে হারিয়েছেন। সেই শুভেন্দু অধিকারীই এবার রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী। ভোটের ফল প্রকাশের পরের দিনই নন্দীগ্রামে গিয়ে একগুচ্ছ আশ্বাসও দিয়েছেন তিনি। তাঁর থেকে প্রত্যাশাও কয়েক গুণ বেড়ে গেছে নন্দীগ্রামবাসীর। শিক্ষা থেকে স্বাস্থ্য, এখন দিন বদলের স্বপ্ন কবে বাস্তব রূপ নেয়, সেটাই দেখার।
নন্দীগ্রাম আর শুভেন্দু অধিকারী, সেই ২০০৭ সাল থেকেই দু’টো নাম ওতপ্রোতভাবে জড়িত। যা আরও গাঢ় হয় ২০২১-এ নন্দীগ্রাম থেকে শুভেন্দু অধিকারীর জয়ের পর। সেই ধারা বজায় থেকেছে ২০২৬-এও। পরপর দুই বার, শুভেন্দু অধিকারীকে ঢেলে ভোট দিয়েছে নন্দীগ্রাম। সেই শুভেন্দু অধিকারীই এবার রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী। তাই তাঁর থেকে প্রত্যাশাও কয়েক গুণ বেড়ে গেছে নন্দীগ্রামবাসীর।
ভোটের ফল প্রকাশের পরের দিনই নন্দীগ্রামে যান শুভেন্দু অধিকারী। দিয়েছেন অনেক আশ্বাস। তিনি বলেছেন, “হলদিয়া-নন্দীগ্রাম জুড়ে দেব ব্রিজ করে। মহিষাদল-তেরপেখ্যা-নন্দীগ্রাম জুড়ে দেব। সোনাচূড়াতে ITI-টা ফিরিয়ে এনে করে দেব। নন্দীগ্রাম ১-এ যাতে দু’বার ধান করে দেবে, ব্যবস্থা করে দেব। এই হাসপাতালটাকে এমন বানাব যাতে রেফার না করতে হয়।” এর পাশাপাশি নন্দীগ্রামের বেশিরভাগ জমি এক ফসলি। অর্থাৎ বছরে মাত্র একবারই সেখানে চাষ করা যায়। ভোটে জয়ী হয়ে, সেই কৃষি নিয়েও যে় বার্তা দিয়েছেন শুভেন্দু অধিকারী, তাতে আস্থা রাখছেন নন্দীগ্রামে চাষিরা।
