সন্দীপ সরকার, কলকাতা : একসঙ্গে ১১টি ব্লাড ব্যাঙ্কের উপর নিষেধাজ্ঞা জারি করল স্বাস্থ্য ভবন। ভিনরাজ্যে রক্ত পাচারকাণ্ডের তদন্তে নজিরবিহীন পদক্ষেপ স্বাস্থ্য ভবনের। তালিকায় কলকাতার নামী কর্পোরেট হাসপাতালও। ভিনরাজ্যে রক্ত পাচারকাণ্ডের তদন্তে নজিরবিহীন পদক্ষেপ করল স্বাস্থ্য ভবন। তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত কোনও রক্তদান শিবির থেকে রক্ত সংগ্রহ করতে পারবে না এই ১১টি ব্লাড ব্যাঙ্ক। সেই সঙ্গে রাজ্যের কোথাও একল্পতে অনেক ইউনিট রক্ত পাঠাতে চাইলে, স্বাস্থ্য দফতর থেকে নিতে হবে আগাম অনুমতি। শুধুমাত্র ব্লাড ব্যাঙ্কে এসে কেউ রক্ত দিতে চাইলে, তা নেওয়া যাবে।
যাদের ওপর স্বাস্থ্য ভবনের নিষেধাজ্ঞা জারি করেছে তারা হল- সোনারপুরের ইস্পাত কো-অপারেটিভ হাসপাতাল ব্লাড সেন্টার, এন্টালির লাইফ কেয়ার ব্লাড সেন্টার, যোধপুর পার্কের অশোক ল্যাবরেটরি ব্লাড সেন্টার, আলিপুরের কোঠারি মেডিক্যাল ব্লাড সেন্টার, পদ্মপুকুরের হেলথ পয়েন্ট হাসপাতাল ব্লাড সেন্টার। এই তালিকায় রয়েছে বেলেঘাটার ওম ব্লাড সেন্টার, হাওড়ার HMC রোটারি ব্লাড সেন্টার, কৃষ্ণনগরের ইনস্টিটিউট অব মেডিক্যাল সায়েন্সেস ব্লাড সেন্টার, রায়গঞ্জের উপশম ওম ব্লাড সেন্টার, পূর্ব বর্ধমানের টেরিজা ওম ব্লাড সেন্টার, ও রানিগঞ্জ ইনস্টিটিউট অব মেডিক্যাল সায়েন্সেস ব্লাড সেন্টার।
উইকেন্ডে স্বস্তি মিললেও বৃষ্টি আরও বাড়বে দক্ষিণবঙ্গের জেলাগুলিতে, কেমন থাকবে উত্তরের আবহাওয়া ?
স্বাস্থ্য ভবনকে অন্ধকারে রেখে ভিনরাজ্যে রক্ত বিক্রি করে কোটি কোটি টাকার মুনাফার অভিযোগ উঠল কোঠারি ব্লাড ব্যাঙ্কের বিরুদ্ধে। গত সোমবার কলকাতার অন্যতম ওই কর্পোরেট হাসপাতালের ব্লাড ব্যাঙ্কে অভিযান চালায় স্বাস্থ্য দফতরের টিম। বাজেয়াপ্ত করা হয় রক্ত বিক্রি সংক্রান্ত যাবতীয় নথি। স্বাস্থ্য দফতর সূত্রে খবর, চলতি বছরের জানুয়ারি থেকে জুলাই এই ৭ মাসে বিভিন্ন রক্তদান শিবির থেকে মোট ৪২ হাজার ৩৬৭ ইউনিট ব্লাড কালেকশন করেছে কোঠারি। যা তার নিজস্ব হাসপাতালের চাহিদার থেকে অনেক গুণ বেশি। অভিযোগ, এর মধ্যে ৪টি ওষুধ কোম্পানিকে গত ৭ মাসে মোট ৩৫ হাজার ১২৫ ইউনিট প্লাজমা বিক্রি করেছে কোঠারি, যার বাজারমূল্য সাড়ে ৩ কোটি টাকারও বেশি। এনিয়ে যাবতীয় রিকুইজিশন কপি চেয়েছে স্বাস্থ্য ভবন। সূত্রের খবর, যাচাই হচ্ছে সব রেকর্ড। স্বাস্থ্য ভবনের সন্দেহ, বাড়তি প্লাজমার জন্য বেশি ব্লাড কালেকশন করা হয়েছে ক্যাম্প থেকে। তবে কোঠারি ব্লাড ব্যাঙ্কের তরফে দাবি করা হয়েছে প্লাজমা বিক্রি করলেও, রাজ্যের বাইরে বিক্রি করা হয়নি লোহিত রক্তকণিকা। স্বাস্থ্য ভবন জানিয়েছে, যতদিন না এই সংক্রান্ত তদন্ত শেষ হচ্ছে, ততদিন পর্যন্ত কোঠারির ওপর রক্তদান শিবির থেকে রক্ত কালেকশনের ওপর জারি থাকবে সরকারি নিষেধাজ্ঞা। স্বাস্থ্য দফতরের এই পদক্ষেপের বিষয় কোনও মন্তব্য করতে চাইনি কোঠারি কর্তৃপক্ষ।
