নিউ ইয়র্ক: সপ্তাহখানেক পার হয়ে গিয়েছে, জমে উঠেছে বিশ্বকাপের গ্রুপ পর্বের লড়াই। গতকাল দক্ষিণ কোরিয়াকে হারিয়ে প্রথম দল হিসাবে এবারের বিশ্বকাপের নক আউটে পৌঁছে গিয়েছিল মেক্সিকো। এবার আরও এক আয়োজক দেশ যুক্তরাষ্ট্রও রাউন্ড অফ ৩২-এ কোয়ালিফাই করে গেল। অস্ট্রেলিয়াকে ২-০ গোলে হারাল তারা। অপরদিকে, স্কটল্যান্ডের বিরুদ্ধে ইসমায়েল সায়বারির গোলে টানটান ম্য়াচে জয় পেল মরক্কো।
প্রথম ম্যাচে প্যারাগুয়েকে ৪-১ গোলে দুরমুশ করেছিল যুকরাষ্ট্র। এদিন মরিসিও পচেত্তিনোর প্রশিক্ষণাধীন দলের হয়ে তারকা ক্রিশ্চিয়ান পুলিসিচ অনুপস্থিত থাকলেও, দলের পারফরম্যান্সে তার প্রভাব পড়েনি। গত ম্যাচে জোড়া গোল করা ফোলারিন ব্যালগুন এদিন গোল না করলেও, প্রথম গোলে তাঁর অবদান ছিল। যুক্তরাষ্ট্র ফরোয়ার্ডের কাটব্যাক থেকেই ১১ মিনিটের মাথায় বল নিজের জালে জড়িয়ে দেন অস্ট্রেলিয়ার ডিফেন্ডার ক্যামেরুন বারগেস। এই নিয়ে বিশ্বকাপের ইতিহাসে পঞ্চমবার যুক্তরাষ্ট্রের হয়ে আত্মঘাতী গোল করল কেউ। ফ্রান্স ছাড়া বিশ্বকাপের ইতিহাসে আর কোনও দল এত আত্মঘাতী গোলের লাভ পায়নি।
ম্যাচে যুক্তরাষ্ট্রের দ্বিতীয় গোলটি অবশ্য আত্মঘাতী নয়, আসে অ্যালেক্স ফ্রিম্যানের মারফত। এক কর্নার থেকে সার্জিনিও ডেস্টের শট হেড করে নিজের দলকে দুই গোলে এগিয়ে দেন আমেরিকান ফুলব্যাক। প্রাথমিকভাবে অফসাইডে গোল বাতিল করা হলেও, ভিএআরের বদান্যতায় সিদ্ধান্ত বদলানো হয়। অজ়ি কোচ টনি পপোভিচ এই গোল নিয়ে রেফারির বিরুদ্ধে ম্যাচ শেষে নিজের ক্ষোভও উগরে দেন। ম্যাচে ফিরতে মরিয়া সকারুজ়রা দ্বিতীয়ার্ধে বেশ কিছু বদল ঘটায়। তবে তেমন কোনও বড় সুযোগই তৈরি করতে পারেননি তাঁরা। ফলে অস্ট্রেলিয়াকে এই ম্যাচ ২-০ গোলে হারতেই হয়।
আরও পড়ুন:- ৬২ প্রয়াসে শূন্য গোল, বিশ্বকাপ থেকে ছিটকেই গেল তুর্কি, ১০ জনের মরিয়া লড়াইয়ে জয় প্যারাগুয়ের
অপরদিকে, মরক্কো নিজেদের ম্যাচের একেবারে শুরুতেই ৭০ সেকেন্ডের মাথায় স্কটিশদের বিরুদ্ধে এগিয়ে যায়। ব্রাহিম ডিয়াজ়ের নিখুঁত পাস থেকে বল পায়ে পেয়ে জোরাল শটে স্কটল্যান্ডের গোলরক্ষক অ্যাঙ্গাস গানকে পরাজিত করেন সায়বারি। প্রথমার্ধে আর তেমন কোনও বড় সুযোগ তৈরি হয়নি। তবে ম্য়াচের দ্বিতীয়ার্ধে অ্যান্ডি রবার্টসনের স্কটিশ দল একেবারে তালে তাল মিলিয়ে লড়াই করে। দুই দলই একাধিক গোলের সুযোগ তৈরি করে। সায়বারি তো আরেকটু হলেই দ্বিতীয় গোলও করে ফেলছিলেন। তবে এল খানুসের তৈরি করা মুভ থেকে মারা তাঁর শট বারে লেগে ফিরে আসে। এল খানুস নিজেও কর্নার থেকে বড় গোলের সুযোগ হাতছাড়া করেন।
ম্যাচে ফিরতে মরিয়া স্কটল্যান্ডও আক্রমণের ঝাঁঝ বাড়ায়। বেন ডোক, স্কট ম্যাকটমেনি, জন ম্য়াগ্গিনরা পরের পর আক্রমণ গড়ে তোলে। তবে মরক্কোর জমাটি রক্ষণ, তা প্রতিহত করতে সক্ষম হয়। ম্যাচে বিশ্বকাপে কোনও আফ্রিকান দেশের হয়ে সর্বাধিক ৬০১টি পাস করে ইতিহাস গড়ে মরক্কো এবং শেষমেশ ১-০ গোলে তাঁরাই জয়ের হাসি হাসে।
FIFA World Cup 2026: ফুটবল বিশ্বকাপে এবার ‘স্মার্ট বল’ Trionda, এই বল নিয়ে কেন এত মাতামাতি?
