নয়াদিল্লি : যন্তর মন্তরে অবস্থান অব্যাহত ককরোচ জনতা পার্টির। রাতারাতি জড়ো হলেন আরও অনেক সমর্থক। তাঁদের আন্দোলনের প্রতি সহানুভূতিশীলদের পাঠানো খাবার ও অন্যান্য সামগ্রী গ্রহণ করেছেন স্বেচ্ছাসেবকরা। প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষায় অনিয়মের অভিযোগকে কেন্দ্র করে গড়ে ওঠা এই আন্দোলন দ্বিতীয় মাসে গড়িয়েছে। এই প্রেক্ষাপটে বুধবার সকালে এক্স হ্যান্ডেলে করা এক পোস্টে CJP-র তরফে লেখা হয়েছে, ‘আজ সকালে হাজার হাজার বিক্ষোভকারী যন্তর মন্তরে উপস্থিত হয়েছেন। ধর্মেন্দ্র প্রধান কখন পদত্যাগ করছেন ?’ ওই পোস্টে প্রশ্ন তোলা হয়, ‘ভারতের যুবসমাজের চেয়ে ‘মন্ত্রী প্রধান’-কে প্রধানমন্ত্রী কেন বেশি ভালবাসেন ?’
July 22 at 8:30 AM – Jantar Mantar
Thousands and thousands of protesters are at Jantar Mantar this morning. When is Dharmendra Pradhan Mantri resigning?
Why does the Pradhan Mantri ❤️ the Mantri Pradhan more than India’s youth? pic.twitter.com/itE3hjQqUQ
— Cockroach is Back (@Cockroachisback) July 22, 2026
যন্তর মন্তরে যেহেতু একে একে বহু সমর্থক জড়ো হন, তাই মঙ্গলবার রাতে আন্দোলনস্থলে খাবার পাঠান অনেকে। সোমবার CJP-র ‘সংসদ চলো’ মিছিলে পুলিশের কঠোর পদক্ষেপের পর ওই এলাকায় ব্যাপক নিরাপত্তার ব্যবস্থা করা হয়েছে। এই পরিস্থিতিতে বিক্ষোভকারীরা তাঁদের অবস্থান কর্মসূচি চালিয়ে যাচ্ছেন। সিজেপি-র মুখপাত্র আশুতোষ রাঙ্কা বলেছেন, “প্রধান পদত্যাগ না করা পর্যন্ত এই আন্দোলন চলতে থাকবে। ধর্মেন্দ্র প্রধান পদত্যাগ না করা পর্যন্ত আমরা এই স্থান ত্যাগ করব না। ২০ জুলাই ভারতের রাজনৈতিক ইতিহাসে—বিশেষ করে স্বাধীনতা-পরবর্তী ভারতে—একটি মাইলফলক হয়ে থাকবে। যুবসমাজ আর চুপ করে বসে থাকবে না।”
এদিকে CJP-র প্রতিষ্ঠাতা অভিজিৎ ডিপকে স্পষ্ট করে দিয়েছেন যে, যন্তর মন্তর ছাড়া অন্য কোথাও কোনও জমায়েতের ডাক তাঁরা দেননি। এক বিবৃতিতে ডিপকে বলেন, “ককরোচ জনতা পার্টি (Cockroach Janta Party) যন্তর মন্তর—যেখানে আমাদের শান্তিপূর্ণ প্রতিবাদ চলছে—তা ছাড়া অন্য কোথাও জড়ো হওয়ার কোনও ডাক দেয়নি।” তিনি অভিযোগ করেন যে, তাঁদের কাছে খবর এসেছে—গোলযোগ সৃষ্টির উদ্দেশে দিল্লির অন্যান্য এলাকায় হয়তো কিছু দুষ্কৃতীকে পাঠানো হয়েছে। তিনি আরও বলেন, “এরা সিজেপি-র সঙ্গে যুক্ত নয়।”
পরীক্ষা সংক্রান্ত অনিয়মের অভিযোগে জবাবদিহিতা, শিক্ষা ব্যবস্থায় সংস্কার এবং প্রধানের পদত্যাগের দাবিতে গত ২০ জুন এই আন্দোলন শুরু হয়। ২৮ জুন এই বিক্ষোভে যোগ দেওয়া এবং তখন থেকেই অনির্দিষ্টকালের অনশন পালনকারী সমাজকর্মী সোনম ওয়াংচুক—দিল্লি হাইকোর্টের নির্দেশে সফদরজং হাসপাতাল থেকে মেদান্ত হাসপাতালে স্থানান্তরিত হওয়ার পরেও তাঁর অনশন চালিয়ে যাচ্ছেন। ওয়াংচুক জানিয়েছেন, শিক্ষা ব্যবস্থায় জবাবদিহিতা নিশ্চিত না হওয়া পর্যন্ত অথবা রাজনৈতিক নেতারা সংসদে বিষয়টি উত্থাপনের বিষয়ে তাঁকে আশ্বস্ত না করা পর্যন্ত তিনি এই অনশন অব্যাহত রাখবেন।
