সন্দীপ সরকার, কলকাতা : যোধপুর পার্কের অশোক ব্লাড ব্যাঙ্ক নিয়ে সামনে এল চাঞ্চল্যকর তথ্য। চলতি বছরে জানুয়ারি থেকে জুন পর্যন্ত ২ কোটি টাকার রক্ত বিক্রি করার অভিযোগ উঠেছে শহর কলকাতার এই ব্লাড ব্যাঙ্কের বিরুদ্ধে। অভিযোগ, বিহার এবং উত্তরপ্রদেশে এই বিপুল পরিমাণ মূল্যের রক্ত বিক্রি করেছে অশোক ব্লাড ব্যাঙ্ক। বিক্রি হওয়া রক্তের মধ্যে আছে ৩ হাজার ২৬২ ইউনিট লোহিত রক্তকণিকা, যার আনুমানিক বাজার মূল্য প্রায় ৩৩ লাখ টাকা। ৫টি বহুজাতিক সংস্থাকে বিক্রি করা হয়েছে প্রায় ৩ হাজার লিটার প্লাজমা, যার বাজার মূল্য ১ কোটি ৬৫ লক্ষ টাকা। স্বাস্থ্য ভবনের নির্দেশ অনুসারে, আপাতত কোনও রক্তদান শিবির থেকে রক্ত সংগ্রহ করতে পারবে না অশোক ব্লাড ব্যাঙ্ক।
পার্কের বাইরে রেলিংয়ে ফাঁস দেওয়া যুবকের দেহ ! সাতসকালে দমদম পার্কে হাড়হিম দৃশ্য
ব্লাড ব্যাঙ্কের তরফে রক্তদান শিবিরে ডাক্তার পরিচয়ে যাদেরকে নিয়ে যাওয়া হয়েছিল, তারা সকলেই MBBS পড়ুয়া বলে স্বাস্থ্য ভবন সূত্রে খবর। এমনকী, SSKM-এর দ্বিতীয় বর্ষের কয়েকজন পড়ুয়াকে ডাক্তার সাজিয়ে নিয়ে যাওয়া হয়েছিল রক্তদান শিবিরে, এমন অভিযোগও উঠেছে। স্বাস্থ্য ভবনের নির্দেশ, আপাতত কোনও রক্তদান শিবির থেকে রক্ত সংগ্রহ করতে পারবে না এই ব্লাড ব্যাঙ্কটি। এর আগে পদ্মপুকুরের হেলথ পয়েন্ট ব্লাড ব্যাঙ্কের বিরুদ্ধে ৬ কোটি টাকার রক্ত ও প্লাজমা বিক্রির অভিযোগ ওঠে। তার তদন্তে দায়ের হয়েছে FIR, আলাদা তদন্ত করছে স্বাস্থ্যভবনও।
সম্প্রতি রক্তের স্টক মেলাতে গিয়ে চোখ কপালে উঠেছে স্বাস্থ্য কর্তাদের। ভিনরাজ্যে বিক্রি করা হয়েছে ১ কোটি ৬৯ লক্ষ টাকার PRBC বা Packed Red Blood Cells. ৪ কোটি ১৫ লক্ষ টাকার ভিনরাজ্যে বিক্রি করা হয়েছে FFP বা Fresh Frozen Plasma. সরকারকে অন্ধকারে রেখে, বেসরকারি ব্লাড ব্যাংক থেকে কোটি কোটি টাকায় ভিন রাজ্যে ‘পাচার’ হয়ে যাচ্ছে রক্ত এবং প্লাজমা। স্বাস্থ্য দফতরের তদন্তে উঠে এল এমনই চাঞ্চল্যকর তথ্য। অথচ, প্রয়োজনের সময় জীবনদায়ি রক্ত পাচ্ছেন না রোগীরা। সরকারি হোক, বা বেসরকারি, ব্লাড ব্যাঙ্কে গেলেই শোনা যাচ্ছে একটাই কথা – ডোনার আনলে, মিলবে রক্ত। রক্তদান শিবির থেকে রক্ত বিক্রি, আর তা যাচ্ছে উত্তরপ্রদেশ, ঝাড়খন্ড, বিহারে। ‘রক্ত পাচারের কারবারে যুক্ত অন্তত ৭টি বেসরকারি ব্লাড ব্যাঙ্ক’, স্বাস্থ্য দফতরের তদন্তে উঠে এসেছে এমনই চাঞ্চল্যকর তথ্য।
