নয়াদিল্লি: বছর ঘুরলেই বিধানসভা নির্বাচন উত্তরপ্রদেশে। তার আগে বড় ঘোষণা যোগী আদিত্যনাথ সরকারের। ‘তিল তালাক’ এবং অ্যাসিড আক্রান্ত মহিলাদের চিহ্নিত করার কাজ শুরু হল সেখানে। তাঁদের মাথার উপর ছাদ গড়ে দেওয়া হবে। পাশাপাশি, স্বাস্থ্যবিমার আওতায় আনা হবে পীড়িত মহিলাদের। (Uttar Pradesh Assembly Elections 2027)
উত্তরপ্রদেশ সরকার এবং কেন্দ্রীয় সরকারের জনকল্যাণমূলক প্রকল্পের আওতায় ‘তিন তালাক’ এবং অ্যাসিড হামলার শিকার মহিলাদের বাড়ি দেওয়া হবে। স্বাস্থ্যবিমার আওতায় আনা হবে চিহ্নিত মহিলাদের। রাজ্যের মহিলা কল্যাণ বিভাগের আধিকারিকরা জানিয়েছেন, মুখ্যমন্ত্রী যোগীর নির্দেশে কাজ শুরু হয়েছে। প্রধানমন্ত্রী আবাস যোজনা অথবা মুখ্যমন্ত্রী আবাস যোজনার আওতায় বাড়ি দেওয়া হবে। আয়ুষ্মান ভারত প্রধানমন্ত্রী জন আরোগ্য যোজনা এবং মুখ্যমন্ত্রী জন আরোগ্য যোজনার আওতায় দেওয়া হবে স্বাস্থ্যবিমা। (Yogi Adityanath)
যোগীর নির্দেশমতো জেলাভিত্তিক তথ্য সংগ্রহের কাজ শুরু হয়ে গিয়েছে উত্তরপ্রদেশে। আগামী দিনে অসহায় মহিলাদেরও এই প্রকল্পের অন্তর্ভুক্ত করা হতে পারে বলে খবর। কারা সরকারি প্রকল্পে বাড়ি এবং স্বাস্থ্য বিমা পাবেন, যোগ্যতার মাপকাঠি কী হবে, কী ভাবে বাড়িবণ্টনের কাজ শুরু হবে, কোন প্রক্রিয়ায় মিলবে স্বাস্থ্য বিমা, শীঘ্র সেই নিয়ে বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ হতে চলেছে, শর্তাবলী ঠিক করা হচ্ছে বলে খবর।
আরও পড়ুন: মমতার ডাকা বৈঠক থেকেই ক্ষোভের সূচনা? কেন এই বিদ্রোহ? জবাব দিলেন তৃণমূল সাংসদ শতাব্দী রায়
২০১৭ সালে সুপ্রিম কোর্ট মুসলিমদের মধ্যে প্রচলিত ‘তিল তালাক’কে ‘অসাংবিধানিক’ ঘোষণা করে। তার পরও ‘তিল তালাকে’র অবসান ঘটেনি বলে দাবি করে, ২০১৯ সালে সংসদে ‘দ্য মুসলিম উইমেন (প্রোটেকশন অফ রাইটস অন ম্যারেজ’ আইন চালু করে কেন্দ্রের নরেন্দ্র মোদি সরকার। নয়া আইনে মৌখিক, লিখিত অথবা বৈদ্যুতিন মাধ্যমে, ‘তিন তালাক’কে সম্পূর্ণ রূপে নিষিদ্ধ এবং বাতিল ঘোষণা করা হয়। সেটি জামিনযোগ্য অপরাধ হিসেবেও গণ্য হয়, যার জন্য সর্বোচ্চ তিন বছরের কারাবাস এবং জরিমানার বিধানও রয়েছে।
আরও পড়ুন: এই চাকরিই আর থাকবে না? ভবিষ্যদ্বাণী করলেন ইলন মাস্ক, জানালেন ২০২৬ সালেই আয়ু শেষ
এবার ‘তিন তালাক’ পীড়িত মহিলাদের মাথার উপর ছাদ গড়ে দিতে উদ্যোগী হল উত্তরপ্রদেশের বিজেপি সরকার। লখনউ সূত্রে খবর, আইনি সুরক্ষার গণ্ডির বাইরে সমস্ত নারীর সামাজিক এবং অর্থনৈতিক পুনর্বাসনই লক্ষ্য যোগী সরকারের, যাঁদের অর্থনৈতিক সংস্থান নেই, দাম্পত্যজনিত সমস্যার জেরে ছাদ নেই মাথার উপর।
অন্য দিকে, সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশ অনুযায়ী এবং রাজ্যের আইন অনুযায়ী, উত্তরপ্রদেশে উন্মুক্ত বাজারে অ্যাসিড বিক্রি নিষিদ্ধ। ভেন্ডরদের লাইসেন্স থাকা বাধ্যতামূলক। কেউ অ্যাসিড কিনতে হলে পরিচয়পত্র দেখানো জরুরি। দোকানদারকে সেই পরিচয় নথিবদ্ধও রাখতে হয়। কিন্তু বাস্তবে আজও দেদার খোলা বাজারে অ্যাসিড বিক্রি চলছে, যার তার হাতে তা পৌঁছেও যাচ্ছে। ২০২৩ সালে উত্তরপ্রদেশ থেকে ৩১টি অ্যাসিড হামলার ঘটনা সামনে আসে। ন্যাশনাল ক্রাইম রেকর্ডস ব্যুরোর পরিসংখ্যান বলছে, অ্যাসিড হামলার তথ্য দেওয়ার ক্ষেত্রে দু’বছর পিছিয়ে থাকে রাজ্য। সুপ্রিম কোর্ট জানিয়েছে, উত্তরপ্রদেশ থেকে ১৯৮টি অ্যাসিড হামলার মামলার নিষ্পত্তি হয়নি এখনও।
